শিল্পী তার আপন মহিমায় ফুটিয়ে তোলেন শিল্পকে। এখানে মাধ্যম হয় কখনও ক্যানভাস, কখনও মাটি আবার কখনও কাপড়। কিন্তু কেমন হয়, যদি এই শিল্প মাধ্যম হয় আপনার ডাইনিংয়ে সাজিয়ে রাখা চায়ের কাপ কিংবা ট্রে। ঠিক তাই। চীনামাটিকে শিল্পীর পট করে গড়ে উঠা শিল্পকে আমরা সিরামিকস শিল্প হিসেবেই চিনি। মূলত আমাদের চলমান জীবনে ব্যবহূত বিভিন্ন পণ্যে একটু নান্দনিকতার ছোঁয়া আনতেই এ ধরনের সিরামিকসের প্রবর্তন। এই শিল্পের সাথে জড়িত এই প্রজন্মের তেমনই কয়েকজন মেধাবীদের নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন। পুরো আয়োজনটি দেখুন পরের পৃষ্ঠায়। আয়োজনটি গ্রন্থনা এবং সম্পাদনা করেছেন রিয়াদ খন্দকার ও সাজেদুল ইসলাম শুভ্র
ই র ফা ন উ দ্দি ন রি ফা ত
ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ফার সিরামিকস লিমিটেড
বাংলাদেশের অন্য শিল্পের মতো সিরামিক শিল্প প্রাথমিকভাবে কিছুটা ধীরে প্রসার পেলেও পরবর্তী সময়ে এর বিকাশ খুব দ্রুতই হতে থাকে। বর্তমানে বছরে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে সিরামিক শিল্প এগিয়ে যাচ্ছে। পূরণ করছে আভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক চাহিদা। সুলভ প্রাকৃতিক গ্যাস ও শ্রমের মূল্য কম হওয়াই এই শিল্পের সাফল্যের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন শিল্পোদ্যোক্তরা। আর এই যাত্রায় দেশে কাজ করে যাচ্ছে বেশ কিছু উদ্যোক্তা। বাবার হাত ধরে ব্যবসায় আসা রিফাতের নেতৃত্বে এগিয়ে চলেছে বিকাশমান সিরামিকস নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ফার সিরামিকস লিমিটেড। তরুণ এই তুর্কীর সিরামিকের জগতে আসা ২০১১ সালে, বাবা তখন ফার সিরামিকসের চেয়ারম্যান। ২০১২ সালে বাবা প্রয়াত হওয়ার পরপরই তিনি দায়িত্ব পান ব্যবস্থাপনা পরিচালকের।
ইরফান উদ্দিন রিফাত শোনাচ্ছিলেন ফার সিরামিকসের শুরুর কথা। কারখানা চালুর পর দুই বছরে এ সিরামিকের পোরসেলিন সামগ্রী দেশের রফতানি আয়ে ২০ শতাংশ অবদান রাখতে সক্ষম হয়। বর্তমানে বিশ্বের ১০টি দেশে রফতানি হচ্ছে ফার সিরামিকসের ক্রোকারিজ সামগ্রী। বৈশ্বিক মন্দা সত্ত্বেও শতভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে সিরামিক খাতের নতুন এ কোম্পানি। তার বাবা বলতেন, ‘আমরা এখন সিরামিক শিল্পে পাঠশালা থেকে স্কুলে উঠেছি। খুব শীঘ্রই স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে যাব।’ রিফাতের মতে, বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশের সিরামিক পণ্যের বিপুল চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ এখন যা রফতানি করছে, তার চাইতেও কয়েক গুণ বেশি পণ্য রফতানির সুযোগ রয়েছে। সেই দিকনির্দেশনা ধরে পথ চলেছেন ইরফান উদ্দিন রিফাত।
