আমার অধিকার ক্যাম্পেইন আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেছেন, জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ এর আলোকে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণে প্রয়োজন দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গিকার এবং পর্যাপ্ত অর্থায়ন। যদিও সবাই মুখে বলে থাকেন যে, শিক্ষা খাত খুবই গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু খুব কমক্ষেত্রেই তা রাজনৈতিক অগ্রাধিকার পাচ্ছে এবং এর জন্য যে পরিমাণ অর্থায়ন হওয়া দরকার তা হচ্ছে না।
গতকাল শনিবার সিরডাপ মিলনায়তনে ‘প্রাথমিক শিক্ষায় বাজেট বরাদ্দ: ২০১৩-২০১৪, আমার অধিকারের অগ্রাধিকার’ শীর্ষক এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
আমার অধিকার এর চেয়ারপার্সন ড. নিলুফার বানুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির সদস্য অধ্যাপক কাজী ফারুক আহমেদ, অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়ার রিসার্চ ফেলো ড. প্রতিমা পাল মজুমদার, সিরাজুদ দাহার খান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, শিক্ষায় অধিকার ও গুণগত শিক্ষার লক্ষ্য অর্জনে রাষ্ট্র ও সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকারই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আবশ্যক। সবার জন্য শিক্ষার লক্ষ্য অর্জনে সকল চ্যালেঞ্জের ঐক্যসূত্র বা মূল উত্স হচ্ছে অর্থায়ন। প্রাথমিক শিক্ষায় নিছক ভর্তিবৃদ্ধি নয়: গুণগত মান চাই, আর মানসম্মত শিক্ষার জন্য চাই, মানসম্পন্ন শিক্ষক। শিক্ষা খাতের বাজেটে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বা মানবৃদ্ধির তেমন কোনো সুযোগ বা উদ্যোগ থাকে না। বিগত বাজেটে শিক্ষায় বরাদ্দকৃত মোট অর্থের ৬৮ শতাংশ রাজস্ব খাতে ব্যয় করার কথা বলা হয়েছে। অথচ, এই বিশাল অংকের অতি নগণ্য একটি অংশ (মাত্র ০.৫ শতাংশ) শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও মানোন্নয়নের জন্য রাখা হয়েছে।
বক্তারা আরো বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ বিষয়ক ধারণাপত্রে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা প্রশাসনে ও জনমনে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে বিশেষ উদ্বেগ বিদ্যমান। আবার এখনও লাখ লাখ শিশু স্কুলবঞ্চিত।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের উন্নয়নের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত পরিকল্পনা এবং তা বাস্তবায়নের জন্য একটি টেকসই অর্থায়ন কাঠামো তৈরি করা। এছাড়া সবার জন্য শিক্ষার লক্ষ্য অর্জনের জন্য সরকারকে অবশ্যই জাতীয় বাজেটের কমপক্ষে ২০ শতাংশ ও জিডিপি’র ৬ শতাংশ ব্যয় বরাদ্দ করা প্রয়োজন।
