অনেকগুলো ইঞ্জিনিয়ারিং ক্ষেত্রের ভিড়ে সিরামিক ইঞ্জিনিয়ারিং নিজের মতো করে বেশ ভালো একটা জায়গা করে নিয়েছে। আমাদের দেশসহ সারা বিশ্বে দিনকে দিন বেড়ে চলেছে এই ক্ষেত্রটির চাহিদা। এই পেশার সাথে সম্পৃক্ত তরুণ মেধাবী কয়েকজনকে নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
মে রি রো জ
মেরি রোজ একজন ইঞ্জিনিয়ার। সিরামিক নিয়ে তার পড়াশোনা। তবে ইঞ্জিনিয়ার হলেও নিজেকে তিনি আর্টিস্ট হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করেন। তার বাসায় গেলে অবশ্য সেই ধারণা আরও স্পষ্ট হয়। নিজের হাতে করা সিরামিকের বিভিন্ন ধরনের পটারি তার ঘরের শোকেসে শোভা পায়। তিনি লন্ডনের ডিন স্কুল অব সিরামিক্সে পড়াশোনা করেন। সেখানকার পরিবেশেই তার বেড়ে ওঠা। খুব ছোটবেলায় তিনি ভাবতেন বড় হয়ে ডাক্তার হবেন। কিন্তু বড় হওয়ার সাথে সাথে তার এই চাওয়াটা ম্লান হয়ে যায়। তিনি আর্ট নিয়ে মেতে ওঠেন। পাশাপাশি তার আগ্রহ তৈরি হয় সিরামিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। পরিবার থেকে সাড়াও পেয়ে যান। ব্যস, শুরু করেন তিনি ইঞ্জিনিয়ারিংয়োর পথে যাত্রা।
মি সো রি
কানসাসের ছোট একটা শহর। সেখানকার পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন মিসোরি। তিনি তার বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। সেই সাথে যোগ হয়েছে পরিবারের প্রতি দায়িত্ব কর্তব্য। সব কিছু মিলিয়ে তার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার পথটা খুব একটা সহজ ছিল না। খুব ছোটবেলা থেকেই অনেক পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে জীবনযাপন করতে হয়েছে। বাবা সামান্য বেতনের চাকরি করতেন। প্রথমে তার পরিবার তাকে ফাইন আর্টস নিয়ে পড়াশোনা করতে চাইলেও পরে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি করা হয় তাকে। একটু কষ্ট করতে হলেও এর প্রাপ্যটা তিনি বেশ ভালোই পেয়েছেন। বর্তমানে একজন সফল সিরিমিক টেকনোলজিস্ট হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন।
মে লি য়া রি য়া
অনেকে মনে করেন, সৃজনশীলতা কিংবা গোছানোর মনোভাব থাকলেই হয়ে উঠা যায় একজন সফল সিরামিক ইঞ্জিনিয়ার। কিন্তু ধারণাটি পুরোপুরি সঠিক নয়। কারণ শুধু মনোভাব দিয়েই সফল একজন শিল্পী হয়ে ওঠা যায় না। এর জন্য প্রয়োজন প্রচুর পড়াশোনা। এমন অনেকে ছিলেন, ইকুয়েশন, ক্যালকুলেশন বা পড়াশোনা সম্পর্কে সচেতন ছিলেন না তারা। ইচ্ছা এবং দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও পেশা হিসেবে নেওয়াটা কষ্টকর ছিল শিক্ষার্থীদের জন্য। সুতরাং বোঝা যাচ্ছে, এই পেশায় সফল হতে হলে প্রয়োজন সুযোগেরও। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা খুব বেশি প্রয়োজন হয়ে ওঠে এই লাইনে ভালো করতে গেলে। আর এইসব পড়াশোনার ব্যাপারটি ভারতীয় তানিয়া বেশ দক্ষতার সাথেই করতে পেরেছেন।
হে র ল্ড
মানুষের শখ ও চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সবার কাছেই জনপ্রিয় হতে শুরু করেছে সিরামিক শিল্প। ঘরের আসবাবপত্র, দেয়ালের রং, শো-পিস, পর্দার রং এমনকি ঘরের আলোকসজ্জাও সুন্দর রুচির পরিচয় দেয়। এই যান্ত্রিক সভ্যতায় সবাইকে ছুটতে হয় ছকে বাঁধা জীবনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে। সেই সব কিছুর সাথে বাড়তি সৌন্দর্য যোগ করে যদি কিছু শিল্প সেগুলোতে প্রাণ সঞ্চয় করে। আর এসব কিছু নিয়েই গড়ে উঠেছে সিরামিক শিল্প। সেইজন্য এই কাজটি হাতে নিয়েছেন হেরল্ড। তিনি আমেরিকার একটি নামকরা স্কুল থেকে পড়াশোনার পাঠ শেষ করেন তিনি। পড়াশোনা শেষ করেই আর বসে থাকেননি তিনি।
মি চ ই য় ং
আমেরিকার ম্যানহাটন শহরে জন্ম এই মিচের। খুব বেশি ধনী ছিল না তার পরিবার। সেখান একজন সফল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার পথের যাত্রাটি খুব সুখের ছিল না তার। আর আজ তিনি যা, তার সম্পূর্ণ ক্রেডিট দেওয়া যায় তার পরিবারকে। তার পরিবারের কল্যাণেই তিনি আজ এতদূর এসেছেন। সেই সাথে তার পরিশ্রম আর পড়াশোনা তো রয়েছেই। তিনি যেখানে বড় হয়েছেন তার চারপাশে ছিল অপার সৌন্দর্য। ছোটবেলা থেকে তার একটা শখ ছিল, ঘুরে বেড়ানো। আর এই বেড়াতে গিয়েই পরিচিত হন আরও সৌন্দর্যের সাথে। তিনি ভাবতেন এইসব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে একসময় তুলে নিবেন তার ঘরে। তিনি তার স্বপ্ন পূরণে সফল। পরিশ্রমের ফল তিনি আজ পেয়েছেন। একজন সফল সিরামিক ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন তিনি।
