ভবন ধস :ঝরে গেল শত প্রাণ

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৫৬
আবার সেই লোভ, অবহেলা— ঝরে গেল শত প্রাণ। নিশ্চিত দুর্ঘটনা জেনেই ভবনের ভেতরে যেতে চাননি নিরীহ শ্রমিকরা। কিন্তু চাকরি হারানো আর বেতন না দেয়ার ভয় দেখিয়ে তাদের কাজে যোগ দিতে বাধ্য করেন মালিক। পরিণতি, মুহূর্তেই ধসে পড়ল ভবন, প্রাণ গেল শ্রমিকের। গতকাল বুধবার সাভার বাসস্টান্ডের পাশে ‘ফাটল ধরা’ রানা প্লাজা নামে নয়তলা ভবনটি ধসে পড়ে। ফাটল দেখার পর গত মঙ্গলবার ভবনটি থেকে সবাইকে বের করে দেয়া হয়। তারপরও গতকাল জোর করেই চারটি গার্মেন্টসের তিন হাজারেরও বেশী শ্রমিককে ওই ভবনে কাজে যোগ দিতে বাধ্য করেন মালিক। ধসেপড়া ভবনের ভেতর থেকে গতকাল মধ্যরাত পর্যন্ত ১২৭ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকারীরা আট শতাধিক মানুষকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। ধসেপড়া ভবনের ভেতরে এখনো আটকে আছেন বহু মানুষ। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভেতরে আটকে থাকা মানুষদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনাও ক্ষীণ হয়ে পড়ছে। ঘটনার দেড় ঘন্টা পর ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সঙ্গে উদ্ধার কাজে যোগ দেয় সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর ও নৌ বাহিনীর সদস্যরা। সাধারণ মানুষও সর্বাত্মক সহযোগিতা দিচ্ছেন উদ্ধারকারীদের। মৃতদেহ হস্তান্তরের দায়িত্বে থাকা ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসবি) ফারুক হোসেন রাত সাড়ে ১১ টায় ইত্তেফাককে বলেন,সাভার অদর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে ১২১ জনের লাশ রাখা আছে। এর মধ্যে ৭৬ টি লাশের পরিচয় সনাক্ত করা গেছে। সনাক্ত হওয়া লাশের মধ্যে ইতিমধ্যে ৩৬টি লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকিগুলো হস্তান্তরের চেষ্টা চলছে। তিনি আরো জানান, লাশ দাফনের জন্য নিহতের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা দেয়া হচ্ছে। তাছাড়া জেলা প্রশাসকের দায়িত্বে নিহতদের লাশ স্বজনদে কাছে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অপর একটি সূত্র জানায়, রানা প্লাজার পেছন দিকে নেসলের একটি গোডাউন ছিল। ধসে পড়া রানা প্লাজার একটি অংশ ওই ভবনের একাংশের উপর পড়ে সেটাও ধসে যায়। নেসলের গোডাউন ভবনের মালিক রবিন্দ্রনাথ সরকার জানিয়েছেন, তার ভবন থেকে ৬টি লাশ উদ্ধার হয়েছে। সাভারে এই ভবন ধসের ঘটনায় আজ রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেত্রী হতাহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ভবনটির মালিকের লোভ আর আইনকে তোয়াক্কা না করার কারণেই এত মানুষকে প্রাণ দিতে হল। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সবাই দায়ী করছেন ভবনটির মালিক সোহেল রানাকে। সাভার পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক সোহেল রানা এই ভবনটি নির্মাণ করেছেন কোন ধরনের বিধি-বিধান না মেনেই। ভবনের মালিক নিজেও আটকা পড়েছিলেন। পরে তাকে উদ্ধার করা হয়। এরপরই তিনি পালিয়ে যান। এই ভবনের বেইজমেন্টে মার্কেটের অফিস ও গ্যারেজ, নিচতলায় ব্রাক ব্যাংকের এটিএম বুথ ও বিভিন্ন আইটেমের দোকান, দোতলায় ব্র্যাক ব্যাংকের শাখা ও ফাষ্টফুডের দোকান এবং বিভিন্ন আইটেমের দোকান। তৃতীয় তলায় নিউ ওয়েভ বাটন লিমিটেড, ৪ ও ৬ তলায় ইথার টেক্স লিমিটেড, ৫ম তলায় বারটেক্স লিমিটেড এবং ৭ ও ৮ম তলায় নিউ ওয়েভ ষ্টাইল লিমিটেড নামে একটি গার্মেন্টস রয়েছে। কেন এই দুর্ঘটনা গত মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে ধসেপড়া ভবনের তৃতীয় তলার পিলারে ফাটল দেখা দেয়। তখনই কর্তৃপক্ষ ওই ভবনের থাকা চারটি গার্মেন্টসে ছুটি দিয়ে দেয়। মার্কেটও বন্ধ করে দেয়া হয়। ওই দিনই বেলা ১২টার দিকে পৌর মেয়র, থানা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রধান