কাল-পরশু ৩৬ ঘণ্টার হরতাল ডেকেছে ১৮ দল

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০১৩, ২২:২৯
আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত টানা ৩৬ ঘণ্টার হরতাল ডেকেছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জোটের সকল নেতাকর্মীর মুক্তি ও তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল, হত্যা, গুম বন্ধ ও সবক্ষেত্রে ব্যর্থতার দায়ে সরকারের পদত্যাগের দাবিতে এই হরতালের ঘোষণা করা হয়। একই দাবিতে আগামী ২৭ এপ্রিল ঢাকা মহানগরসহ সারাদেশের জেলা সদরে প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ১৮ দলীয় জোটের বৈঠকের পর এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর এ গনি। ব্রিফিংয়ে ড. মোশাররফ বলেন, তিন নেতার জামিন হয়েছে। তবে তারা এখনো মুক্তি পাননি। জানি না সরকার তাদের নিয়ে আরো কোনো ষড়যন্ত্র করবে কি না! তবে এই তিনজনের জামিনের ক্ষেত্রে জোটের কর্মসূচিতে কোনো পরিবর্তন হবে না। কারণ এখনো ২ শতাধিক সিনিয়র নেতা কারাগারে রয়েছেন। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ সারাদেশে আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী জেলে আছেন। সবাইকে মুক্তি দিতে হবে। বাংলাদেশ গেমস উপলক্ষে হরতাল না দিতে সরকারের আহ্বানের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ড. মোশাররফ বলেন, আমরা ইতিমধ্যে হরতাল ঘোষণা করেছি। সুতরাং সরকারের আহ্বানে কর্মসূচির পরিবর্তন হবে কি না আপনারা বুঝতেই পারছেন। তিনি বলেন, আমাদের মূল দাবি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন আরো বেগবান ও কঠিন হবে। সরকার পদত্যাগে বাধ্য হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য আব্দুল হামিদকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলীয় ফোরামে আলোচনা করে আমরা এ ব্যাপারে মতামত জানাবো। এর আগে বিকাল সোয়া চারটা থেকে ৫টা পর্যন্ত ১৮ দলীয় জোটের মহাসচিবদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন দলের ভাইস-চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ, বিজেপির প্রেসিডিয়াম সদস্য সালাহউদ্দিন মতিন প্রকাশ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমেদ আবদুল কাদের, লেবার পার্টির মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদী, এনপিপির ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, এনডিপির মহাসচিব আলমগীর মজুমদার, মুসলিম লীগের মহাসচিব আতিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, ইসলামিক পার্টির মহাসচিব আবদুর রশিদ প্রধান, জাগপার যুগ্ম-মহাসচিব আসাদুর রহমান খান, পিপলস লীগের মহাসচিব সৈয়দ মাহবুব হোসেন, এলডিপির যুগ্ম-মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মহিউদ্দিন ইকরাম, ডেমোক্রেটিক লীগের যুগ্ম-মহাসচিব খোকন চন্দ দাস।