প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সাভারের ভবন ধসের ঘটনায় উদ্ধার কাজের সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘টকশোতে বড় বড় কথা না বলে সাভারে উদ্ধার কাজে অংশ নিয়ে সহযোগিতা করুন। অন্তত একটি মানুষকে উদ্ধার করে প্রমাণ করুন আপনারাও উদ্ধার কাজে ছিলেন।’ একই সঙ্গে ডোবা-খাল ভরাট করে ভবন নির্মাণ করলে তা ধসে পড়ার ঝুঁকি থাকে উল্লেখ করে ‘যত্রতত্র’ দালান না করারও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গণভবনে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সূচনা বক্তব্যে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সবচেয়ে কষ্টদায়ক হচ্ছে শ্রমিকরা চাপা পড়ে আছে। কিন্তু কোন কোন শ্রমিক নেতা টকশো নিয়ে ব্যস্ত। অথচ তাদের সেখানে উদ্ধার কাজে থাকার কথা। কেউ কেউ এ ঘটনায় দোষীদের এখনই ‘ধরো আর মারো’ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এগুলো বাদ দিয়ে সেখানে গিয়ে উদ্ধার কাজে অংশ নিন।” তিনি বলেন, ‘যারা টকশোতে বসে গরম গরম কথা বলেন, উদ্ধার কাজের সমালোচনা করেন, আমি তাদের বলবো একটা মানুষ উদ্ধারে হাত লাগান। ওখানে উদ্ধার কাজে অংশ নিলে, প্রত্যক্ষ করলে, বুঝতে পারবেন কেন দেরি হচ্ছে।’ উদ্ধার কাজকে সময়সাপেক্ষ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জীবিতদের জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করাই আমাদের সবচেয়ে বড় কাজ। এ কাজে সবার সহযোগিতা দরকার।’ তিনি বলেন, ‘স্ল্যাব কোনটা কাটলে কোনটা পড়ে যায়, হিসেব করে কাজ করতে হচ্ছে। অনেক দিক বিবেচনা করে কাজ করছি। সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, বিজিবি ও সেখানকার সাধারণ মানুষ সবাইকে একত্রিত করে আমরা টিম গঠন করেছি। প্রতিটি কাজের আগে মিটিং করে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। কারও কারও হাত-পা চাপা পড়ে আছে। তারা বলছেন, হাত-পা কেটে হলেও তাদের উদ্ধার করতে। কিন্তু এজন্যও একটি সিদ্ধান্তের প্রয়োজন আছে। হাত-পা কাটলে প্রচুর রক্তক্ষরণও হবে। সেজন্য মেডিকেল টিম ও অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, যত্রতত্র ও খাল-বিল-ডোবা ভরাট করে ভবন নির্মাণ করার প্রবণতা রয়েছে। ডোবা ও খালের ওপর নির্মিত ভবন যেকোন সময় ধসে পড়বে। সেটা যত মজবুতই হোক। আমাদের মনে রাখা উচিত, বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। তাদের (দালান মালিক) ভাবা উচিত যে, জলাভূমির নিচেও পানির স্তর আছে। যতোই পাইলিং করা হোক, ভূমিকম্প হলে, নড়াচড়া হলে দালানের ক্ষতি হবেই। মৃদু ভূমিকম্প হলেও পানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের লাইনসহ দালানের কাঠামো পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।
ঢাকা মহানগরীর ৯০ ভাগ ভবনই বিল্ডিং কোড না মেনে নির্মিত হয়েছে—এমন অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বড় কোন ভূমিকম্প হলে ঢাকা নগরীতে উদ্ধার করার মত লোকও থাকবে না। যারা সমালোচনা করেন, ভবন নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাদের ভবনগুলো কীভাবে নির্মাণ করা হয়েছে—সেটাও দেখা দরকার। বিরোধীদল বুধবার হরতাল প্রত্যাহার করায় আবারো তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে সাভারের ঘটনায় সবার সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় বিরোধী দলের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অন্যায় নির্যাতনের কথা দেশের মানুষ ভুলে যায়নি। দেশে আর কোন অগণতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতা দেয়া হবে না।
তিনি বলেন, বিরোধীদল বলছে তারা নির্বাচনে আসবে না। নির্বাচনে যদি না-ই আসেন, তাহলে তাদের যেসব আসন রয়েছে, সেগুলোও হারাবেন। একবার আসন বেদখল হলে সেগুলো পুনরুদ্ধার করাও কঠিন। এটাও মনে রাখতে হবে।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যতই ষড়যন্ত্র হোক বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই।
প্রধানমন্ত্রীর সূচনা বক্তব্যের পর তার সভাপতিত্বে রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় দলের টাঙ্গাইল জেলার সাংগঠনিক পরিস্থিতি সম্পর্কে লিখিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান মারুফ। জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান খান শাহজাহানসহ উপজেলা সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং মহিলা আওয়ামী লীগ নেতারা বক্তব্য রাখেন। সভা পরিচালনা করেন দলের ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন।
এতে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সতীশ চন্দ্র রায়, মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মৃনাল কান্তি দাস, এনামুল হক শামীম, আবদুস সোবহান গোলাপ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
