পণ্য পরিবহন নিয়ে নৌপথে জটিলতা নিরসনের পর এবার সড়ক পথে ভাড়া বৃদ্ধির দাবি তুলেছেন ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ীরা। শিল্প কারখানার সাথে চুক্তি অনুযায়ী পণ্য পরিবহনে নারাজ তারা। ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, হরতালে পণ্য পরিবহনে জান-মালের ঝুঁকি বেড়েছে। ফলে আগের মূল্যে পণ্য পরিবহন সম্ভব নয়। দাবি নিয়ে শীঘ্রই আন্দোলনে যাবার চিন্তাভাবনা করছেন তারা। অন্যদিকে লাইটারেজ জাহাজ ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর পণ্য খালাস পুরোদমে চলছে।
আমদানিকারকরা ভোগ্যপণ্য ও শিল্প-কারখানায় উত্পাদিত পণ্য পরিবহন নিয়ে একের পর এক সমস্যায় পড়ছেন। ট্রান্সপোর্ট মালিকরা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতায় পরিবহন খাতে লোকসান বেড়েছে। পণ্য পরিবহনে চাপ বাড়লেও পরিবহন সংকট প্রকট হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে বেশির ভাগ পণ্য সড়ক পথে পরিবহন করা হয়। নগরীর বিভিন্ন স্থানে প্রায় তিন শতাধিক ভোগ্যপণ্যসহ অন্যান্য পণ্য মজুদের গুদাম রয়েছে। এসব গুদাম ও বন্দরের জেটি দিয়ে খালাস হওয়ার পর পণ্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছানো হয় ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানে করে। ব্যবসায়ী ও ট্রান্সপোর্ট মালিকরা বলছেন, গত দুই মাস যাবত্ রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পণ্য পরিবহনে ঝুঁকি বেড়েছে। হরতাল সমর্থকরা গাড়ী ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করছে। আর ক্ষতিগ্রস্ত পণ্য ও গাড়ীর ক্ষতি ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ীদের বহন করতে হচ্ছে। ফলে গত দুই মাস ধরে পণ্য পরিবহন খরচ বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার ভাড়া ১২ থেকে ২৬ হাজার টাকা হয়েছে।
ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ীরা জানান, চট্টগ্রামের অনেক শিল্প-কারখানার মালিকদের সাথে পণ্য পরিবহনের জন্য বিভিন্ন পরিবহন সংস্থার সাথে চুক্তি রয়েছে। এক বছরের জন্য এই চুক্তি করা হয়। এতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পরিবহন ভাড়া প্রতি ট্রাকে গড়ে ১২/১৩ হাজার টাকা পড়ে। কিন্তু বর্তমানে হরতাল ও অবরোধসহ রাজনৈতিক অস্থিরতায় পরিবহন ভাড়া দ্বিগুণ হওয়ায় চুক্তি অনুযায়ী পণ্য পরিবহনে রাজী হচ্ছে না তারা। পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে তারা শিল্প কারখানায় মালিকদের কাছে দাবি জানিয়েছে। প্রতিদিন ট্রান্সপোর্ট মালিকদের সাথে শিল্প-কারখানা মালিকদের ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে বাক-বিতণ্ডা চলছে। তারা ট্রান্সপোর্ট সমিতির মাধ্যমে ভাড়া বৃদ্ধির দাবি তুলেছে। এ প্রসঙ্গে আন্তঃজেলা মালামাল পরিবহন সংস্থা ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক জাফর আহম্মদ চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, ‘পরিবহন সংস্থাগুলো ভাড়া বৃদ্ধির দাবি তুলেছে। বর্তমান অবস্থায় চুক্তি অনুযায়ী পণ্য পরিবহন সম্ভব হচ্ছে না। আমরা ২/১ দিনের মধ্যে বসে করণীয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবো।’
পণ্য পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে জিএইচপি’র জেনারেল ম্যানেজার মো. আলমাস শিমুল ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমাদের সাথে দু’টি পরিবহন সংস্থার চুক্তি রয়েছে। দৈনিক ২৫০ থেকে ৩০০ টন পণ্য পরিবহন করতে হয়। হরতালসহ নানা কারণে পরিবহন সংকট প্রকট হয়েছে। আমাদের পণ্য পরিবহন করতে হবে। তাই তাদের ভাড়া কিছু বাড়িয়ে দেবো বলেছি।’ কেএসআরএম’র ডেলিভারী শাখার এক কর্মকর্তা জানান, দু’টি পরিবহন সংস্থার সাথে বাত্সরিক চুক্তি রয়েছে। তারা ভাড়া বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে। এটি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ৭০০ টন রড ডেলিভারী দিতে হয় বলে জানান তিনি।
টানা ১৬ দিন ধর্মঘটের পর গত রবিবার থেকে লাইটারেজ জাহাজ ধর্মঘটের অবসান হয়েছে। পণ্য লোড-আনলোড করতে মাঝিরঘাট এলাকা ও বহির্নোঙর জাহাজের দীর্ঘ লাইন। মাঝিরঘাট এলাকায় ১৩টি ঘাটে দিনে-রাতে পুরোদমে চলছে পণ্য খালাস। প্রতিটি ঘাটে ৪/৫টি লাইটারেজ জাহাজ পণ্য খালাসের অপেক্ষায়। চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসের পর লাইটারেজ জাহাজে করে এসব পণ্য ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, আশুগঞ্জ, নগরবাড়ী, বাঘাবাড়ী, খুলনা, বরিশাল, নোয়াপাড়া ও ঘোড়াশালে বিভিন্ন গুদাম ও ফ্যাক্টরিতে পৌঁছানো হয়।