প্রকৌশলীসহ উর্ধ্বতনরা ওই ভবনে যান। সবাই দেখে ভবনটি বন্ধ রাখার পক্ষে মত দেন। উপজেলা প্রধান প্রকৌশলী খন্দকার আসাদুজ্জামান বলেন, বুয়েট থেকে বিশেষজ্ঞদের এনে ভবনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এভাবেই মঙ্গলবার বন্ধ থাকে ভবনটি। কিন্তু সন্ধ্যায় রাজ্জাক নামে এক প্রকৌশলীকে ডেকে আনেন মালিক সোহেল রানা। ওই প্রকৌশলী বলেন, এই ফাটলে কোন সমস্যা নেই। ভবনে কাজ করা যাবে। পরে রাতেই থানা নির্বাহী কর্মকর্তা তার সুর বদল করে বলেন, ভবনে কাজ চলতে পারে। রাতেই মাসুদ রানার সিদ্ধান্তে গার্মেন্টসের সব শ্রমিককে পরদিন কাজে যোগ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। গতকাল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শ্রমিকরা ভবনের সামনে গেলেও ভেতরে ঢুকতে চাননি। কিন্তু চাকরি হারানো আর বেতন না দেয়ার ভয় দেখিয়ে তাদের কাজে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়। পৌনে ৯টার দিকে সবাই কাজে যোগ দেন। সকাল ৯টার ঠিক কয়েক মিনিট আগে বিদ্যুত্ চলে যায়। ভবনের উপরে সেট করা বিশাল জেনারেটর চালু করে কর্তৃপক্ষ। এই জেনারেটর চালুর সময় একটা ঝাঁকুনি দিয়েই হুড়মুড় করে ধসে পড়ে ৯তলা এই ভবনটি। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় এক দোকানদার বলেন, ‘আমি দোকানে বসেছিলাম। হঠাত্ বিকট শব্দ পেয়ে পেছনে তাকিয়ে দেখি ধুলার ঝড়ের মতো উঠল। আর চোখের পলকে বিল্ডিংটা ধসে পড়ল।’ যেভাবে চলছে উদ্ধার অভিযান দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার তত্পরতায় এগিয়ে আসেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফায়ার সার্ভিস যোগ দেয়। কিন্তু বড় বড় পিলার আর দেয়ালের ভেতরে আটকে থাকা মানুষদের তারা বের করে আনতে পারছিলেন না। আশপাশ দিয়ে কিছু ইট সরিয়ে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা চালান ফায়ার কর্মী আর সাধারণ মানুষ। কিন্তু এভাবে বেশী লোককে বের করতে না পেয়ে ভেতরে আটকে থাকাদের পানি দিয়ে জীবন রক্ষার চেষ্টা চালান উদ্ধারকারীরা। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে যোগ দেয় সেনাবাহিনীর চারটি দল, নৌ বাহিনীর একটি দল এবং বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র্যাব সদস্য। সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের ৩ নম্বর ব্যাটেলিয়নের কমান্ডার লে. কর্নেল মইন উদ্দিনের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক সেনাসদস্য অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করেন পৌনে ১১টার দিকে। প্রথমে তারা কংক্রিটগুলো তোলার কথা ভাবলেও আটকে পড়াদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য ছোট ছোট করে কেটে উদ্ধার তত্পরতা চালান। কাটা অংশ দিয়ে ভেতরে অক্সিজেনও দেয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার আলী আহমেদ দুপুর ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে বলেন, ভবনটি পুরোপুরি মাটির সঙ্গে মিশে যায়নি। ধসেপড়া ভবনের নিচে কিছু ফাঁকা জায়গা আছে। সেখান দিয়ে ভেতরে ঢুকে উদ্ধার কাজ চালানো হচ্ছে। সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন উদ্ধার কাজ চালাচ্ছেন। কিছু ফাঁকা জায়গায় অক্সিজেনের অভাব থাকায় উদ্ধার কাজে বেগ পেতে হচ্ছে। বহু মানুষ আটকে আছে :রানা প্লাজায় এখনো আটকে আছে বহু শ্রমিক। এই সংখ্যা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেনি। সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, র্যাবসহ রেড ক্রিসেন্ট, আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম ও আল মারকাজুলসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন-প্রতিষ্ঠান উদ্ধার কাজে সহযোগিতা করছে। সাভার ও ঢাকার বেশ কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের চিকিত্সক