যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান সামরিক মহড়ার পরিকল্পনা করে উস্কানি দিচ্ছে। এ ‘উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড’ দিয়ে চীনকে নিজ ভূখন্ড রক্ষা করে চলা থেকে টলানো যাবে না বলে সতর্ক করেছে বেইজিং। পূর্ব চীন সাগরের বিতর্কিত দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে বেইজিং এবং টোকিওর নতুন উত্তেজনার মধ্যে সামরিক মহড়া অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান। সঙ্গে সঙ্গেই এ পরিকল্পনাকে ‘উস্কানিমূলক তত্পরতা’ আখ্যা দিয়ে বুধবার চীন বলেছে, এতে করে বেইজিংয়ের নিজ ভূখন্ড রক্ষা করে চলার সংকল্প দমবে না। জুনে যৌথ সামরিক মহড়ার এ পরিকল্পনা করেছে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র। চীন-জাপান উত্তেজনার সময়ে এ মহড়ার পরিকল্পনা চীনকে চাপে ফেলার চেষ্টা বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনিং হুঁশিয়ার করে বলেছেন, বিদেশি চাপের মুখে চীন পূর্ব চীন সাগরে তার ভূখন্ডের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে চলা থেকে সরে আসবে না। মহড়া সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে এক নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিং এ হুয়া বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট যে কোনো উস্কানিমূলক কর্মকান্ডের জন্য চীন সরকার কঠোর জবাব দেবে।’ মঙ্গলবারই বিতর্কিত দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে পাল্টাপাল্টি প্রতিবাদে উত্তেজনায় জড়িয়েছে চীন ও জাপান।
চীনের ৮টি যুদ্ধজাহাজ বিতর্কিত দ্বীপপুঞ্জের জলসীমায় প্রবেশ করার পর জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে এদিন হুমকি দিয়ে বলেন, চীন সেখানে অবতরণের চেষ্টা নিলে শক্তি প্রয়োগ করে এর জবাব দেয়া হবে। শিনজো আবে গত ডিসেম্বরে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম কড়া ভাষায় চীনের এ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন।
চীন বলছে, দ্বীপপুঞ্জের জলসীমায় জাপানি জাহাজ নজরে আসার পরই তারা সেখানে টহলরত যুদ্ধ জাহাজের সংখ্যা বাড়ায়। পূর্ব চীন সাগরের বিতর্কিত দ্বীপপুঞ্জ জাপানের কাছে সেনকাকু হিসেবে পরিচিত। আর চীন এটিকে দিয়ায়ু নামে চেনে। চীন ও জাপানের মধ্যবর্তী জলসীমায় অবস্থিত ওই দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা দু’দেশই দাবি করে আসছে। ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে জাপান দিয়ায়ুর কিছু অংশ জাতীয়করণ করলে এটি নিয়ে দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।
