জলবায়ু সহিষ্ণু উন্নয়ন প্রকল্পগুলাসহ এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন অনেকগুলো প্রকল্পই বাংলাদেশের জাতীয় নীতির বিরোধী এবং স্থানীয় জনগণের জন্য দুর্ভোগের কারণ। তাই জাতীয় নীতিতে আন্তর্জাতিক অর্থলগ্নিকারীদের অনৈতিক ব্যবস্থাপত্র বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া আগামী ২ থেকে ৫ মে ভারতের নয়াদিল্লীতে এডিবির ৪৬তম সম্মেলন উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিদের কাছে ৯ দফা দাবিও তুলে ধরা হয়।
শনিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তোলা হয়। ইক্যুইটিবিডি, হিউম্যানিটিওয়াচ ও এনজিও ফোরাম অন এডিবি যৌথভাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে অন্যদের মধ্যে ইক্যুইটিবিডির নির্বাহী প্রধান হাসান মেহেদী, হিউম্যানিটি ওয়াচের সভাপতি বদরুল আলম, কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি মোস্তফা কামাল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সম্মেলনে বলা হয়, ২০০৯ সালে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন কৌশলপত্র ও কর্মপরিকল্পনা বা বিসিসিএসএপি গ্রহণ করার পর এডিবি জলবায়ু খাতকে ঋণ বাণিজ্যের একটি নতুন ক্ষেত্র হিসাবে গ্রহণ করে। বিশ্বব্যাংক ও এডিবিসহ ৫টি আন্তর্জাতিক অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে গঠিত জলবায়ু বিনিয়োগ তহবিল বা সিআইএফ’র আওতায় এডিবি এ খাতে ঋণ ও অনুদান প্রদান করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের একটি এবং বাংলাদেশের জনগণ জলবায়ু বিপর্যয়ের জন্য দায়ী নয়। এ কারণেই বিসিসিএসএপিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, জলবায়ু খাতে বাংলাদেশ সকল বৈদেশিক অর্থ পুরোপুরি অনুদান বা ক্ষতিপূরণ হিসাবে গ্রহণ করবে, ঋণ নয়। কিন্তু এডিবি’র অর্থায়নে গৃহীত ১২৩০ কোটি টাকা বাজেটের উপকূলীয় জলবায়ু-সহিষ্ণু অবকাঠামো প্রকল্প বা সিসিআরআইপি-এর ৭৬ শতাংশই ঋণ। এ ঋণ অনৈতিক ও অবৈধ বিধায় আমরা সরকারি প্রতিনিধিদের কাছে এই ঋণ বাতিল করার দাবি জানাচ্ছি।
