নারীর জন্য অবমাননাকর প্রচারণা ঠেকাতে আগামী ২৭ এপ্রিল রাজধানীতে দুটি পৃথক নারী সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। মূলত হেফাজতে ইসলাম-এর নারীনীতি বিরোধী অবস্থানের বিপরীতে এ সমাবেশ ডাকা হয়েছে। হেফাজতের পক্ষ থেকে নারীনীতি বাতিলসহ যে ১৩ দফা মানতে সরকারকে আলটিমেটাম দেয়া হয়েছে তার অধিকাংশই নারী স্বাধীনতার পরিপন্থি বলে নারী সংগঠনগুলো অভিযোগ করছে। এজন্য এর বিরুদ্ধে তারা জনমত গড়তে মাঠে নামছে।
এরই অংশ হিসেবে আহূত নারী সমাবেশের একটির নেতৃত্ব দিচ্ছে তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মরত ৫০টি গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠন। অপর সমাবেশ হচ্ছে বিভিন্ন এনজিওতে কর্মরত নারীদের নেতৃত্বে ও অংশগ্রহণে। ইতিমধ্যে নারীদের এ ধরনের সমাবেশের প্রতি সরকারের নেতৃত্বাধীন ১৪ রাজনৈতিক দল আনুষ্ঠানিক সমর্থন দিয়েছে।
এ বিষয়ে নারী নেত্রী ও জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য শিরীন আখতার গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ‘হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নারীদের বিরুদ্ধে যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে তা আমাদের বাঁচা-মরার লড়াই। এ চ্যালেঞ্জে আমাদের জিততে হবে।’ তিনি বলেন, বিষয় যেহেতু নারীদের নিয়ে তাই সকলে মিলে করতে পারলেই ভাল। তবে গার্মেন্টস কর্মীদের উদ্যোগে সমাবেশ আয়োজন প্রসঙ্গে নিজেদের খুশির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শুধু এনজিও নয়, সমাজের সর্বস্তরের মানুষ এদিন রাস্তায় নামবে। গৃহিণী, ব্যবসায়ী, কর্মজীবী, চাকরিজীবী সকল স্তরের নারী উপস্থিত হবেন সমাবেশে।’ তার দাবি, পুরুষদের মধ্যে সমাবেশ নিয়ে আগ্রহ বেশি। তিনি মনে করেন হেফাজতের ১৩ দফা নারীদের ওপর সরাসরি আক্রমণ।
আজ বুধবার গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিয়ন সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করবে। তাদের ২৭ এপ্রিলের পূর্বনির্ধারিত সমাবেশস্থল হচ্ছে মতিঝিল শাপলা চত্বরে দুপুর আড়াইটায়। এনজিওর নারীকর্মীদের সমাবেশ হওয়ার কথা একইদিন প্রেসক্লাবের সামনে বিকাল তিনটায়।
জানা যায়, একই লক্ষ্যে আয়োজিত এ দুটি পক্ষকে একত্রিত করে একই জায়গায় সমাবেশ অনুষ্ঠানের জন্য চেষ্টা চলছে। তবে গতকাল রাত পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয়নি।
সূত্র জানায়, তৈরি পোশাক খাতের নারীকর্মীরা যাতে সমাবেশে আসতে পারে সেজন্য সুযোগ দিতে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএকে বলা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের বড় ছোট ৮০টি এনজিওতে কর্মরত নারী সমাবেশে যোগ দেবে বলে আয়োজকরা বলছেন। ইতিমধ্যে সকল এনজিওকে নারী সমাবেশে যোগ দিতে আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয়েছে। দূর থেকে যেসব নারীকর্মী আসবেন তাদের আসা-যাওয়া, খাওয়া, নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়। পাশাপাশি সমাবেশে যোগ দিলেও যাতে গার্মেন্টস কর্মীরা বেতন-ভাতা পান সেজন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