রিফাত জানাচ্ছিলেন ফার সিরামিকসের শুরুর কথা, বিগত ২০০৫ সালে ফার সিরামিকস শিল্প স্থাপনের কাজ শুরু হয়। বাণিজ্যিক উত্পাদন শুরু হয়। ২০০৭ সালের মাঝামাঝি ভারতে রফতানির মধ্যদিয়ে এ শিল্পের রফতানি বাণিজ্য শুরু হয়। ২০০৮ সাল থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এ পণ্যের রফতানির বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে। বর্তমানে এ কোম্পানি জার্মানি, ইটালি, পোল্যান্ড, স্পেন, সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স, তুরস্ক, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করছে।’ এ ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ কেমন জানতে চাইলে তিনি জানান, দেশে সিরামিক নিয়ে পড়াশোনার জন্য সরকারি-বেসরকারি কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেই। তবে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব গ্লাস অ্যান্ড সিরামিকসে চার বছর মেয়াদি সিরামিক টেকনোলজি ডিপ্লোমা কোর্স এবং দুই বছর মেয়াদি ট্রেড কোর্স চালু আছে। দেশে বর্তমানে প্রায় দুই শতাধিক সিরামিক কারখানা আছে। এ শিল্পে প্রাথমিক পর্যায়ে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কাজ শুরু করার সুযোগ রয়েছে। কাজে ভালো দক্ষতা দেখাতে পারলে দ্রুত
পদোন্নতি পাওয়া যায়। দেশের বাইরেও রয়েছে কাজ করার সুযোগ। সিরামিক প্রকৌশলীদের জন্য বাংলাদেশ কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (বিসিএসআইআর) এবং বিএসটিআইতেও কাজ ও গবেষণা করার সুযোগ আছে।’
ব্যক্তিজীবনে বেশ বন্ধুবত্সল রিফাত। স্ত্রী বৃষ্টি তার পথচলায় অনুপ্রেরণা দেন সব সময়। তিন ভাইয়ের মাঝে তিনি মেজো। বাবা মারা যাওয়ার পর মা’ই তার তাদের কোম্পানির হাল ধরেছেন শক্ত হাতে। ভবিষ্যতে বাবার স্বপ্ন অনুযায়ী ব্যবসাটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান। তার জন্য শুভ কামনা।
ছবি :দীপঙ্কর দীপু
ইরফান উদ্দিন রিফাত
ডাকনাম :রিফাত
জন্মতারিখ ও স্থান :১৯ নভেম্বর, ঢাকা
মায়ের নাম :খোদেজা ফরহাদ রুহি
বাবার নাম :ইফতেখার উদ্দিন
প্রথম স্কুল :ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়
প্রিয় মানুষ :আমার বাবা
প্রিয় উক্তি :আই হাভ লার্ন্ট অ্যাবাউট লাইফ—ইট গোজ অন
অবসর কাটে যেভাবে :বই পড়ে, মুভি দেখে
সাফল্যের সংজ্ঞা :ন্যায়, সততা আর কর্মনিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাওয়া।
====
সৈ য় দ আ লী আ ব দু ল্লা হ জা মি
ম্যানেজার (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং), স্টার সিরামিকস লিমিটেড