এবং নার্সরা অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্পে চিকিত্সা দিচ্ছেন। যাদের অবস্থা গুরুতর তাদের অ্যাম্বুলেন্সে করে পার্শ্ববর্তী হাসপাতালগুলোতে পাঠানো হচ্ছে। ঘটনাস্থলের এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাব নিরাপত্তা বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। এদের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণ স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে তাদের সহযোগিতা করছে। সাভার এলাকার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় হত-বিহ্বল হয়ে পড়েছেন স্থানীয় মানুষ। এদিকে শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চ থেকে আহতদের চিকিত্সার জন্য রক্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে বাঁচার জন্য আকুতি :সাভারে ধসেপড়া বহুতল ভবনে এখনো অনেকে আটকা পড়ে আছেন বলে জানিয়েছেন উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা। ধ্বংসস্তূপের ভিতর থেকে বেরিয়ে আহত এক ব্যক্তি বলেন, অনেকে চাপা না পড়লেও ভবনের পিলারের আশপাশে আছে। তারা বাঁচার জন্য আহাজারি করছে। ভবনের ষষ্ঠতলায় ইথার টেক্সটাইল লিমিটেডে কাজ করছিলেন সেলিম। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, আমি ছয়তলায় কাজ করছিলাম। আমার ফ্লোরে অন্তত ৫০ থেকে ৬০ জন আটকা পড়েছে। অন্য ফ্লোরেও লোক ছিলো। ভেঙে পড়া ভবন থেকে বেরিয়ে আসা এক গার্মেন্টস কর্মী জানান, ভবনের সপ্তম তলায় নিউ ওয়েভ বটমস লিমিটেডে কাজ করছিলেন তিনি। তাদের কারখানায়ই সবচেয়ে বেশি মানুষ কাজ করছিলেন। তিনি বলেন, সপ্তম তলায় এখনো অনেক শ্রমিক আটকা পড়ে আছেন। তারা ওই ফ্লোরের জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বাঁচার জন্য আহাজারি করছে। মালিক রানা আহত অবস্থায় উদ্ধার :রানা প্লাজার মালিক রানাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে বেসমেন্ট থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাকে স্থানীয় এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর তিনি পালিয়ে যান। ঘটনাস্থলে মন্ত্রী এমপিরা :সাভারে ভবন ধসের ঘটনায় সরকারের মন্ত্রী এমপিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উদ্ধার কাজে দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন। দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, স্বাস্থ্য মন্ত্রী ডা. আ ন ম রুহুল হক, শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবীর নানক, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামছুল হক টুকু, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান, এমপি রাশেদ খান মেনন, শ্রম সক্রান্ত সংসদীয় স্থানীয় কমিটির সভাপতি ইস্রাফিল আলম, স্থানীয় সংসদ সদস্য তালুকদার তৌহিদ জং মুরাদ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজে বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ খবর নেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন র্যাবের মহাপরিচালক, ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক, আনসারে মহাপরিচালক, বিজিবির মহাপরিচালক, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারীর বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আশেপাশে সাধারণ মানুষের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। উদ্ধার কাজে ধীরগতি অভিযোগ সাধারণ ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের প্রতি ইট পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে। এ সময় ইটের আঘাতে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাংবাদিক মির্জা মেহেদি তমাল আহত হন। পরে পুলিশ ও র্যাব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল ছোড়ে। বেসামরিক চিকিত্সা কেন্দ্র খোলা