তরুণ আরজে’র গল্প

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০১৩, ১৬:৪৯
জন্মসূত্রে একজন ব্রিটিশ নাগরিক। মাত্র ২০ বছর বয়সেই তিনি পৌঁছে গিয়েছেন খ্যাতির শীর্ষে। তার ক্যারিয়ারের শুরুটা রেকর্ডিং আর্টিস্ট ও টক শো হোস্ট দিয়ে হলেও বর্তমানে তিনি নিজের মতো করে গুছিয়ে নিয়েছেন তার ক্যারিয়ার, একজন রেডিও আর্টিস্ট হিসেবে। পাশাপাশি তার আরও একটি পরিচয় আছে, তিনি একজন গায়িকাও বটে। বাবা-মা দুজনেরই প্রতিভা লক্ষ করা যায় লুসির মধ্যে। তিনি খুব ছোট বয়স থেকেই সংগীতের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছেন। তার অনুপ্রেরণার মূলে ছিল অল্টারনেটিভ সং আর্টিস্ট ‘গালম রক’। তিনি গানের সাথে এত বেশি জড়িয়ে পড়েছিলেন যে পড়াশোনা খুব বেশিদূর পর্যন্ত এগোয়নি তার। স্কুলে থাকা অবস্থাতেই তিনি বেশ কয়েকটি ডেমো সং তৈরি করে ফেলেছিলেন। এরপর ২০০৫ সালের প্রথমদিকে তিনি মাইস্পেসকে বেছে নেন তার নিজেস্ব একটি প্রোফাইল তৈরি করার জন্য। তিনি তার রেকর্ডিংগুলো অনলাইনে উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন সকলের জন্য। আর এই কাজটির মাধ্যমেই তার ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়। তিনি সুযোগ পেয়ে যান একটি নামকরা কোম্পানির সাথে কাজ করার। ১ বছরের মধ্যে তিনি তার অ্যালবামের কাজ শুরু করার সুযোগ পেয়ে যান। তার প্রথম মুক্তি পাওয়া সিঙ্গেল গানটি ছিল ‘স্মাইল’ নামে। এই গানটি ২০০৬ সালের জুলাই মাসে ইউকে টপ চার্টের টপ পজিশনে ছিল। এই সিঙ্গেল গানটির পাশাপাশি তিনি দ্বৈতভাবে ‘অলরাইট স্টিল’ নামের একটি গানেও কণ্ঠ দিয়েছিলেন। ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটে খুব ভালো ব্যবসা করেছিল তার গানগুলো। অ্যালবামের প্রায় আড়াই মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়ে যায় কয়েক সপ্তাহের মধ্যে। তার খ্যাতি ও জনপ্রিয়তা এত বেশি ছিল যে এই গানগুলোর জন্য তাকে দেওয়া হয়েছিল ‘গ্রামি অ্যাওয়ার্ড’। এ পুরস্কার পেয়েই থেমে যাননি তিনি, জিতে নিয়েছেন ‘ব্রিট অ্যাওয়ার্ড’, ‘এমটিভি মিউজিক অ্যাওয়ার্ড’। জনপ্রিয়তা তাকে উদ্বুদ্ধ করে একটি টক শো উপস্থাপনা করার পথে। তবে এসব করতে গিয়ে তিনি তার গানের অধ্যায়টি কখনই বন্ধ করেননি। বরং খ্যাতিকে আরও কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টাই করেছেন। ‘ইটস নট মি, ইটস ইউ’ নামের একটি অ্যালবাম মুক্তি পায় সেই বছরই। অ্যালবামে তিনি আরও নতুনত্ব নিয়ে এসেছিলেন। অ্যালবামটির সাফল্য তাকে ও তার অ্যালবামটিকে নিয়ে গিয়েছিল ‘ইউকে অ্যালবাম চার্ট’ ও ‘অস্ট্রেলিয়া আরিয়া চার্ট’-এ। তার এই অ্যালবামটি নিন্দুকদেরও মুখ বন্ধ করে দিয়েছিল সেসময়। একরকমের মিউজিকাল ইনফ্লুয়েন্স বলা চলে অ্যালবামটিকে। ২০০৯ সালে তিনি একটি সংগীত প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন নিজের যোগ্যতা পরীক্ষা করার জন্য। সেখানে তিনি ছাড়া আরও ৫ জন গায়িকা ছিলেন। তাদের মধ্য থেকে তিনি ‘ইয়ার অব দ্য ওমেন’ সেক্টর থেকে মারকারি পুরস্কার জিতেছিলেন। সেই বছর অ্যালেন রেকর্ডিংয়ের ব্যবসা শুরু করেন। দূর সম্পর্কের এক বোনের সাথে মিলে তিনি এই ব্যবসাটি শুরু করেছিলেন। অবশেষে তারা ২০১১ সালের শুরুতে নিজস্ব একটি রেকর্ডিং কোম্পানি শুরু করেন। সংগীতের পাশাপাশি তার একটি অন্য রকম ক্যারিয়ারের কথা শোনা যায়। তিনি ফ্যাশন জগতেও পা রেখেছেন ক্যারিয়ারের কিছুটা সময় ধরে। ২০০৭ সালের মে মাসে তিনি ড্রেস, জুতো ও মেয়েদের অন্যান্য টুকিটাকি জিনিসপত্রের মডেলিং করেছেন। এ সময় তিনি একজন ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবেও কাজ করতে থাকেন। এরপর ২০০৯ সালের শেষদিকে এসে রেকর্ডিং কোম্পানির সাথে জড়িয়ে পড়ায় ফ্যাশন জগত ছাড়তে হয় তাকে। এসবের মধ্য দিয়েই তার রেডিও জগতে প্রবেশ। তিনি রেকর্ডিং জগতের পাশাপাশি জড়িয়ে পড়েন আরজে পেশার সাথে। ধীরে ধীরে এই জগতে তার কদর বাড়তে থাকে। বাড়তে থাকে চাহিদা। তার নিত্য নতুন আইডিয়া ও কাজের জন্য খ্যাতির চূড়ায় ওঠা তার জন্য কিছুটা সহজই ছিল। তিনি রেডিওতে বেশিদিন ধরে কাজ শুরু করেছেন এমনটা নয়, এরই মঝে তিনি অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছেন তার এই রেডিও ক্যারিয়ারটি নিয়ে। তিনি কাজটিকে খুব ভালোমতো ্উপভোগ করেন এবং এখন পর্যন্ত যথেষ্ট শ্রম দিয়ে চলেছেন তিনি। ব্রিটিশ রেডিও আর্টিস্ট হিসেবে তিনি অনেক জনপ্রিয় একটি আসন দখল করে নিয়েছেন।