ভবন নির্মাণ কিংবা তৈজসপত্রে সিরামিক ব্যবহারের ইতিহাস হাজার বছরের পুরোনো। তবে সে সময় জাঁকজমক তৈজসপত্র ব্যবহার আর আলিশান অট্টালিকা নির্মাণ করতেন শুধু সমাজপতিরা। সাধারণের হাতের নাগালে সিরামিকের পণ্য আসার গল্প সেদিনের। আর বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে সিরামিকের প্রসার আরও পরে। যদিও ভারতবর্ষে সিরামিকের ব্যবহার ছিল অনেক আগে থেকেই। দেশীয় ঐতিহ্যকে সিরামিকের মাঝে লালন করার মানসিকতা থেকে স্টার সিরামিকের যাত্রা শুরু। এই যাত্রায় শুরু থেকে রয়েছেন সৈয়দ আলী আবদুল্লাহ জামি। স্টার সিরামিকস লিমিটেডের ম্যানেজার (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং) হিসেবে কাজ করছেন তিনি। দীর্ঘদিন দেশের আরেকটি শীর্ষস্থানীয় সিরামিকে কাজ করেছেন এর আগে।
বাংলাদেশের অন্য শিল্পের মতো সিরামিক শিল্প প্রাথমিকভাবে কিছুটা ধীরে প্রসার পেলেও পরবর্তী সময়ে এর বিকাশ খুব দ্রুতই হতে থাকে। বর্তমানে বছরে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে সিরামিক শিল্প এগিয়ে যাচ্ছে। পূরণ করছে আভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক চাহিদা। সুলভ প্রাকৃতিক গ্যাস ও শ্রমের মূল্য কম হওয়াই এই শিল্পের সাফল্যের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন শিল্পোদ্যোক্তরা। আর এ কারণে বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বাংলাদেশে সিরামিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সাফল্য পাওয়া সহজ বলে মনে করছেন জামি।
আলী আব্দুল্লাহ জামী বলেন, আবাসিক ও বাণিজ্যিক—দুই ধরনের ভবনেই ব্যাপক হারে ব্যবহূত হচ্ছে চীনামাটির টাইলস। মূলত সৌন্দর্য বর্ধনের জন্যই এই টাইলস ব্যবহার করা হয়। দেশের সিরামিক কারখানাগুলোয় চীনা মাটির টাইলস তৈরি করতে ব্যবহূত কাঁচামালের বেশির ভাগই আমদানি করতে হয়। সেই মাফিক বিদেশে রফতানিও হচ্ছে সেই রকম। স্টার সিরামিক চায় শুধুই বিলাসী লোকজন নয়, দেশের সাধারণ মানুষও যেন অর্থনৈতিকভাবে সাশ্রয়ী সিরামিক পণ্য পেতে পারে। আর শুরুর দিকে তার জোর দিচ্ছেন স্যানিটারি ফিটিংসের দিকে। ভিন্ন ভাবনায় বের করা বেশ কিছু টাইলস বাজারে পেয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা।
জামী জানালেন পেশা হিসেবে এখানে কাজের অনেক সুযোগ রয়েছে, বাংলাদেশের সিরামিকশিল্প প্রতিনিয়ত ব্যাপক চাহিদাসম্পন্ন হয়ে উঠছে বিভিন্ন দেশে। সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের শ্রমবাজার ও কাঁচামাল সস্তা হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও এই শিল্পে বিনিয়োগ করতে উত্সাহ বোধ করছে। তাই একদিকে পণ্যের ব্যাপক চাহিদাবৃদ্ধি, অন্যদিকে বিনিয়োগ বাড়ায় এই শিল্পে বেড়েছে দক্ষ সিরামিক প্রকৌশলীর চাহিদা। তাই যারা সিরামিকের ওপর পড়াশোনা করে বের হচ্ছেন, তাদের জন্য নিশ্চিত পেশা হয়ে আছে এই শিল্পে।
