শুধুমাত্র নিজের মেধা এবং প্রচেষ্টার মাধ্যমেই নিজেকে পৌঁছে দিয়েছেন সফলতার শীর্ষে। ছোটবেলায় প্রায় সকলেই জীবনের লক্ষ্য নিয়ে অনেক রচনাই লিখেছেন, সেখান থেকেই হয়তো শুরু জীবনের ছক কষা। কিন্তু তিনি কখনোই নিজেকে এই ছকে ফেলেননি। জীবনকে কখনোই কোনো নির্দিষ্টতায় আটকে ফেলতে চাননি, বরাবরই নিজের ভালো লাগাকেই প্রাধান্য দিয়ে এসেছেন, কাজের মাঝে নিজের তৃপ্তি খুঁজেছেন। বলছিলাম প্রজন্মের সফলজন এক্সপোলঙ্কা গ্রুপ, বাংলাদেশ-এর ডিরেক্টর ফাইন্যান্স এমএইচ খসরু সম্পর্কে। তার সফলতার পেছনের গল্পগুলোই উঠে এসেছে আমাদের এবারের আয়োজনে। তাকে নিয়ে লিখেছেন রিয়াদ খন্দকার
এসএসসি পরীক্ষা পর্যন্ত বিজ্ঞান বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করলেও তারপর এইচএসসি থেকে বিষয় পরিবর্তন করে ব্যবসা শিক্ষা নেন। উচ্চমাধ্যমিক এবং সম্মান শেষ করে এমএইচ খসরু ভর্তি হন চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিংয়ে। তারপর ২০০৩ সালে চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং সম্পন্ন করে নিজের ক্যারিয়ারের দিকে মনোযোগ দিতে দেখা যায় এই তরুণকে। কিন্তু ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং কেন বেছে নিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রথমে এ বিষয়ে উত্সাহ দিয়েছিলেন আমার ভগ্নিপতি। তিনিই আমাকে সব সময় সায়েন্স ছেড়ে কমার্স নিয়ে পড়ার উত্সাহ দিতেন। যার মূলে ছিল চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং শেষ করা। আর আমার দিক থেকে যে বিষয়টা সব সময় কাজ করত তা হলো, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং এমন একটা পেশা যার পড়াশোনার মান আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং মূল্যায়িত। আমাদের দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে সম্মানের সাথে কাজ করে আসছে। দেশেও বিভিন্ন দেশীয় ও বহুজাতিক কর্পোরেট হাউসে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টরা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা প্রয়োগ করার সুযোগ পাচ্ছে। চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের চাকরি না করেও অনুশীলন করার সুযোগ রয়েছে। তা ছাড়া ব্যবসাকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয় বলে ব্যবসাতে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টরা অনেক সফল হতে পারে। আর এ সবকিছু বিবেচনা করেই চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং পেশাটা আমার জীবনের সেরা বাছাই বলে নিয়েছি।’ বর্তমানে সময়ে এই চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট একটা বহুজাতিক কোম্পানিতে ডাইরেক্টর ফাইন্যান্স হিসেবে কর্মরত আছেন। প্রত্যেক পেশাতেই স্বাচ্ছন্দ্য একটা বিরাট বিষয় হয়ে থাকে, সেদিক থেকে একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হয়ে কাজের ক্ষেত্রে কতটুকু স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এবং ফাইন্যান্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ ডিপার্টমেন্টের হেড হিসেবে প্রতিষ্ঠানের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হয়। যার ফলে প্রতিনিয়তই কাজকে উপভোগ করার সুযোগ থাকে। আর সে জন্যই আমার কাজের প্রতিটি ক্ষেত্রেই স্বাচ্ছন্দ্য খুঁজে পাই।’ আমাদের দেশ তথা বিশ্বের সব জায়গাতেই নতুনরা ভিন্নধর্মী পেশার প্রতি অনেক বেশি আগ্রহী হয়ে থাকে। সে হিসেবে চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং পেশার প্রতি বর্তমান প্রজন্মের কেমন আগ্রহ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের আইসিএবি-এর চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট কারিকুলাম সম্পূর্ণভাবে ইংল্যান্ডের আইসিএইডব্লিউ-এর কারিকুলামের সাথে এক করা হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে যদি কোনো ছাত্র-ছাত্রীরা চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং পাস করে, সে এই নতুন নিয়মে ইংল্যান্ডের চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট সার্টিফিকেট প্রাপ্ত হয়। এ ছাড়া মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং পড়ায় উদ্বুদ্ধ করার জন্য অনেক প্রণোদনার ব্যবস্থা আছে। যেহেতু চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং পাস করে একটা ভালো পদবি এবং হ্যান্ডসাম বেতন পাওয়ার মোটামুটি একটা নিশ্চয়তা পাওয়া যায় তার ফলে চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিংয়ের প্রতি মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের ঝোঁক অনেক বেশি বেড়ে যাচ্ছে এ সময়ে।’ নতুনরা অনেক ক্ষেত্রেই অধৈর্য হয়ে পড়ে কাজের মধ্যে আর সে কাজটা যদি অনেক দীর্ঘায়িত হয় তাহলে তো কথাই নেই। তাই চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং করা নতুনদেরকে পরামর্শ দানে এমএইচ খসরু বলেন, ‘নতুন যারা চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং পেশায় আসছে তারা সবাই অনেক বেশি ডেডিকেটেড। নতুনরা খুবই উদ্যমী ও পরিশ্রমী। কিন্তু এসব কিছুর পরও তাদের মধ্যে একটা প্রবণতা দেখা যায় তারা খুব দ্রুত উন্নতি করতে চায়। তাই অনেক ক্ষেত্রেই তাদের আসল উদ্দেশ্য থেকে তারা বিচ্যুত হয়ে পড়ে। তাই নতুনদেরকে আমি বলব তারা যেন একটু ধৈর্য নিয়ে তাদের কর্মকাণ্ডের দিকে এগোয়। একটা কথা মনে রাখতে হবে—সদিচ্ছা, আন্তরিকতা, সামর্থ্য থাকলে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। ময়মনসিংহের গফরগাঁয়ে এই চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের শৈশব ও কৈশোর কেটেছে। তিন ভাই এবং এক বোনের মধ্যে তিনিই সবার ছোট। সবার কাজের মধ্যেই কোনো না কোনো স্বপ্ন লুকিয়ে থাকে তাই ভবিষ্যত্ স্বপ্ন নিয়ে কথা হয় এই চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের সাথে। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে কাজের মধ্য দিয়ে দেশের সেবা করে যাওয়াই আমার এখনকার লক্ষ্য।’
এম এইচ খসরু
ডাকনাম :খসরু
জন্ম তারিখ ও স্থান :১ এপ্রিল ১৯৭৫, ময়মনসিংহ
মায়ের নাম :আম্বিয়া খাতুন
বাবার নাম :মতলব হোসেন
প্রথম স্কুল :বাঁশিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়।
প্রিয় মানুষ :বাবা
প্রিয় উক্তি :কোনো কিছুই অসম্ভব না।
প্রিয় পোশাক :শার্ট ও প্যান্ট
অবসর সময় কাটে যেভাবে :ভ্রমণ করে।
সাফল্যের সংজ্ঞা :আন্তরিকতা, কঠোর পরিশ্রম এবং শক্তিই সাফল্য নিয়ে আসে।
