পুঁজিবাজারে ব্যাংকের মাত্রাতিরিক্ত অংশগ্রহণ নিয়ন্ত্রণে সংসদে বিল

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০১৩, ২১:০৮
পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর ‘মাত্রাতিরিক্ত’ অংশগ্রহণ নিয়ন্ত্রণে এ সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন সংশোধনের লক্ষ্যে সোমবার জাতীয় সংসদে বিল আনা হয়েছে। বিলে পুঁজিবাজার কার্যক্রমকে বাণিজ্যিক ব্যাংকিং থেকে পৃথক করার আইনি বিধান করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এছাড়া শেয়ার সংক্রান্ত্র বিধান লংঘন করলে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা জরিমানা ও ৭ বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের পক্ষে আইন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম দিনের সম্পূরক কার্যসূচি অনুযায়ী ‘ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) বিল-২০১৩’ সংসদে উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পরীক্ষার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটিকে আগামী দুইদিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনের ১৫ ধারার ১০ উপ- ধারায় বলা হয়েছে, “অন্য কোন আইনে অথবা ব্যাংক কোম্পানির সংঘ স্মারক ও সংঘ বিধিতে অন্য যা কিছুই থাকুক না কেন, এ আইন কার্যকর হওয়ার পর ব্যাংক কোম্পানির পরিচালক পদের সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে তিন বছর। “তবে শর্ত থাকে যে, কোন ব্যাংক কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা যে নামেই অভিহিত থাক না কেন অন্য কোন পরিচালক একাদিক্রমে দুই মেয়াদের বেশি ওই পদে অধিষ্ঠিত থাকতে পারবে না।” বিলে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ব্যতীত কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, একক বা অন্যের সহিত যৌথভাবে, কোন ব্যাংক কোম্পানির উল্লেখযোগ্য শেয়ার ধারক হতে পারবে না।” আরো বলা হয়েছে, “যদি কোন ব্যাংক কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা ম্যানেজার কোন কোম্পানির পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট থাকেন বা উহাতে তার কোন স্বার্থ থাকে তাহলে এ আইন প্রবর্তনের তারিখ হতে এক বছর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা ম্যানেজার ওই কোম্পানিতে কোন শেয়ার ধারণ করতে পারবে না।” বিলের ২২ ধারায় বলা হয়েছে, লভ্যাংশ প্রদানের ওপর বিধিনিষেধ- বিশেষায়িত ব্যাংক ব্যতীত অন্য কোন ব্যাংক কোম্পানি এর শেয়ারের ওপর কোন লভ্যাংশ প্রদান করবে না, যদি এর প্রাথমিক ব্যয়, শেয়ার বিক্রি ও দালালির কমিশন, লোকসান এবং অন্যান্য ব্যয়সহ মূলধনী ব্যয়ে পরিণত হয়েছে এরূপ সকল ব্যয় সম্পূর্ণরূপে অবলোপন না করা হয়ে থাকে। ২৬ ক ধারায় বলা হয়েছে, কোন ব্যাংক কোম্পানি অন্য কোন শেয়ার ধারণের ক্ষেত্রে শেয়ার বাজারমূল্যে ওই ব্যাংক-কোম্পানির আদায়কৃত মূলধন, শেয়ার প্রিমিয়াম, সংবিধিবদ্ধ সঞ্চিতি ও রিটেইন্ড আর্নিংস এর মোট পরিমাণের পাঁচ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করবে না ও ওই কোম্পানির আদায়কৃত মূলধনের ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিচালকের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ সীমা নির্ধারণে আনা এই বিলে শেয়ার সংক্রান্ত বিধান লংঘন করলে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এই লংঘন অব্যাহত থাকলে প্রথম দিনের পর প্রত্যেক দিনের জন্য ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যক্তি বা কোম্পানিকে জরিমানা করতে পারবে। একই সঙ্গে এ সংক্রান্ত অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।