সেমিনার নাই অথচ ফিস ২২০০ টাকা

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০১৩, ২১:১১
হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলায় অবস্থিত সৈয়দ সঈদউদ্দিন ডিগ্রি কলেজে হাজারো সমস্যার মধ্যে সবচেয়ে প্রকট সমস্যা পাঠাগার ও সেমিনারের অনুপস্থিতি। ২০১২ সাল থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও হিসাববিজ্ঞান বিভাগে অনার্স কোর্স চালু হয়। ইতোমধ্যে ২য় ব্যাচ উল্লিখিত দু’টি বিষয়ে ভর্তি হলেও সম্মান শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য সেমিনার প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি কলেজ প্রশাসন। এছাড়াও কলেজে একটি পাঠাগার কক্ষ থাকলেও গত এক বছর ধরে বন্ধ। ইদানিং, কলেজের আসবাবপত্র বানানোর জন্য পাঠাগার কক্ষটিকে কারখানা হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ভর্তি ও পরীক্ষার আবেদনপত্র পূরণের সময় ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে পাঠাগার ফিস আদায় করা হলেও পাঠাগার চালু ও সংস্কার করার কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না। অন্যদিকে সম্মান শ্রেণিতে ভর্তির সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১০০০ টাকা সেমিনার ফিস নেয়া হলেও প্রথম বর্ষ সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা সেমিনারের দেখা পায়নি। সমপ্রতি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের আবেদনপত্র পূরণ করার সময় অন্যান্য ফিসের সঙ্গে ১২০০ টাকা করে সেমিনার ফিস গ্রহণ করা হয়। আমরা জানি যে, ডিগ্রি কোর্সের পাঠদান করার জন্য কমপক্ষে ৩০০০ বই সমৃদ্ধ পাঠাগার এবং সম্মান শ্রেণি চালু করার জন্য কমপক্ষে ২০০০ বই সমৃদ্ধ সেমিনার থাকা আবশ্যক। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে পাঠাগার ও সেমিনার কক্ষ ছাড়াই চলছে ঐ উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। যদিও পাঠদানের অনুমতি পাওয়ার জন্য কলেজ প্রশাসন একদিনের জন্য একটি করে সেমিনার কক্ষ সাজিয়ে ছিলেন। সম্মান কোর্সের শিক্ষার্থীরা বাজারে প্রাপ্ত অবৈধ নোট ও গাইড বইয়ের ওপর নির্ভরশীল যা কোনোভাবেই মানসম্মত শিক্ষার সহায়ক নয়। উল্লেখ্য যে, পাঠাগার সংস্কার এবং সেমিনার প্রতিষ্ঠাসহ কলেজের সার্বিক উন্নয়নে গত বছর জুলাই মাসে স্থানীয় এক ব্যক্তি এক কোটি টাকার নগদ অনুদান প্রদান করলেও রহস্যজনক কারণে ঐ টাকা ব্যবহার করা হচ্ছে না। পরিশেষে পাঠাগার খুলে দেয়া ও সম্মান শ্রেণির জন্য সেমিনার প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আশরাফুল ইসলাম, সৈয়দ সঈদ উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ, মাধবপুর, হবিগঞ্জ