জামীর ছেলেবেলা কেটেছে ঢাকাতেই। লক্ষ্মীবাজারের বিখ্যাত শাহসাহেবের বাড়ির ছেলে সে। সেই সুবাদে একটা সময় ঢাকা চষে বেড়িয়েছেন ব্যাপক হারে। সেখানেরই সেন্ট গ্রেগরীজ স্কুলে তার পড়াশোনার শুরু আর এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া। এরপর নটরডেম থেকে এইচএসসি দেন তিনি। দেশে কিছুদিন পড়াশোনা করে চলে যান বাহরাইন। সেখান থেকে বিবিএ করে ফেলেন, সুযোগমতো ইংল্যান্ড থেকে এমবিএটাও করে ফেলেছেন। সবমিলিয়ে তার অভিজ্ঞতা আর শিক্ষার্জনের মাত্রা ঈর্ষণীয়। দেশের নানা ঐতিহ্য সিরামিকের মাধ্যমে তুলে ধরতে চান তিনি। তার এই দারুণ উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।
সৈয়দ আলী আবদুল্লাহ জামি
ডাকনামঃ জামি
জন্মতারিখ ও স্থানঃ ৪ ফেব্রুয়ারী
মায়ের নামঃ সৈয়দা মাহেরু সুলতানা
বাবার নামঃ সৈয়দ ওয়াহেদ উল্লাহ
প্রথম স্কুলঃ সেন্ট গ্রেগরীজ হাই স্কুল
প্রিয় উক্তিঃ সত্ থেকো মানুষ হও
প্রিয় পোশাকঃ জিন্স, চেক-শার্ট
প্রিয় মানুষঃ আমার বাবা
অবসর কাটে কীভাবেঃ বাচ্চাদের সাথে
সাফল্যের সঙ্গাঃ কাজ করে যাওয়া
===
তৌ ফি ক হা সা ন
হেড অব ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটিং, শাইনপুকুর সিরামিকস
‘শৈশবের স্বপ্ন ছিল পাইলট হবো, কিংবা সায়েন্টিস্ট; আবার কখনোবা ইচ্ছে হতো নভোচারী হওয়ার। সময় বাড়ার সাথে সাথে বাস্তব এসে ধরা দিল, স্বপ্নদের দিলাম ছুটি। তাই ভেবে রেখেছি আর কোনো নতুন স্বপ্ন দেখব না। যা দেখব তা হবে বাস্তব আর সেটা ভবিষ্যতই বলে দেবে।’ এভাবেই নিজের ভাবনার কথা বলেন তিনি। শুনছেন তৌফিক হাসানের কথা। শাইনপুকুর সিরামিকসের হেড অব ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটিং হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি এখন। মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি আর ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে সুযোগ পান ঢাকা ইউনিভার্সিটির ফার্মেসি অনুষদে। অনার্স ও মাস্টার্স করে যোগ দেন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসে্র মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টে ব্র্যান্ড এক্সিকিউটিভ হিসেবে। সুযোগ হয় অসাধারণ এক পরিবেশে কাজ করার, চাকরিজীবনের হাতেখড়ি হয় মার্কেটিং আর অফিস ব্যবস্থাপনার গুরু রিজভি উল কবিরের সুযোগ্য হাত ধরে।
