প্রজন্মের কোরিওগ্রাফার

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০১৩, ১৯:৩৬
নাচ করতে আপনি বরাবরই ভালোবাসেন এবং বন্ধুবান্ধবদের মতে ভালো পারেনও বটে। ক্লাসিক্যাল নৃত্য কিংবা হিপহপ, সালসা, সাম্বা বা কনটেম্পোরারি স্টাইলের যেকোনো এক বা একাধিক বিষয়ে যদি আপনার পারদর্শিতা থাকে, তাহলে আপনার জন্য কোরিওগ্রাফি হয়ে উঠতেই পারে একটা ভালো ক্যারিয়ার। সৌন্দর্যের এই মেলবন্ধন ঘটিয়ে পেশা হিসেবে কোরিওগ্রাফি এই প্রজন্মের কাছে একটি উল্লেখ্যযোগ্য পেশা। এই প্রজন্মের তেমনই কয়েকজন মেধাবী কোরিওগ্রাফারদের নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন। পুরো আয়োজনটি দেখুন পরের পৃষ্ঠায়। গ্রন্থনা এবং সম্পাদনা করেছেন রিয়াদ খন্দকার ও সাজেদুল ইসলাম শুভ্র এ আ জি জ সো হে ল একটি ফ্যাশন ওয়ার্কশপের মাধ্যমে যাত্রা শুরু তার। মডেল হিসেবে অংশগ্রহণ করেন কয়েকটি ফ্যাশন শোতে। তারপর একদিন অনুধাবন করলেন একজন ফ্যাশন মডেলের চাইতে একজন ফ্যাশন কোরিওগ্রাফার হিসেবে নিজেকে ভাবতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এরপর একজন কোরিওগ্রাফা হিসেবে গড়ে তুলেন নিজেকে। শুরু হলো নতুন পরিচয়ে ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে পথচলা। বলছিলাম প্রজন্মের মেধাবী কোরিওগ্রাফার এ আজিজ সোহেল সম্পর্কে। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত অভিমিত্র ঘাটের চট্টগ্রাম বন্দরের বাংলোতে তার জন্ম এবং তার গ্রামের বাড়ি পাহাড় ঘেরা সীতাকুণ্ড উপজেলায় আর তাই হয়তো নদী, সমুদ্র, পাহাড়ের সংমিশ্রণের ছোঁয়া রয়েছে তার কাজে। খেলাধুলা, ঘুরে বেড়ানো, হৈচৈ করেই কেটেছে সোহেলের শৈশব এবং কৈশোর। বাবা-মা, পাঁচ ভাই, চার বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। তাই এক অফুরান দুরন্তপনায় কেটেছে তার শৈশব-কৈশোর। তার কাজ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যদিও ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম ফ্যাশন কোরিওগ্রাফির মাধ্যমে কিন্তু সবাই অনেক রকম দায়িত্ব ঘারে চাপিয়ে দিত। আমিও নির্দ্বিধায় সব দায়িত্ব পালন করতাম। অবশ্য এই কাজগুলো করতে আমার খুবই ভালো লাগত। যার মাধ্যমে আমার স্বপ্নের অন্য একটি ধাপে পর্দাপণ করি সেটি হলো ‘ইভেন্ট ম্যানেজম্যান্ট’। নিজেকে একজন ফ্যাশন কোরিওগ্রাফারের পাশাপাশি একজন ইভেন্ট ম্যানেজার ভাবতে খুব ভালো লাগে। আমার একটি ইভেন্ট ম্যানেজম্যান্ট প্রতিষ্ঠান রয়েছে, নাম—অঙ্কুট।’ নিজের স্বাচ্ছন্দ্যবোধের কথা জানাতে গিয়ে সোহেল বলেন, ‘আমি এমবিএ করি ডেফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে। আমার মেজর সাবজেক্ট হলো হিউম্যান রির্সোস ম্যানেজমেন্ট। আর কোরিওগ্রাফি মানে অনেক জনকে লিড করা, অনেক পেশার মানুষের সাথে কাজ করা। সুতরাং একজন হিউম্যান রির্সোস স্টুডেন্ট হিসেবে আমি জানি কীভাবে মানুষকে লিড করতে হয়, কীভাবে মানুষের সাথে কাজ করতে হয়, কীভাবে মানুষের সাথে মেলামেশা করতে হয়। আমি আমার কাজে মডেল, ড্রেস ডিজাইনার, ডিজে , স্টেজ, লাইট সাউন্ড, সর্বোপরি আমার ক্লায়েন্ট সবাইকে নিয়ে একাগ্রতার সাথে কাজ করতে অনেক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি এই পেশায়।’ পেশা হিসেবে আমাদের দেশে কোরিওগ্রাফি কতটা উপযোগী এবং নতুনদের কাজ সম্পর্কে তার মূল্যায়ন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রথমে আমাদের দেশে এই ক্ষেত্রকে পেশা হিসেবে নেওয়াটা অনেক প্রতিকূল হলেও এখন পরিস্থিতির অনেক পরির্বতন হয়েছে এবং অনেকটা অনুকূলে এসেছে কাজের পরিবেশ। কারণ কাজের ক্ষেত্রটা অনেক বেড়েছে। আমার মনে হয় ভবিষ্যতে এ পেশা ব্যাপক সমাদৃত হবে। আর নতুনদের কাজের সম্পর্কে আমার মূল্যায়ন খুবই ভালো, তারা খুবই সচেতন, পরিশ্রমী এবং তাদের সঠিক চিন্তা-ভাবনা তাদের আগামীর পথ চলাকে সুগম করবে। নতুনদের প্রতি আমার পরামর্শ হলো তারা যেন কাজের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়। কাজকে যেন ভালোবাসে এবং মূল্যায়ন করে।’ সবশেষে তার ভবিষ্যত্ স্বপ্ন হলো একটি পারফেক্ট মডেলস গ্রুমিং সেন্টার, টোটাল ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড এজেন্সি সলিউশন প্রতিষ্ঠা করা। এ আজিজ সোহেল ডাক নাম :সোহেল জন্মতারিখ ও স্থান :২৩ মে, চট্টগ্রাম মায়ের নাম :নূর নাহার বেগম বাবার নাম :মোহাম্মাদুল আলম প্রথম স্কুল :বাঁশবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রিয় মানুষ :হযরত মোহাম্মদ (সা.) প্রিয় পোশাক :জিন্স, টিশার্ট অবসর কাটে যেভাবে :ঘুরে বেরিয়ে আর বন্ধুদের আড্ডায়। সাফল্যের সংজ্ঞা :নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস,অধ্যবসায় এবং হার না মানা পরিমিত পরিশ্রম। ---- বু ল বু ল টু ম্পা শুরুটা মডেলিং দিয়েই। এরপর নানা ধাপ অতিক্রম করে নিজেকে প্রমাণ করেছেন একজন যোগ্য কোরিওগ্রাফার হিসেবে। সৌন্দর্যবোধ তাকে বরাবরই টেনেছে। সেই থেকেই নিজের সৌন্দর্য এবং মেধাকে কাজে লাগিয়ে ক্যারিয়ারের পথটিকে করেছেন সুদৃঢ়। বলছিলাম প্রজন্মের মেধাবী কোরিওগ্রাফার বুলবুল টুম্পা সম্পর্কে। পরিচিতজনদের কাছে যিনি টুম্পা নামেই বেশিই পরিচিত। ২০০৫ সালে মডেলিংয়ের মাধ্যমে মিডিয়াপাড়ায় পা রাখেন তিনি। আট ভাইবোনের মাঝে সপ্তম টুম্পা বরাবরই ছিলেন একটু বেশি আদুরে। কেননা বাবা-মায়ের অনেক আকাঙ্ক্ষিত সন্তান ছিলেন তিনি। বাবা-মা দুজনেই পৃথিবী ছেড়েছেন এখন শুধুমাত্র তাদের স্মৃতিগুলোই জীবনের অন্যতম পুঁজি। নিজের চোখ সব সময় বিভিন্ন স্বপ্নের প্রলেপে ঢেকে রাখতে ভালোবাসেন তিনি। বাংলাদেশের প্রথম সারির তরুণ কোরিওগ্রাফারদের মধ্যে তিনি একজন। ইতোমধ্যে ব্যাপক সুনামের সঙ্গে কোরিওগ্রাফি করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। বাংলাদেশের প্রায় সব ফাইভ স্টারের শোতে তিনি কাজ করছেন। কোরিওগ্রাফিতে আসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতাম মিডিয়ায় কাজ করব। কিন্তু কোন মাধ্যমে কাজ করব এটা নির্দিষ্ট ছিল না। সেই থেকেই মডেলিং হিসেবে মিডিয়ায় কাজ শুরু করি।’ কিছুদিন মডেলিং করার পর টুম্পার আকর্ষণ বাড়ে কোরিওগ্রাফিতে। বেশ কিছু কোরিওগ্রাফারের সঙ্গে কাজ শুরু করেন তিনি। খুব অল্প সময়ের মধ্যে কোরিওগ্রাফি করাটা আয়ত্ত করে ফেলেন। এরপর সকলের প্রশংসা-উত্সাহেই তিনি কোরিগ্রাফিতে নিয়মিত হোন। কোরিওগ্রাফি পেশা হিসেবে কেমন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের দেশে কোরিওগ্রাফারদের চাহিদা বাড়ছে। ক্যারিয়ার হিসেবেও এর ব্যাপকতা বাড়ছে। কোরিওগ্রাফি করি মূলত নিজের ভালোলাগা থেকেই। তবে পেশা হিসেবেও মন্দ নয় এ ক্ষেত্রটি। এই পেশায় জনবলের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। নতুন প্রজন্ম এই পেশার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। বাংলাদেশে কোরিওগ্রাফির ভবিষ্যত্ অনেক ভালো।’ আর নতুনদের কাজের সম্পর্কে মূল্যায়নে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে মেধাবী ও সৃজনশীল কোরিওগ্রাফারদের সংখ্যাও কম নয়। তারা যথেষ্ট সহযোগিতা করছেন ভালো অনুষ্ঠান নির্মাণের ক্ষেত্রে। কোরিওগ্রাফারদের সেন্স বুঝে কাজ করতে পারাটা খুব দরকার। সবাই যখন সমন্বিতভাবে গুছিয়ে কাজ করবেন তখনই ভালো অনুষ্ঠান সৃষ্টি হবে। ভালোভাবে কাজ শিখে এই পেশায় এলে খুবই ভালো করবে তারা। নতুনদের প্রতি আমার পরামর্শ থাকবে তারা যেন আন্তরিকতার সাথে এই কাজটি শিখে নিজেকে সত্ভাবে উপস্থাপন করে, কেননা আমাদের দেশে মডেলিং নিয়ে একটি বিরূপ ধারণা রয়েছে। সেই ধারণাটি অনেক সময়ই কাজের উপর প্রেসার তৈরি করে। এ কারণেই এ ক্ষেত্রে নিজেকে সত্ রাখার ব্যাপারটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’ সবশেষে তার ভবিষ্যত্ স্বপ্ন সম্পর্কে বলেন, র্যাম্প ঘিরেই আবর্তিত হয় তার সব স্বপ্ন। বুলবুল টুম্পা ডাকনাম :টুম্পা জন্মতারিখ ও স্থান :১ জুন, ঢাকা। মায়ের নাম :মরহুম আনোয়ারা বেগম বাবার নাম :মরহুম আবদুর রউফ প্রথম স্কুল :মিরপুর বশিরউদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রিয় মানুষ :আমার পরিবারের প্রত্যেকেই। প্রিয় উক্তি :একটা সুন্দর মন সুন্দর মানুষ বানাতে পারে। প্রিয় পোশাক :শাড়ি, কুর্তা, সালোয়ার-কামিজ অবসর কাটে যেভাবে :ঘুমিয়ে সাফল্যের সংজ্ঞা :সত্ মনোভাব নিয়ে ভালোবেসে পরিশ্রম করলে সফলতা আসবেই। --- এ ড ল ফ খা ন নিজের চোখকে তিনি সব সময় বিভিন্ন স্বপ্নের রঙিন প্রলেপে আবৃত করে রাখেন। কিছু মানুষকে তিনি স্বপ্নকন্যা, রাজকুমার করে গড়ে তোলেন। ক্ষণিকতন্দ্রার মতো সেসব মানুষকে দেখলে অবাক হয় অন্য মানুষ। অতি বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকতে হয় তাদের দিকে। আর এ চোখ ধাঁধানো দৃশ্যের পেছনের কারিগর হচ্ছেন এডলফ খান। বাংলাদেশের প্রথম সারির তরুণ কোরিওগ্রাফারদের মধ্যে তিনি একজন। ইতোমধ্যে ব্যাপক সুনামের সঙ্গে কোরিওগ্রাফি করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। করেছেন বেশ কিছু অভিনয়ও। কোরিওগ্রাফিতে আসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতাম মিডিয়ায় কাজ করব। কিন্তু কোন মাধ্যমে কাজ করব এটা নির্দিষ্ট ছিল না। বছর পাঁচেক আগে মডেলিং হিসেবে মিডিয়ায় কাজ শুরু করি।’ কিছুদিন মডেলিং করার পর তার আকর্ষণ বাড়ে কোরিওগ্রাফির প্রতি। বেশকিছু কোরিওগ্রাফারের সঙ্গে কাজ শুরু করেন এডলফ। খুব অল্প সময়ের মধ্যে কোরিওগ্রাফি করাটা আয়ত্ত করে ফেলেন তিনি। ফ্যাশনে রবীন্দ্রনাথ বা উপন্যাস ধারণার প্রবর্তনটা তার হাত ধরেই। সেই উত্সাহেই তিনি কোরিগ্রাফিতে নিয়মিত হোন। এডলফ খান মনে করেন, একজন ভালো কোরিওগ্রাফারের প্রধান দক্ষতা হলো কোনো মিউজিককে সঠিকভাবে ভিজ্যুয়ালাইজ করে প্রয়োজনমতো স্টেপ ডিসাইড করা। তা ছাড়া কো-ড্যান্সারদের দিয়ে সঠিকভাবে স্টেপ তোলানো এবং করানোটাও তাদের দক্ষতার