দুই পা কেটে হত্যা মামলার আসামিকে হত্যার চেষ্টা

আপডেট : ০৭ মে ২০১৯, ২২:৩৯

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে চাঞ্চল্যকর প্রবাসী সবুজ হত্যা মামলার প্রধান আসামি আদম ব্যবসায়ী আলী নেওয়াজের উপর হামলা চালিয়ে দুই পা কেটে তাকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন। পূর্বশক্রতার জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলার বাদি নিহত সবুজের পিতা শহীদ মিয়াকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার পাগলা থানার পাঁচবাগ ইউনিয়নের চৌকা গ্রামে শহীদ মিয়ার বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, সবুজ হত্যা মামলার আসামি উপজেলার পাঁচবাগ ইউনিয়নের ঝাওয়াইল গ্রামের আদম ব্যবসায়ী নেওয়াজ দীর্ঘদিন পলাতক ছিল। ২/৩ দিন পূর্বে সে গোপনে বাড়িতে আসে। গতকাল ভোরে সে বাড়ি থেকে বের হয়ে রিক্সা করে চৌকা গ্রামে শহীদের বাড়ির সামনে আসলে একদল লোক হামলা চালিয়ে রামদা দিয়ে কুপিয়ে তার দুই পা কেটে ফেলে। এলাকাবাসী আলী নেওয়াজকে উদ্ধার করে প্রথমে হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠায়।

পাগলা থানার ওসি মো. শাহিনুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় শহিদ মিয়াকে আটক করা হয়েছে। তবে সে হামলা চালিয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে পারেননি ওসি।

উল্লেখ্য, চৌকা গ্রামের শহিদ মিয়া তার দুই ছেলে পারভেজ ও রাসেল এবং শ্যালক সাইদুলকে বিদেশে পাঠানোর জন্য প্রায় ৩ বত্সর আগে আলী নেওয়াজকে সাড়ে ১০ লাখ টাকা দেন। কথামত তাদেরকে বিদেশ না পাঠানোয় শহিদ মিয়া আলী নেওয়াজের কাছে টাকা ফেরত চান। টাকা ফেরত চাওয়ায় ২০১৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর আলী নেওয়াজ ও তার ভাড়াটিয়া লোকজন সবুজ মিয়াকে রামদা দিয়ে এলোপাথারি কুপিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে ফেলে দেয়। ঘটনার ৫ মাস পর পাঁচপাই বাজার এলাকায় নদ থেকে সবুজ মিয়ার ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় আলী নেওয়াজসহ ১২/১৩ জনকে আসামি করে গফরগাঁও থানায় মামলা করেন সবুজ মিয়ার পিতা। সবুজের লাশ উদ্ধার হওয়ার পর আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় আলী নেওয়াজসহ এই মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল।