গতকাল রাজধানীতে ‘খাদ্য অধিকার আইন-এর প্রয়োজনীয়তা ও বিভিন্ন দিক’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেছেন, জাতীয় খাদ্যনীতি এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না হওয়ায় এসবের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কোনো বিষয়ে আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলে তার বাস্তবায়নও ত্বরান্বিত হয়। প্রয়োজনে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইনি প্রক্রিয়ায় এর প্রতিকার চাইতে পারে। তাই জনগণের খাদ্য প্রাপ্তির বিষয়টিকে ‘অধিকার’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে খাদ্য অধিকার আইন প্রণীত হলে তা বাস্তবায়নে রাষ্ট্রের বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে ‘দারিদ্র্য বিরোধী মঞ্চ’।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ড. মোস্তফা কে মুজেরী, পরিকল্পনা কমিশনের অর্থনীতি বিভাগের সদস্য অধ্যাপক ড. শামসুল আলম ও অক্সফ্যামের পলিসি এন্ড এডভোকেসি ডিপার্টমেন্টের ম্যানেজার মনীষা বিশ্বাস।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা ও প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ‘দারিদ্র্য বিরোধী মঞ্চ’-এর আহ্বায়ক ও ওয়েভ ফাউন্ডেশন এর নির্বাহী পরিচালক মহসিন আলী। মানুষের খাদ্যের অধিকারকে মানবাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, বিদ্যমান বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার কারণেই স্বাধীনতার ৪২ বছর পরও আমাদের খাদ্যের অধিকার নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে। রাষ্ট্র এটিকে অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিলে একজন নাগরিক এ বিষয়ে রাষ্ট্রের কী উদ্যোগ রয়েছে সে সম্পর্কে জানতে চাইতে পারবেন। রাষ্ট্রকে প্রশ্ন করতে পারবেন। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে রাজনীতিবিদদের পদক্ষেপ নিতে হবে। সে উদ্দেশ্যে দারিদ্র্য বিরোধী মঞ্চের কাছে বর্তমান সরকারের মেয়াদে আগামী চারমাসের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান।
ড. মোস্তফা কে মুজেরী বলেন, আমরা এখনও দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারিনি। তাই খাদ্য অধিকারকে বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদেরকে অধিকার ভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গিতে নীতি, আইন ও কার্যক্রমগুলোকে এগিয়ে নিতে হবে।
অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেন, আমাদের জাতীয় বাজেটের একটি বড় অংশ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা সমস্যা রয়ে গেছে। একইভাবে আমাদের অনেক ভালো ভালো নীতি থাকলেও তার বাস্তবায়ন নেই। এক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংগঠনগুলোর ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ।
মনীষা বিশ্বাস ভারত, নেপালসহ প্রায় ২৪টি দেশে খাদ্য অধিকারের আইনি স্বীকৃতির উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের মতো একটি দারিদ্র্যপ্রবণ দেশে খাদ্য প্রাপ্তির বিষয়টি মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে সাংবিধানিক ও আইনি স্বীকৃতি প্রদানের কোনো বিকল্প নেই। তিনি রাষ্ট্রের পাশাপাশি গণমাধ্যমকেও এক্ষেত্রে যথাযথ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