বিভিন্ন মাধ্যমে কাজ করার সুযোগ হয়েছে তৌফিকের। ২০১০-এর শেষভাগে রবি-র হেড অব নিউ বিজনেস (মার্কেটিং) থাকা অবস্থায় যোগ দেন শাইনপুকুর সিরামিক্স-এ হেড অব ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটিং হিসেবে। শাইনপুকুর মূলত একটি রফতানি-নির্ভর কোম্পানি, যার কাজ আবর্তিত হয় বিশ্বের নেতৃস্থানীয় সিরামিক্স টেবিলওয়্যার ব্র্যান্ডের কন্ট্রাক্টে সুকঠিন মানদণ্ডে পণ্য উত্পাদন আর তা রফতানির মধ্য দিয়ে। এ ক্ষেত্রে তার প্রধান দায়িত্ব হলো এই সকল ব্র্যান্ডধারী উত্পাদন-বিপণনে অভিজ্ঞ ক্রেতাদের কাছে শাইনপুকুরের পণ্যসম্ভার, বৈচিত্র্য আর উত্পাদন দক্ষতার সাথে নিখুঁত পরিচয় করিয়ে দেওয়া, কুশলী যোগাযোগ ও সার্ভিস ধারাবাহিকতার মাধ্যমে তাদের আস্থা অর্জন করা এবং প্রতিটি ক্রেতার চোখে ধীরে ধীরে শাইনপুকুরকে তাদের একমাত্র দীর্ঘস্থায়ী ও বিশ্বস্ত পণ্য উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।
বাংলাদেশে সিরামিক্স টেবিলওয়্যার শিল্প শাইনপুকুরের মতো প্রতিষ্ঠানের হাত ধরে যে পথ পরিক্রমার ভেতর দিয়ে আজকের এই স্থানে এসেছে, তাতে নিঃসন্দেহে বলা যায় যে এটি বর্তমানে বেশ মজবুত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে। তাই তৌফিক হাসান বললেন, ‘আমাদের কাজ তাই এটিকে আরও সমুন্নত করা, সামনের দিকে স্বচ্ছন্দে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া ’
পেশা হিসেবে এটা আমাদের দেশে কতটা জনপ্রিয়—জানতে চাইলে তৌফিক বলেন, ‘সিরামিক্স টেবিলওয়্যার শিল্প বাংলাদেশে এখন নবতর মাত্রায় উত্তীর্ণ হচ্ছে। এটি কোনো ক্রান্তিকাল নয়, বরং সোনালি দিনের হাতছানি। সমগ্র ইউরোপে এখন চলছে বিকল্প উেসর সন্ধান, কারণ অতি সম্প্রতি চাইনিজ পণ্য আমদানির উপর ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন মাত্রাতিরিক্ত শুল্ক ধার্য করার ফলে প্রায় সব ক্রেতাই এখন বিকল্প খুঁজতে মরিয়া। এক্সপোর্ট মার্কেটিং তাই আশার বাণীই শোনাবে, যেখানে পরিশ্রমী, নিষ্ঠাবান একদল এক্সিকিউটিভের খুব প্রয়োজন হয়ে পড়বে। তাই আমি মনে করি পেশা হিসেবে এটা আমাদের দেশে দিন দিন উপযোগী হয়ে উঠছে। তবে কোনো পথই মসৃণ নয়, এটিকে পরিশ্রমের দ্বারা চলনসই করে নিতে হয়—এটাও মনে রাখতে হবে। তৌফিক ছেলেবেলায় বেশ দুরন্ত ছিলেন বলে জানালেন। বিচারক বাবার ছিল বদলির চাকরি, এসএসসি পরীক্ষার আগে পর্যন্ত ছয় স্কুল বদল করতে হয়েছে তাকে। কিন্তু কোথাও ডানপিটেমি কমেনি—স্কুল, কলেজ বা ভার্সিটি কোথাও ক্রিকেট ছাড়া তাকে দেখাও যায়নি। এভাবেই কেটেছে তার শৈশব আর কৈশোর। গৃহিণী স্ত্রী কাজী সায়মা আর এক কন্যা ইসমাতকে নিয়ে পরিবার তার। তাদের নিয়েই তার এখন শুধু সামনের পানে পথচলা।
তৌফিক হাসান
ডাকনাম :সিজার
জন্মতারিখ ও স্থান :২৮ জুন, রাজশাহী।
মায়ের নাম :নাজমা বানু
বাবার নাম :তাহা মোল্লা
প্রথম স্কুল :আঞ্জুমান আদর্শ গভ. হাইস্কুল, নেত্রকোনা
প্রিয় মানুষ :মা-বাবা
প্রিয় উক্তি :সব ভালো তার, শেষ ভালো যার।
প্রিয় পোশাক :শার্ট ও প্যান্ট
অবসর কাটে যেভাবে :মেয়ের সাথে সময় দিয়ে, বই-পত্রিকা পড়ে, টিভি, মুভি দেখে।
সাফল্যের সংজ্ঞা :Sell like hotcakes.
