গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাসে ভূমিকা রাখুন

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০১৩, ২১:২২
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমগ্র মানবগোষ্ঠী ও পৃথিবীর জন্য এক বিরাট হুমকি হিসেবে বিবেচিত জলবায়ু পরিবর্তনের মূল কারণ গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন হ্রাসে বিশ্বের ধনী দেশগুলোকে নেতৃত্বের ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘অভিযোজনই একমাত্র সমাধান নয়। প্রকৃত সমাধান নিহিত রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান কারণ গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন হ্রাসের মধ্যে। এ সমস্যা সমাধানে উপশম প্রক্রিয়া যত বিলম্বিত হবে, ততবেশি অভিযোজন কর্মকাণ্ড গ্রহণ করতে হবে এবং বিশ্বব্যাপী দরিদ্র মানুষের দুর্ভোগও তত বাড়বে।’ প্রধানমন্ত্রী রূপসী বাংলা হোটেলে গতকাল কমিউনিটি বেইজড এডাপটেশান টু ক্লাইমেট চেঞ্জ বিষয়ক ৭ম আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন। বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ (বিসিএএস) ও ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর এনভার্নমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইআইইডি) যৌথভাবে চারদিনের এ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, বিজ্ঞানী, সুশীল সমাজের সদস্য, কমিউনিটি পিপল ও সংবাদমাধ্যমের সদস্যরা অংশ নিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা অস্বীকার করার উপায় নেই জলবায়ু পরিবর্তনে বিশ্বের সকল দেশ সমানভাবে দায়ী নয়। ধনী ও উন্নত দেশগুলোর জীবাশ্ম জ্বালানি-নির্ভর জীবনযাপন এবং উন্নয়ন প্রক্রিয়া এই সমস্যার জন্য প্রাথমিকভাবে দায়ী। অনেক উন্নয়নশীল দেশও বর্তমানে একই পথ অনুসরণ করছে। ফলে পরিস্থিতি আরো নাজুক হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘জলবায়ু সংক্রান্ত সমস্যাগুলো সাধারণ কিন্তু ভিন্নতর দায়িত্ববোধ এবং নিজস্ব সক্ষমতা নীতির ভিত্তিতে সমাধান করতে হবে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘ধনী তথা অধিক উদগীরণকারী দেশগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তন উপশমে আরো জোরালো এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি তাদের ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অভিযোজন কার্যক্রমে এগিয়ে আসতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মতো অনেক দেশের জন্যই দারিদ্র্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের দ্বিমুখী প্রভাব মোকাবেলা কঠিন হয়ে পড়ে। এটা শুধু তাদের জন্য কঠিন সমস্যাই নয়, বরং তাদের প্রতি অবিচার ও অন্যায্য। তিনি প্রশ্ন করেন, কিছু ধনী মানুষের জীবনযাপন প্রণালী সাধারণ গরীব মানুষের জীবন ও জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলবে, এটা কেন হবে? অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, আইআইইডি’র সিনিয়র ফেলো ড. সালিম উল হক, বিসিএএসের নির্বাহী পরিচালক ড. আতিক রহমান এবং ইউএনএফসিসিসি সেক্রেটারিয়েটের ইউসুফ নাসিফ বক্তব্য রাখেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. শফিকুর রহমান পাটওয়ারী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু এবং পরিবেশ বিনষ্টের বর্তমান ধারা পরিবর্তন করতে না পারলে পরবর্তী প্রজন্মকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। এ জন্য তারা তাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মকে কখনো ক্ষমা করবে না। তিনি টেকসই পরিবেশ এবং উন্নয়নের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কালক্ষেপণ না করে এখনই একক, স্থানীয়, জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিকভাবে ব্যবস্থা নেয়ার ওপর জোর দেন। বিশ্বব্যাপী পরিবেশ ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞদের কম্যুনিটিভিত্তিক অভিযোজন বিষয়ে কাজ করার কথা উল্লে¬খ করে শেখ হাসিনা বলেন, গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমনে জলবায়ু ও পরিবেশের যে ক্ষতি হচ্ছে, তা মোকাবেলার জন্য বহু কম্যুনিটিকে অভিযোজন পদ্ধতি গ্রহণ করতে হচ্ছে। বিভিন্ন জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে দরিদ্র জনগণ এসব পরিবর্তনের দ্বারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এজন্য তিনি জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সমস্যা মোকাবেলায় বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য ও জ্ঞানভান্ডারে বিজ্ঞানীদের পাশাপাশি দরিদ্র জনগোষ্ঠী, স্থানীয় সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর অবাধ প্রবেশাধিকারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী অভিযোজন বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে নিজেদের প্রস্তুত করতে পারস্পরিক শিক্ষার প্রক্রিয়া আরো জোরদারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে জলবায়ু পরিবর্তনে বিশ্বের সকল দেশ সমানভাবে দায়ী। ধনী ও উন্নত দেশগুলো এ সমস্যার জন্য প্রাথমিকভাবে দায়ী।