ঢাকা-সাভার-চট্টগ্রামে শ্রমিকদের ভাংচুর

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৫০
সাভারে সহকর্মীদের মর্মান্তিক হতাহতের ঘটনায় দায়ীদের গ্রেফতার এবং বিচারের দাবিতে গতকালও ঢাকা, বন্দরনগরী চট্টগ্রাম ও সাভারে বিক্ষোভ করেছে পোশাক শ্রমিকরা। সড়ক অবরোধ করে তারা অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর করেছে শতাধিক যানবাহন। ঢাকা আরিচা মহাসড়কের উলাইল এলাকায় পুলিশের সঙ্গে পোশাক কারখানা শ্রমিকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও রাবার বুলেট ছোঁড়ে। এসময় পুলিশসহ আহত হয় কমপক্ষে ২৫ জন। বন্দরনগরী চট্টগ্রামে সড়ক অবরোধ করে পোশাক শ্রমিকরা যানবাহন ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। রাজধানীর মিরপুর, কাফরুল, রামপুরা ও মহাখালীতে বিক্ষোভ ও ভাংচুর করে পোশাক শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিএমইএ গতকাল ও আজ রবিবার দেশের সকল পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল পৌনে নয়টার দিকে রাজধানীর মিরপুর ১৪ নম্বর থেকে কয়েকশ’ পোশাক শ্রমিক রাস্তায় শ্রমিক লাঠিসোটা নিয়ে ১৩ নম্বর হয়ে মিরপুর ১০ পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করে। এসময় তারা মিরপুর ১০ সেকশন পানির ট্যাংকি সংলগ্ন একটি পোশাক কারখানা ও কয়েকটি যানবাহন ভাংচুর করে। সকাল ১০টার দিকে পুলিশ পোশাক শ্রমিকদের দুই দিনের ছুটির ব্যাপারে আশ্বস্ত করলে তারা শান্ত হয়। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানিয়েছে, বিজিএমইএ শনিবার ও রবিবার পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে। কিন্তু এসব এলাকায় ঐ সিদ্ধান্ত অমান্য করে অনেক মালিক কারখানা খোলা রাখেন। এর প্রতিবাদেই তারা রাস্তায় নেমে আসে। অপরদিকে কাফরুল থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) জানান, বন্ধের নোটিস না পাওয়ার কারণেই বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানার সামনে ছুটির নোটিস ঝোলায়নি। এ কারণেই পোশাক শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে ও ভাংচুর করে। পুলিশ ভাংচুরের অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছে। সকাল দশটার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। অপরদিকে সকালের দিকে রামপুরা ও মহাখালী এলাকায় পোশাক শ্রমিকরা কারখানা বন্ধ না করায় বিক্ষোভ মিছিল করে। সাভার প্রতিনিধি জানান, গতকাল শনিবার সব কারখানা বন্ধ থাকলেও পোশাক কারখানা অধ্যুষিত উলাইল এলাকার বিভিন্ন মেস থেকে হাজার হাজার শ্রমিক সকাল ৯ টার দিকে রাস্তায় নেমে আসে। রাস্তায় এসে তারা রানা প্ল¬াজা ধ্বংসে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় মার্কেট মালিক সোহেল রানাকে গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে। এক পর্যায়ে উত্তেজিত শ্রমিক সড়কের টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। সহিংস ঘটনা এড়াতে পুলিশ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে। এছাড়াও সোহেল রানাকে গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে গতকাল বেলা সাড়ে ১০ টার দিকে থানা বাসস্ট্যান্ডে বিক্ষোভ শেষে সমাবেশ করেছে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা। ইত্তেফাক চট্টগ্রাম অফিস জানায়, সহকর্মীদের মর্মান্তিক হতাহতের ঘটনায় চট্টগ্রামের গার্মেন্টস শ্রমিকরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে। গার্মেন্টস বন্ধ ঘোষণা করা হলেও দায়ীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে গতকাল শনিবার হাজার হাজার পুরুষ ও নারী শ্রমিক রাস্তায় নেমে আসে। তারা বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কয়েকটি কাভার্ড ভ্যান, বাসে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর করে। জানা যায়, সকাল সাড়ে ৯টায় বন্দর থানার সিইপিজেডে প্রবেশ মুখে সহস্রাধিক পুরুষ ও নারী শ্রমিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এছাড়া একই সময় নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী, লালখান বাজার, আতুরার ডিপো, অক্সিজেন, আগ্রাবাদ, সদরঘাট, টেরিবাজার ও জামালখান এলাকায় গার্মেন্টস শ্রমিকরা মিছিল করে। বায়েজিদ বোস্তামি ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের সামনে শ্রমিকরা তিনটি কাভার্ড ভ্যান ও একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। আতুরার ডিপো এলাকায় সড়কে ব্যারিকেড দেয় শ্রমিকরা। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।