সংঘাতময় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গার্মেন্টস শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০১৩, ২১:১৫
গার্মেন্টস শ্রমিক ও শিল্প রক্ষা জাতীয় মঞ্চ’র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের সংঘাতময় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গার্মেন্টস শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে অনেক গার্মেন্টস বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। যদি এমন হয় তাহলে দেশে যে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে তা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে অনুধাবন করতে হবে। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মঞ্চের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়েছে। গার্মেন্টস শ্রমিকদের ৫০% মহার্ঘ ভাতা, রেশনিং ও আবাসন সমস্যা সমাধানে বাজেট বরাদ্দের দাবি নিয়ে মঞ্চ এ সংবাদ সম্মেলন করে। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মঞ্চের সমন্বয়কারী লাভলী ইয়াসমিন। উপস্থিত ছিলেন আবুল হোসাইন, রফিকুল ইসলাম সবুজ, শফিকুল ইসলাম, শামীমা আক্তার শিরীন, গোলাম রাব্বানী জামিল, তপন সাহা, আলাউদ্দিন আল আজাদ, হেনা চৌধুরী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। সম্মেলনে বলা হয়, বর্তমানে গার্মেন্টস শ্রমিকরা এক চরম সংকটের মধ্য দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে। এক দিকে ঊর্ধ্বমুখী বাজার দর অপর দিকে রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে শ্রমিক জীবন দিশেহারা। গার্মেন্টস শিল্প ও শ্রমিক জীবন-জীবিকা ধ্বংস হয় এমন রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রদান থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান তারা। অপরদিকে বাজার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে দ্রব্যমূল্য শ্রমজীবী মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের প্রতিও আহ্বান জানান তারা। সম্মেলনে গার্মেন্টস শ্রমিকের জীবন-জীবিকা ও শিল্প ধ্বংসের সকল কর্মকাণ্ড বন্ধ, বর্তমান বাজার দর বিবেচনা করে মে দিবসে গার্মেন্টস শ্রমিকের জন্য ৫০ ভাগ মহার্ঘ ভাতা ঘোষণা, একই সাথে মহান মে দিবসে সকল কলকারখানা বন্ধ ঘোষণা, গার্মেন্টস শ্রমিকের প্রত্যাশা পূরণে ন্যায্যমূল্যে রেশনিং এবং আবাসন সংকট সমাধানকল্পে বাজেট বরাদ্দ, শ্রমিকের সার্বজনীন অধিকার নিশ্চিতকল্পে আগামী সংসদ অধিবেশনে বাংলাদেশ শ্রম আইন, অসংগঠিত শ্রমিকদের কল্যাণ ও সামাজিক নিরাপত্তা আইন এবং গৃহশ্রম নীতিমালা পাস করসহ ৬টি দাবি উত্থাপন করা হয়। উল্লেখিত দাবি না মানা হলে ২৫ এপ্রিল অর্থ ও শ্রম মন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি পেশ করা, নারীকে গৃহবন্দী করার প্রতিবাদে ২৭ এপ্রিল মতিঝিলে গার্মেন্টস শ্রমিক মহাসমাবেশ ও ১লা মে দিবসে শ্রমিক সমাবেশের ঘোষণা দেয়া হয়।