রংপুরে কান্নার রোল

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০১৩, ২২:১৫
সাভার ট্রাজেডিতে রংপুরের ১৯ জন শ্রমিকের প্রাণহানি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে মিঠাপুকুরে ৫ জন, বদরগঞ্জে ৪ জন ও রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১ জনের লাশ স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় দাফন করা হয়েছে। নিহতের বাড়ি বাড়ি চলছে শোকের মাতম। আত্মীয়-স্বজনদের আহাজারিতে সেখানকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। এছাড়া নিখোঁজ রয়েছে শতাধিক এবং আহত হয়েছে অর্ধশত শ্রমিক। নিহতদের দাফন এবং আহতদের সুচিকিত্সা নিশ্চিত করতে মিঠাপুকুর উপজেলায় খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হারুন-অর-রশিদ সরাসরি মনিটরিং সেলটি দেখভাল করছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে বড় হযরতপুর ইউনিয়নের কামারেরপাড়া গ্রামের মতিয়ারের স্ত্রী ও মৃত বাবু মিয়ার কন্যা দুলালী বেগমকে নামাজে জানাজা শেষে গাইবান্ধায় তার শ্বশুরবাড়িতে, খোড়াগাছ ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া গ্রামের বাদশা মিয়ার কন্যা লাইজু ওরফে রাবেয়া বদরগঞ্জে তার স্বামীর বাড়িতে এবং দুর্গাপুর ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের সোহরাব হোসেনের কন্যা আরজিনা বেগমকে নিজ গ্রামে দাফন করা হয়েছে। এছাড়াও শুক্রবার রানীপুকুর ইউনিয়নের নাসিরাবাদ এলাকার আবুল কাশেমের স্ত্রী গুলশান আরা বেগম, হামিদা বেগমের লাশ দাফন করা হয়েছে। এছাড়া বদরগঞ্জ পৌর শহরের সবুজ মিয়ার স্ত্রী রাবেয়া বেগম লাইজু, রামনাথপুর ইউনিয়নের সিট লক্ষ্মিণপুর এলাকার জাহেদুলের স্ত্রী মোহছিনা বেগম, কুতুবপুর ইউনিয়নের শওকত আলীর কন্যা লিপি খাতুন, লোহানীপাড়া ইউনিয়নের কাঁচাবাড়ী সরকারপাড়ার আয়নাল হকের স্ত্রী গোলাপী বেগম এবং রংপুর সিটি করপোরেশনের নজিরদিগর নয়াপাড়া এলাকার খলিলের পুত্র রেজাউল ইসলামের মৃতদেহ পারিবারিকভাবে দাফন করা হয়েছে। সাভার ট্রাজেডিতে আরো নিহত হয়েছেন মিঠাপুকুরের বালাহাট ইউনিয়নের সংগ্রামপুর গ্রামের আনছার আলীর পুত্র মোরশেদুল ইসলাম, একই ইউনিয়নের কঞ্চিপাড়া গ্রামের নেহজুল ইসলামের স্ত্রী শ্যামলী বেগম, ভাংগী ইউনিয়নের শেরপুর গ্রামের ইউসুফ আলীর পুত্র শফিকুল ইসলাম এবং ময়েনপুর ইউনিয়নের ফুলচৌকি গ্রামের সুশীল চন্দ্রের পুত্র বুলু মিয়া। তাদের মৃতদেহ এখনও পরিবারের কাছে এসে পৌঁছায়নি। নিহতদের বাড়ি বাড়ি চলছে কান্নার রোল। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মিঠাপুকুরের বড় হযরতপুর ইউনিয়নের মাঝগ্রামের রফিকুল ইসলামের পুত্র বাতেন মিয়া ও পুত্রবধূ মেঘলা, খোড়াগাছ ইউনিয়নের জারুল্যাবাদ গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ে আনজুয়ারা, বদরগঞ্জের ওসমানপুর এলাকার মুন্সীপাড়ার আজাদের স্ত্রী বুলবুলি বেগম, শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শাহিনা নূপুর, চৌধুরীপাড়ার জফির উদ্দিনের স্ত্রী সুফিয়া বেগম, আমজাদ হোসেনের স্ত্রী মনজিলা বেগম, পুত্র আউয়াল, খুটুপাড়ার ইসমাঈল হোসেনের পুত্র কবীর, আবদুর রাজ্জাকের পুত্র আবু সায়েদ, বানিয়াপাড়ার মোকছেদ আলীর পুত্র সাবলু মিয়া, লোহানীপাড়া ইউনিয়নের কাঁচাবাড়ী এলাকার চৌকিদারপাড়ার আবু কালামের কন্যা রুবিনা বেগম, রাধানগর ইউনিয়নের দিলালপুর সুতারপাড়ার গুড়াতি পাগলার পুত্র নাসিম মিয়া, পৌর শহরের চাঁদকুঠি এলাকার আবদুর রাজ্জাকের পুত্র আবু সাঈদসহ এসব ইউনিয়নের শতাধিক নারী-পুরুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন আছেন দুলাহাপুর গ্রামের আমজাদ হোসেনের স্ত্রী শাপলা বেগমসহ এসব এলাকার কমপক্ষে ৫০ জন নারী-পুরুষ। এদিকে কাউনিয়া উপজেলার ৩ সহোদরসহ ৬ জনের কোন খোঁজ মিলছে না। পরিবারের লোকজন জানান, ১ বছর আগে কাজের সন্ধানে এলাকা ছেড়ে ঢাকায় পাড়ি জমান টেপামধুপুর ইউনিয়নের হরিচরণলঙ্কর গ্রামের জাহের আলীর পুত্র দুলাল ও লতিফের পুত্র বাদশা মিয়া এবং বালাপাড়া গ্রামের আজিমুদ্দিনসহ বেশকিছু যুবক-যুবতী। কিন্তু বুধবার সাভার ট্রাজেডির পর তারাসহ ৬ জনের কোন সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। জেলা প্রশাসক ফরিদ আহাম্মদ জানান, রংপুরের প্রতিটি উপজেলায় খোঁজ-খবর নেয়া অব্যাহত রয়েছে। জেলার সব উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে সাভারের ঘটনায় আহত-নিহত এবং নিখোঁজদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে। তিনি বলেন, এতবড় ঘটনায় কাউকে সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা আমার নেই। আমরা পুরো জেলায় সমন্বয় করে কেউ নিহত হলে তার পরিবারকে স্থানীয়ভাবে ১০ হাজার এবং আহতদের পরিবারকে পাঁচ হাজার টাকা করে সহায়তা দিচ্ছি। যারা বেঁচে আছেন ও আহত হয়েছেন সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের সহায়তা করার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।