প্র জ ন্ম স ং বা দ

কভেন্ট্রি ইউনিভার্সিটিতে মির্জা আকিব ইকবাল

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০১৩, ১৯:৪৫
মির্জা আকিব ইকবাল। মেধাবী এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি ইংল্যান্ডের কভেন্ট্রি ইউনিভার্সিটিতে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স করছেন। ছোটবেলা থেকে আকিবের স্বপ্ন ছিল তিনি বড় হয়ে নামকরা একজন প্রকৌশলী হবেন। তার সে স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। মির্জা আকিব ইকবালের বাবা-মা’ও ছেলের এই অভূতপূর্ব সাফল্যে দারুণভাবে গর্বিত। ছেলে এয়ারক্রাফট মেনটেনেন্স ইঞ্জিনিয়ার বিভিন্ন আলোচনা প্রসঙ্গে তারা গর্বের সাথে ছেলের পরিচয় বলে থাকেন। সেখানে ভর্তি হয়ে আর তাকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। এখন তার কেবল এগিয়ে যাওয়ার সময়। তিনি চাইলেই এখন বড় বেতনে চাকরি নিতে পারে। তিনি জানালেন তার শুরু গল্প, ‘অবশ্য প্রথম দিকে এইচএসসি পাস করে কোথায় কীভাবে এই কোর্স সম্পন্ন করব তা নিয়ে বেশ চিন্তিত ছিলাম। এর পর জানতে পারলাম উত্তরায় এগার নম্বর সেক্টরের দুই নম্বর রোডে চৌদ্দ নম্বর প্লটে অবস্থিত ক্যাটেকে এই বিষয়ে পড়ালেখার সুযোগ রয়েছে। সেখানে ভর্তি হওয়ার পর আমাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। উচ্চশিক্ষার জন্য ভিসা নিয়ে চলে এলাম ইংল্যান্ডের কভেন্ট্রি ইউনিভার্সিটিতে। এখন আমার উড়োজাহাজ ইঞ্জিনিয়ার হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। এ ক্ষেত্রে আমাকে সর্বাধিক সহায়তা করেছেন আমার বাবা-মা।’ এ দেশের মেধাবী শিক্ষার্থী মির্জা আকিব ইকবাল তার সাফল্যের গল্প বলতে গিয়ে কথাগুলো বললেন। তিনি বলেন, ‘আমার স্বপ্ন ছিল অল্প খরচে স্বল্প সময়ে এবং সহজে উন্নত বিশ্বে গিয়ে এ ধরনের দামি চাকরির ডিগ্রি অর্জন করব। আমার সে ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। আমি অতি সহজেই ইংল্যান্ডে এসে পড়ার ভিসা পেয়েছি। এ দেশ থেকে সরাসরি এই বিষয়ে পড়ালেখার জন্যে ইংল্যান্ডে যেতে হয়তো ভিসা পাওয়াটা দুরূহ বিষয় ছিল। আর এজন্য শিক্ষা ব্যয়টা হতো ব্যাপক। যা হোক এদেশ থেকে ক্যাটেক সে সুযোগ করে দিয়েছে, যাদের সাথে বিস্তারিত জানা যাবে ৮৯৯১৩৭১ নম্বরে। আমার জব অ্যাটাচমেন্ট নিয়ে চিন্তা করতে হচ্ছে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একজন শিক্ষার্থী এসএসসি অথবা ও-লেভেল পাস করার পর এইচএসসি অথবা এ-লেভেল পাস করতে ২ বছরের অধিক সময় লাগে তারপর বুয়েট কিংবা অন্য কোথাও ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে কমপক্ষে ৪-৫ বছর। অর্থাত্ শিক্ষার্থীকে ৭-৮ বছর সময় দিতে হচ্ছে চাকরি পাওয়ার পূর্বেই এবং সব ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে সেভাবে জব পাওয়া সহজ হয় না। অন্যদিকে একজন শিক্ষার্থী অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে থাকা (ফাইনাল ইয়ার) অবস্থাতেই চাকরির লিখিত নিশ্চয়তা পাবে। অন্যান্য ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার চেয়ে এটির সুযোগ সুবিধা অনেক বেশি। সাধারণ শিক্ষায় যেখানে ৪ বছরে ১০-২০ লক্ষ টাকা দিয়ে পড়াশোনা করেও ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তিত থাকতে হয়, সেখানে এসএসসি বা ও-লেভেলের পর ইউকে সরকার ও জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত ৪ বছরে অনার্স ডিগ্রি করতে পারেন। এই ক্ষেত্রে ১৮ মাস লেভেল-৩ বা এ লেভেল, ১৮ মাস লেভেল-৫ এবং ১ বছর ইউকে-তে কিংসটন ইউনিভার্সিটিতে টপ আপ বিএসসি করতে হবে। কাজেই বিশ্বায়নের যুগে এমন ডিগ্রি অর্জন করার জন্য পরিকল্পনা নেওয়া উচিত, যার বিশ্ব জুড়ে চাহিদা রয়েছে এবং ডিগ্রি অর্জন করে বসে থাকতে না হয়।’ অন্য এক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এমন একটি বিষয়ে যার চাহিদা এবং কারিকুলাম পুরো বিশ্ব জুড়ে একই। চাকরি ছাড়াও এর ক্রেডিট ট্রান্সফার করা যায় যে কোনো দেশে। আর চাকরি ক্ষেত্রে স্যালারি হয় আকাশ ছোঁয়া। অন্যদিকে সামাজিক মর্যাদা, খ্যাতি তো আছেই। যে কারণে এইচএসসি পাস করার পরই এ বিষয়ে ভর্তি হয়েছিলাম। অবশ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে বেশ কিছুদিন সময় লেগেছিল।’