===
জুয়েল সরকার
ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার, আরএকে সিরামিকস
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসায় প্রশাসনে পড়াকালীন সময় থেকেই স্বপ্ন দেখা শুরু কোনো বহুজাতিক কোম্পানিতে কাজ করবেন—ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হওয়ার সাথে সাথেই অটবিতে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। তারপর এনার্জিপ্যাকে দীর্ঘ ৮ বছর কাজ করার পরে আর একে সিরামিক্স (বিডি) লি.-এ যোগ দেন। বলছিলাম প্রজন্মের মেধাবীজন জুয়েল সরকার সম্পর্কে।
তার শৈশব কেটেছে গ্রামে। অনেকগুলো ভাইবোনদের মাঝে বেড়ে ওঠা। বাবা ছিলেন উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, তিনিই ছিলেন জুয়েলের জীবনের আলোকবর্তিকা, প্রথম শিক্ষক, পথ প্রদর্শক। তিনিই শিখিয়েছেন, কীভাবে সত্যিকারের মানুষ হতে হয়। জুয়েলের পরিবারটি আধুনিক, সংস্কৃতিমনা। তার ভাই-বোনদের সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে দেশে-বিদেশে কর্মরত। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন জুয়েল। ছায়ানট থেকে তবলায় তালিম নিয়েছিলেন। চাকরির ফাঁকে এখনও তবলা চর্চা করে থাকেন। সময় সুযোগ পেলে পরিবারের সবাইকে নিয়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
তার কাজ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মূলত ব্র্যান্ড প্রমোশনে সংক্রান্ত যত ধরনের কাজ আছে সবই করতে হয়। আমার পড়াশোনার বিষয় এবং কাজ এক হওয়াতে খুব বেশি বেগ পেতে হয় না। থিউরি তো জানাই ছিল। এখন সেটা প্র্যাকটিক্যাল ফিল্ডে অ্যাপ্লাই করতে হচ্ছে। ব্র্যান্ডকে স্টাবলিশ করার জন্য প্রমোশন ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, সেমিনার, রিলেশনশিপ বিল্ডিং উইথ ক্লাইন্টস, সবই করতে হয়। নিজের স্বাচ্ছন্দ্যবোধের কথা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘আমার এই পেশা আমি খুবই উপভোগ করি। কাজের অনেক চাপ থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন ধরনের মানুষের সাথে সম্পর্ক রেখে কাজ করতে হয় বলে কাজ করতে ভালো লাগে, কাজেরও বৈচিত্র্য আছে। যদিও কাজ থেকে বের হওয়ার সুযোগ কম। মার্কেটিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ হলো ব্র্যান্ডিং। বাংলাদশে বিভিন্ন কোম্পানিগুলোতে আজকাল ব্র্যান্ডিংয়ের উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ক্রেতারাও আজ ব্র্যান্ড সচেতন। ব্র্যান্ডিংয়ের উপযোগিতা দিন দিন বাড়ার ফলে এই পেশারও গুরুত্ব বাড়ছে। বর্তমানে নতুনরা অনেক বেশি উদ্যমী কাজের ব্যাপারে। তারা অনেক বেশি সচেতন ব্র্যান্ডিংয়ের ব্যাপারে। ব্র্যান্ড স্টাবলিশের ব্যাপারে নতুনদের ভূমিকা অগ্রগণ্য। আমি আশাবাদি নতুনরা এই পেশায় অনেক ভালো করবে। যেকোনো পেশায় প্রতিষ্ঠা পেতে চাইলে পরিশ্রমের বিকল্প নেই। সততার সাথে প্রফেশনালি কাজ করলে সাফল্য আসবেই।’
ভবিষ্যতের দিনগুলোতে তার স্বপ্ন বড় কোনো কর্পোরেট বা কোম্পানির হাল ধরা। অর্থাত্ কোনো ন্যাশনাল বা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির প্রধান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান তিনি। এবং সুযোগ পেলে হলে ভবিষ্যতে ব্যবসা করারও ইচ্ছা আছে।
জুয়েল সরকার
ডাকনাম :জুয়েল
জন্ম তারিখ ও স্থান :১ অক্টোবর, শশিকর, মাদারীপুর।
মায়ের নাম :খুকু রানি সরকার
বাবার নাম :তরণী কান্ত সরকার
প্রথম স্কুল :শশিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
প্রিয় মানুষ :বাবা, মা
প্রিয় উক্তি :সবার উপরে মানুষ সত্য।
প্রিয় পোশাক :টি-শার্ট, জিন্স প্যান্ট
অবসর কাটে যেভাবে :প্রিয় মানুষদের সান্নিধ্যে, বই পড়ে, ঘুরে, গান-বাজনা করে।
সাফল্যের সংজ্ঞা :কাজের প্রতি সততা ও নিষ্ঠা থাকলে সাফল্য অনিবার্য।
