পহেলা বৈশাখ ছুটিতে এসেছিলেন রানা প্লাজায় অবস্থিত এক গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কর্মরত যুবক হাকিম। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার এলংজুরি ইউনিয়নের বড়হাতকবিলা গ্রামে। তার পিতার নাম আবু বকর ও মা আছিয়া বেগম। সে ছিল পিতা-মাতার একমাত্র সন্তান। বাবা-মার সান্নিধ্যে এ বছর নববর্ষটি তার বেশ আনন্দেই কেটেছিল। পরে ছুটি শেষ হলে গত ১৯ এপ্রিল সে পুনরায় কর্মস্থলে যোগ দেয়। এর সাতদিন পর লাশ হয়ে বাড়িতে ফিরে আসে। হাকিম রানা প্লাজার সপ্তমতলার নিউ ওয়েব স্টাইল নামক গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে চেকিংম্যান হিসেবে চাকরি করতো। দুর্ঘটনার সময় সে ফ্যাক্টরিতে কর্মরত ছিল। ভবন ধসে পড়ার পর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। খবর পেয়ে তার ফুপাতো ভাই সোহেল ছুটে যান সাভার। পরে অধরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে লাশের স্তূপ থেকে হাকিমের লাশ শনাক্ত করেন। গত শুক্রবার রাত নয়টায় হাকিমের লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছলে সেখানে এক বেদনাবিধূর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পিতা-মাতার বুকফাটা আর্তনাদে বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। বারবার মূর্ছা যান হাকিমের বাবা-মা। গ্রামবাসীরাও চোখের জল ধরে রাখতে পারছিলেননা। একমাত্র সন্তান হারানো পিতা-মাতাকে সান্ত্বনা দেয়ার ভাষাও তারা হারিয়ে ফেলেন। রাতেই জানাজা শেষে গ্রামের কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।
