জলবায়ু খাতে দাতাদের দেয়া অর্থ লুণ্ঠন বন্ধের দাবি

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০১৩, ২১:২২
ধরিত্রী রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় কার্যকর নীতি প্রয়োজন বলে দাবি করেছে দেশের পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো। গতকাল বিশ্ব ধরিত্রী দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে সংগঠনগুলো ধরিত্রী রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় কার্যকর নীতি এবং এতদসংক্রান্ত কার্যক্রমের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দশ দফা দাবিও উত্থাপন করেছে। ট্রান্সপ্যারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশ (টিআইবি), বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বাংলাদেশ ওয়াটার ইন্টিগ্রিটি নেটওয়ার্ক (বাউইন), ক্লাইমেট ফাইন্যান্স গভার্নেন্স নেটওয়ার্ক (সিএফজিএন), গ্রিন ভয়েস সম্মিলিতভাবে এই মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে। টিআইবি’র প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর জাকির হোসেন খানের সভাপতিত্বে বাপা’র সাধারণ সম্পাদক ড. আব্দুল মতিন, যুগ্ম-সম্পাদক মিহির বিশ্বাস ভয়েস’র সহ-সম্পাদক হুমায়ুন কবির সুমন বক্তব্য রাখেন। আব্দুল মতিন বলেন, সরকারের মধ্যে একটি শক্তিশালী দুর্নীতিগ্রস্ত গোষ্ঠী রয়েছে। এদের প্রতিরোধের ব্যবস্থা সরকারকেই করতে হবে। বাংলাদেশের বনাঞ্চলগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ধ্বংসের একমাত্র কারণ হচ্ছে সরকারের প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা। যারা বনকে লুটপাট করে খাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, দুর্্নীতির কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন না। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় দাতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে আনা কোটি কোটি টাকা লুট হয়ে যাচ্ছে। এজন্য সরকারের কাছে তিনি দুর্নীতি দমন ও প্রশমনে কার্যকর ভূমিকা রাখার জোর দাবি করেন। বক্তারা জানান, গ্লোবাল ক্লাইমেট ঝুঁকি সূচক ২০১২ অনুযায়ী, আগামী ২০ বছরে জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিতে অবস্থানকারী তিনটি দেশ হলো বাংলাদেশ, মিয়ানমার এবং হন্ডুরাস। এছাড়াও ক্লাইমেট ভালনারেবল মনিটর রিপোর্ট ২০১১ তে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে অবস্থানরত ‘হট স্পট’ হিসাবে বাংলাদেশকে উল্লেখ করে শুধুমাত্র জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঘূর্ণিঝড়ের কারণে আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ বছরে অতিরিক্ত গড়ে ৬ লাখ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। এ অবস্থায় জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় দ্বিতীয় মেয়াদে কিয়োটো চুক্তি বাস্তবায়নে উন্নত দেশসমূহের অনীহা এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নের নিশ্চয়তা প্রদান না করায় বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মানববন্ধনে জলবায়ু-তাড়িত বাস্তুচ্যুতদের পুনর্বাসনে বাংলাদেশে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন কেন্দ্র স্থাপন, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার হ্রাস এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধিতে কার্যকর প্রণোদন দেয়া, উপকূলীয় বনায়ন বৃদ্ধি, পরিবেশ-বান্ধব, সুষম উন্নয়ন পরিকল্পনা ও কৌশল এবং দক্ষ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, জলবায়ু অভিযোজনসহ সব ধরনের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে স্থানীয় ভুক্তভোগী জনগোষ্ঠীর সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, ক্ষমতাবান ব্যক্তি, ব্যবসায়ী কর্তৃক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে নদীসহ জলাশয় ও জলমহালসমূহের বেআইনী দূষণ ও সংরক্ষিত বনাঞ্চল দখল বন্ধে দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, শিল্পবর্জ্য নির্গমনের বিধিমালার কঠোর প্রয়োগ এবং পানি দূষণকারীর কাছ থেকে ক্রমবর্ধমান হারে জরিমানা আদায় নিশ্চিত করা এবং পশুর নদীর তীর থেকে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুত্ প্রকল্পের স্থান সরিয়ে তা পরিবেশের জন্য নিরাপদ স্থানে স্থাপনের দশ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।