একটা সময় এমন ছিল যখন চিঠির পাতা ভরে হূদয়ের অনুচ্চারিত কথামালা পৌঁছে যেত প্রিয়জনের কাছে। সময় বদলেছে, বদলেছে প্রযুক্তির প্রেক্ষাপটও। এখন আর হলুদ খামের অপেক্ষায় আনচান হয় না কাঠফাটা দুপুরবেলা। আর এখন অপেক্ষা শুধু একটা রিং টোনের বা ফেসবুকে একটি ভালোলাগা নোটিফিকেশনের। একবিংশ শতাব্দীর এই সময়ে মানুষ অনেক বেশি যান্ত্রিক হয়ে পড়েছে, ব্যস্ততার মাঝে প্রতিনিয়ত তার ছোটাছুটি। তাই এই সময়ে চিঠি লিখে বন্ধুত্বকে টিকিয়ে রাখা বা মুখোমুখি ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা দেওয়া প্রায়শই অসম্ভব। আর এই বন্ধুর পথটিকে সহজ করে তুলেছে আধুনিক যুগের তথ্য-প্রযুক্তি।
বন্ধুত্ব যখন মুঠোফোনে
প্রযুক্তির উন্নয়নের একটি বড় উদাহরণ হলো মোবাইল ফোন নামক মুঠোফোন। মোবাইল ফোনের কারণে যোগাযোগটা এখন অনেক সহজ। প্রযুক্তির এই উন্নয়ন ও মোবাইল ফোনের সহজলভ্যতা মানুষের কাছে যোগাযোগের দূরত্ব কমিয়ে দিয়েছে অনেকখানি। এখন রিং টোন বেজে ওঠার সাথে সাথেই ফোনের অপর পাশের মানুষটির সাথে সহজেই আলাপ জমানো যায়। এভাবে মুঠোফোনের হাত ধরে আমরা একে অপরের খুব কাছাকাছি চলে আসি, ফলে গড়ে ওঠে একটি সুন্দর বন্ধুত্বের সম্পর্ক। মোবাইল ফোন বন্ধুত্বের গভীরতা ও দৃঢ়তা বাড়ায়। যারা আমার সাথে পড়াশোনা করে, যাদের সাথে আমি সারাদিন আড্ডা আর সময় কাটাই, তারা আমার বন্ধু। কিন্তু এই বন্ধুত্ব আরও গভীর হয়, যখন তার সাথে আমার প্রতিনিয়ত ফোনে যোগাযোগ হয়। আর এই গুরুত্ব উপলব্ধি করেই হয় মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো প্রতিনিয়ত তাদের নেটওয়ার্ক সুদৃঢ় করার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকে, যাতে করে আমরা দূর-দূরান্তে থাকা বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ রাখতে পারি।
ফেসবুকে বন্ধু
সামাজিক পরিচিতির এই প্রযুক্তির মাধ্যমগুলো ক্রমশই মানুষকে না দেখা বন্ধুত্বের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যে বন্ধুকে ইচ্ছে করলেই দেখা যায় না শুধু অ্যাকাউন্টসের ছবিগুলো ছাড়া, তারপরও বন্ধু বলে কথা। সেলব্রেটিদের ফেসবুকে অসংখ্য বন্ধু রয়েছে। তারা কখনই জানতেও চায় না, সে ছেলেটি কিংবা মেয়েটি কেমন আছে। এক সময় চিঠির প্রচলন থাকলেও তা এখন একপ্রকার বন্ধই হয়ে গেছে। জীবনের মধুরিমার অনেক স্বপ্নই অক্ষরে অক্ষরে লিপিবদ্ধ হতো। প্রযুক্তির উত্কর্ষতায় বন্ধুও যেন ইন্টারনেটের মতো না দেখার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এটা কতটুকু সামাজিকতা অথবা মানসিক তৃপ্তি এনে দেয়, তা অনেকটাই প্রশ্নসাপেক্ষ। দেখা আর না দেখা বন্ধুর খোঁজে তাই তো সময় কেটে যাচ্ছে তারুণ্যের অহর্নিশ প্রহর।