হয়েছে :আটকে পড়াদের প্রাথমিক চিকিত্সাসহ অন্যান্য সাহায্য-সহযোগিতা দিতে বেসামরিক চিকিত্সা কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বেসমরিক চিকিত্সা কেন্দ্রের পাশাপাশি রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি ও সিআরপি আহতদের সাহায্য সহযোগিতা করছে। বেসামরিক এ চিকিত্সা কেন্দ্র থেকে প্রাথমিক চিকিত্সার পাশাপাশি আহতদের যথাযথ সুচিকিত্সার জন্য উপযুক্ত স্থানে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের মাঝে নানা ধরনের চিকিত্সা উপকরণ বিতরণ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে মেজর ফখরুল আলম (ডিএডিএমএস) জানান, আটকে পড়া আহতদের তারা প্রাথমিকভাবে চিকিত্সা দিয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী গুরুতর আহতদের ক্যান্টনমেন্ট ও সিএমএইচ হাসপাতালে পাঠিয়ে চিকিত্সার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর বাইরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও পঙ্গ হাসপাতালেও পাঠানো হচ্ছে আহতদের। তিনি আরো জানান, বেসমরিক চিকিত্সা কেন্দ্রের পাশাপাশি রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি ও সিআরপি আহতদের সাহায্য সহযোগিতা করছে। পাশাপাশি নানা ধরনের খাবারও বিতরণ করছে। সাভারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় একটি মনিটরিং সেলও খোলা হয়েছে। উদ্ধার কাজে জাবি শিক্ষার্থীরা :সাভারের দুর্ঘটনায় উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গতকাল সকাল থেকে দুই শতাধিক ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা কর্মচারী এ কাজে অংশ গ্রহণ করেন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সেখানের উপস্থিত হন। এদিকে গতকাল বিকালে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে দুই শতাধিক ছাত্রলীগের একটি প্রতিনিধি দল উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। এছাড়া রক্তদাতা সংগঠন বাঁধন, জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট, থিয়েটার, ধ্বনিসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে রক্ত দিয়েছেন। আহতদের জন্য ছাত্রলীগের রক্ত সংগ্রহ অভিযান :সাভারে ভবন ধসে আহতদের রক্ত দিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ রক্ত সংগ্রহ করেছে। গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ কর্মসূচি শুরু করে। পরে রাতেই দুই শতাধিক ব্যাগ রক্ত সাভারে পাঠানো হয়। সংগঠনের সভাপতি এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, রক্ত সংগ্রহ অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে এবং আহতদের জন্য যত রক্ত প্রয়োজন ছাত্রলীগ তা সরবরাহ করতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। শাহবাগে রক্ত সংগ্রহ করছে গণজাগরণ মঞ্চ :সাভারে বহুতল ভবন ধসে আহতদের জন্য শাহবাগে রক্ত সংগ্রহ করছে গণজাগরণ মঞ্চ। কর্মসূচির নাম দেয়া হয়েছে ‘সারা বাংলা হোক ব্লাড ব্যাংক’। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে শাহবাগে মঞ্চের মিডিয়া সেলে শুরু হয় স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন ওয়েবসাইটেও আহতদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে রক্তদানের প্রচারণা চালানো হয়। রক্ত দেয়ার জন্য অনেকেই মিডিয়া সেলের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন। মঞ্চের সংগঠকরা জানান, ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে এ রক্ত সংগ্রহ কর্মসূচির ঘোষণা দেন মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার। বিভিন্ন মহল থেকে সাড়া পাওয়ার পর শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের মিডিয়া সেলে কয়েকটি বুথে রক্ত সংগ্রহ করা হয়। এতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও ডাক্তাররা অংশ নিচ্ছেন।