সতীনের মতো না দেখে বন্ধুর মতো দেখুন

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০১৩, ২৩:১১
দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় বিশিষ্টজনেরা বলেছেন, দেশে কার্যকর কোনো নেতৃত্ব না থাকার কারণেই জাতি আজ বিভক্ত হয়ে পড়েছে। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বিরাজমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নাগরিক ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক এই আলোচনার আয়োজন করে সুশাসনের জন্য নাগরিক - সুজন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে নির্বাচনকালীন সরকারে কারা থাকবেন, তা নির্ধারণের জন্য একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেয়া হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক উল হক, বুদ্ধিজীবী সৈয়দ আবুল মকসুদ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এ এস এম শাহজাহান, বিএনপি নেতা লে. জেনারেল (অব) মাহবুবুর রহমান, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান ডা: জাফরউল্লাহ চৌধুরী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক রওনক জাহান, আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, বিএনপি নেতা ইনাম আহমেদ চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা সরদার আমজাদ হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, সাংবাদিক গোলাম মোর্তজা প্রমুখ। লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে ব্যারিস্টার রফিক উল হক বলেন, দুই নেত্রীর কাছে আমার অনুরোধ, সতীনের মতো না দেখে একে অপরকে বন্ধুর মতো দেখুন। মতামতের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ব্যক্তিগত সম্পর্ক স্থাপন করুন। কোনো অনুষ্ঠানে গেলে একজন আরেকজনের দিকে তাকান না, এটা খুবই লজ্জার কথা। দেশের মানুষ আজ একটি অর্থপূর্ণ নির্বাচন আশা করে। আর বেশির ভাগ লোকই নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়। তিনি বলেন, একই ব্যক্তি দু’বারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না- সংবিধানে এমন ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা গেলে দেশ থেকে হানাহানি অনেকাংশেই বন্ধ হয়ে যাবে। সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, অধিকাংশ মানুষ যেমন স্বাধীনতার সুখ উপভোগ করতে চায়, তেমনি এক শ্রেণীর কিছু সংখ্যক মানুষ পরাধীনতার সুখও উপভোগ করতে ভালবাসে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা এখন তাদেরই খপ্পরে পড়েছি। তিনি বলেন, দেশে যখন কোনো সত্যিকার নেতা থাকেন না তখন চেতনার দিক দিয়ে দেশ বিভক্ত হয়ে যায়। সেখানে সঠিক বিচার ব্যবস্থা এবং আইনের শাসন থাকে না। আজ আমরা সে রকম অবস্থার মধ্যে পড়েছি। ডা: জাফরউল্লাহ চৌধুরী বলেন, জাতি হিসাবে আজ আমরা প্রচন্ড ক্ষমতালোভী চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছি। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে নাগরিকদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে জেগে উঠতে হবে। তা না হলে আরও খারাপ পরিস্থিতি আমাদের গ্রাস করবে। ড. আসিফ নজরুল বলেন, দেশের বর্তমান সংকট তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে ঘিরে। এই ব্যবস্থা পুনর্বহাল করা হলে বিএনপি এই ইস্যুতে আন্দোলন করতে পারত না। তখন স্বতঃস্ফূর্তভাবে আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ করতে পারত। কিন্তু এখন বিএনপির পুরো আন্দোলনকেই সরকার যুদ্ধাপরাধের বিচার বাঞ্চালের চেষ্টা হিসাবে প্রচার করছে। তিনি বলেন, প্রত্যেকটি পদক্ষেপের মধ্যেই যদি সরকারের নিজস্ব ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটে তাহলে বিরাজমান এই সংকট কাটবে না। আর মূলধারার দুই দলের সমঝোতার ভিত্তিতে যদি দেশ পরিচালনা করা হয় তাহলে কোনো অশুভ শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। লিখিত বক্তব্যে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারে কে বা কারা থাকবেন তা নির্ধারণের জন্য অবসরপ্রাপ্ত সাবেক প্রধান বিচারপতিদের দিয়ে একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা যেতে পারে, যাদের কাজ হবে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নির্ধারণ ও বাকি দশজন উপদেষ্টা পদের জন্য ১৫ জনের নাম প্রস্তাব করা। সেখান থেকে ১০ জনকে বেছে নেয়া হবে। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দলকে নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠার জনদাবির বিষয়ে একমত হতে হবে। এ ব্যাপারে টিআইবির প্রস্তাবের ভিত্তিতে আলোচনা হতে পারে।