নিহত নাগেশ্বরীর দুই হতভাগীর পরিবারে চলছে শোকের মাতম, থামছে না কান্নার রোল। গত বৃহস্পতিবার তাদের লাশ স্বজনরা খুঁজে গ্রামে নিয়ে এলে ওই দুই গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া। রুগ্ন বাবার ৬ সদস্যের পরিবারে অভাব- অনটন ও ছোট ভাই-বোনদের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে ৭ম শ্রেণি পড়ুয়া কচাকাটা থানার বলদিয়া ইউনিয়নের শতিপুরি গ্রামের আমজাদ হোসেনের কন্যা আম্বিয়া লেখাপড়া ছেড়ে চলে যায় ঢাকায়। কাজ নেয় রানা প্লাজার পোশাক কারখানায়। সর্বশেষ বাড়ি আসে গত মার্চ মাসে। পরিবারের লোকজন বিয়ের চাপ দিলে ২৭ মার্চ ঢাকা ফিরে যাওয়ার সময় বলে যায় এবারে কিছু টাকা জমিয়ে ফিরে এসে বিয়ের পিঁড়িতে বসবে সে। মেয়ের ছবি হাতে নিয়ে মা লাইলি বেগম এ কথাগুলো বলেই মূর্ছা যাচ্ছেন বারবার।
দুধকুমার নদীগর্ভে ভিটেমাটিহারা বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মুড়িয়াহাট গ্রামের লেবু মিয়ার সংসার চলছিল না। মুড়িয়ারচরে এক চিলতে জমিতে ছোট্ট দুইটি ঘর তুলে স্বামীর কাছে বিয়েরযোগ্য মেয়ে লায়লা ও লাবণীকে রেখে ৮ বছরের ছেলে অন্তরকে নিয়ে রাবেয়া জীবিকার তাগিদে রানা প্লাজার চারতলায় পোশাক তৈরি কারখানায় চাকরি নেয়। তার উপার্জিত টাকায় অভাবী সংসারে সচ্ছলতা ও বড় মেয়ের বিয়ে দেয়ার স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু সে স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই থেকে গেল। ঘটনার চারদিন আগে স্ত্রী ও একমাত্র পুত্র সন্তানকে দেখতে গিয়েছিলেন লেবু মিয়া। ফিরলেন স্ত্রীর লাশ নিয়ে।
