ভাড়ায় আনা বিদ্যুত্ কেন্দ্র নিয়মিত করা হচ্ছে

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৫৪
বিনা প্রতিযোগিতায় ভাড়ায় আনা উচ্চমূল্যের বিদ্যুত্ কেন্দ গুলো বেসরকারি কেন্দে র আওতায় আনা হচ্ছে। এর ফলে ভাড়ায় আনা বিদ্যুত্ কেন্দ নিয়মিত করা হবে। যথাসময়ে স্থায়ী বড় বিদ্যুত্ কেন্দ উত্পাদনে আনতে না পারায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এজন্য অতিরিক্ত সচিবকে দিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী কেন্দ গুলোর নতুন চুক্তির মেয়াদ ও বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা হবে। বিদ্যুত্ কেন্দ স্থাপনকারী উদ্যোক্তারা নতুন করে চুক্তির বিভিন্ন শর্ত শিথিল করার দাবি জানিয়েছেন। যুদ্ধকালীন সময় বা বিশেষ সংকট বিবেচনা করে তিন অথবা পাঁচ বছরের জন্য একাধিক বিদ্যুত্ কেন্দ ভাড়ায় এনে স্থাপন করা হয়েছিল। এগুলোর মেয়াদ বাড়ানো হবে না বলেও বলা হয়েছিল। ইতিমধ্যে কয়েকটির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। আবার নতুন করে বেসরকারি বিদ্যুত্ কেন্দে র নীতিমালায় (আইপিপি) আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সম্প্রতি বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কম দামের বড় বিদ্যুত্ কেন্দ সময়মত স্থাপন করা যায়নি বলে ভাড়ায় আনা কেন্দ গুলো আরো চালানো প্রয়োজন বলে বৈঠকে জানানো হয়। বৈঠক সূত্র জানায়, স্বল্পমেয়াদি (৩ থেকে ৫ বছর) পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এসব ভাড়ায় আনা কেন্দ স্থাপন করা হয়েছে। তবে এই সময়ের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি যেসব বিদ্যুত্ কেন্দ্র উত্পাদনে আনার পরিকল্পনা করেছিল তা আসতে পাঁচ থেকে সাত বছর সময় লাগবে। দেশীয় কয়লা উত্তোলনের অনিশ্চয়তা, আমদানি করা কয়লাভিত্তিক বড় কেন্দ্র বাস্তবায়নে নানা জটিলতায় পিছিয়ে যাওয়া এবং উল্লেখযোগ্য গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার না হওয়ায় গ্যাসের মজুদ দিন দিন কমে যাচ্ছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা অনুযায়ী সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন ও জ্বালানি সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। এসব কারণে অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখার স্বার্থে স্বল্পমেয়াদি ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুত্ উত্পাদনে আনা প্রয়োজন বলে আলোচনা হয়। গত ৮ এপ্রিল বিদ্যুত্ সচিব মনোয়ার ইসলামের সভাপতিত্বে এই বৈঠক হয়। ভাড়ায় আনা ও দ্রুত ভাড়ায় আনা কেন্দ্রের উদ্যোক্তারা সরকারকে জানিয়েছেন, বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী চলতি মেয়াদ (তিন থেকে পাঁচ বছর) শেষে বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেয়া হলে তা জাতীয় সম্পদের অপচয় হবে। এই কেন্দ্রগুলোকে মধ্যমেয়াদি ‘বিদ্যুত্ উত্পাদন না হলে অর্থ নয়’ (নো ইলেকট্রিসিটি নো পেমেন্ট) ভিত্তিতে আইপিপিতে রূপান্তর করা হলে বিদ্যুতের দামও কমিয়ে আনা সম্ভব। তারা জানান, অনভিজ্ঞতা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেই কাজ করতে গিয়ে তাদের নির্ধারিত বিনিয়োগের চেয়ে বেশি বিনিয়োগ করতে হয়েছে। এছাড়া নির্ধারিত সময়ে উত্পাদনে আসতে না পারার কারণে জরিমানাও দিতে হয়েছে। বিভিন্ন বিদ্যুত্ কেন্দে র এই পর্যন্ত মোট ৫৩৬ কোটি টাকা জরিমানা হয়েছে। ভাড়ায় আনা কেন্দ যুগ্ম সচিব (উন্নয়ন), পিডিবির সদস্য (পরিকল্পনা), পিডিবির প্রধান প্রকৌশলী (আইপিপি সেল), পরিচালক (সিস্টেম প¬্যানিং), পরিচালক (আইপিপি সেল-১) ও পাওয়ার সেলের পরিচালক (ম্যানেজমেন্ট)। কমিটি ভাড়ায় আনা ও দ্রুত ভাড়ায় আনা কের্ন্দারণের জন্য সুপারিশ করবে। আইপিপিতে রূপান্তরযোগ্য কেন্দ্রগুলোর তালিকা তৈরি, তার মেয়াদ নির্ধারণ, বিদ্যুতের দাম পুনঃনির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নের পদ্ধতি নির্ধারণসহ অন্য বিষয়গুলো বিবেচনা করবে। কমিটিকে আগামী ১৫ মের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কমিটির একজন সদস্য জানান, এক্ষেত্রে যারা নতুন যন্ত্র আমদানি করেছেন তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। সভায় জানানো হয়, বিদ্যুত্ খাতের মহাপরিকল্পনায় ২০২১ সাল পর্যন্ত নিজস্ব ও আমদানি করা কয়লাভিত্তিক প্রায় পাঁচ হাজার মেগাওয়াটসহ বিভিন্ন কেন্দ স্থাপনের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ আছে। পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার পর ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ৬০টি বিদ্যুত্ কেন্দ স্থাপনের জন্য চুক্তি হয়েছে। এর উত্পাদন ক্ষমতা আট হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি। এরমধ্যে ভাড়ায় আনা তিনটি, দ্রুত ভাড়ায় আনা ১৭টি, আইপিপি ১৯টি এবং সরকারি মালিকানাধীন