পরিচয় দেয়। গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে নতুন কিছু পরিবেশন করার দিকেও সব সময় লক্ষ থাকে কোরিওগ্রাফারদের। যেহেতু নাচ এক ধরনের ফিজিক্যাল এক্সারসাইজের মধ্যে পড়ে, তাই এই পেশায় আসতে গেলে ফিজিক্যাল ফিটনেসটা খুব প্রয়োজন। ফিট থাকলে ফ্লেক্সিবিলিটিও আসে, যা এই পেশার ক্ষেত্রে মূলমন্ত্র বলা চলে। যেহেতু একজন কোরিওগ্রাফারকে অনেকের সঙ্গে কাজ করতে হয়, তাই ইন্টারপার্সোনাল স্কিলও খুব জরুরি। এক্ষেত্রে কাজের সুযোগ কেমন আমাদের দেশে আছে জানতে চাইলে এডলফ বলেন, ‘পারফর্মার হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি প্রশিক্ষক হিসেবেও কাজ করা যায়। ফিল্ম ইন্ডাস্টিতে তো বটেই, আজকাল মিউজিক ভিডিও নির্মাণেরও হিড়িক পড়েছে। তাতে করে মিউজিক ভিডিও তৈরি করেও ভালো একটি ক্যারিয়ার গড়া যায়। আবার রিয়েলিটি শোও হতে পারে সুযোগ। বিভিন্ন ফিটনেস সেন্টারেও নাচের প্রচলন শুরু হয়েছে। আর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইভেন্টের পরিমাণ বেড়েছে আগের চাইতে অনেক বেশি। কোরিওগ্রাফারদের জন্য তাই কাজের সুযোগ অনেক। তবে কোরিওগ্রাফার হতে চাইলে প্রথাগত প্রশিক্ষণ থাকলে কাজের বাজারে বেশি কদর পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে কোনো প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বা একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। ক্লাসিক্যালের ক্ষেত্রে অবশ্য দীর্ঘদিনের প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। এডলফ ব্যক্তিগতভাবে একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার। তিনি কোরিওগ্রাফি ও মডেলিংয়ের সাথে সেটাও ধরে রাখতে চান সবসময়। তার ছেলেবেলা কেটেছে ঢাকাতেই। দুই ভাইয়ের মাঝে তিনি বড়। সরকারি কর্মকর্তা বাবা আর গৃহিণী মায়ের সংসারে আদরেই কেটেছে তার শৈশব। তাদের হাত ধরেই আমাদের ফ্যাশন জগত্ আরও সুনাম কুড়াবে দিনকে দিন, সেই প্রত্যাশা। এডলফ খান ডাকনাম :এডলফ জন্মতারিখ ও স্থান :৬ সেপ্টেম্বর, ঢাকা। মায়ের নাম :হোসনে আরা খান বাবার নাম :আব্দুস শহীদ খান প্রথম স্কুল :গভ. ল্যাবরেটরি হাইস্কুল প্রিয় মানুষ :মা প্রিয় উক্তি :ভালোবাসলেই ভালোবাসা পাওয়া যায় প্রিয় পোশাক :ওয়েস্টার্ন অবসর কাটে যেভাবে :গান শুনে, ফেসবুকে সাফল্যের সংজ্ঞা :সততা আর নিষ্ঠার সাথে কাজ করা ---- গৌ ত ম ক র বড় ভাই এবং ভাবি দুজনেই মিডিয়ার সাথে জড়িত, সেই সুবাদে তাদের হাত ধরেই তার মিডিয়ায় আগমন। নিজের মেধা এবং যোগ্যতা দিয়ে পাকাপোক্ত করেছেন নিজের অবস্থান। নিজেকে পৌঁছে দিয়েছেন একজন সফল শিল্প নির্দেশক হিসেবে। বলছিলাম প্রজন্মের মেধাবী জন গৌতম কর সম্পর্কে। এখন পর্যন্ত অনেকগুলো বিজ্ঞাপন, টেলিফিল্মের শিল্প নির্দেশনার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এর মধ্যে নাটক ‘ভালোবাসি তাই ভালোবেসে যাই’ উল্লেখ্যযোগ্য, এ ছাড়া তিনি একটি চলচ্চিত্রেরও শিল্প নির্দেশনার কাজ করেছেন নাম ‘হ্যালো অমিত’। চট্টগ্রামের বোয়ালখালি উপজেলার সারওয়াতলি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছেন গৌতম কর। তার শৈশব এবং কৈশোরের দিনগুলো গ্রামেই কেটেছে। বাবা ব্যবসা করতেন। বাবা-মা, দুই ভাই, দুই বোন নিয়ে ছিল গৌতমের পারিবারিক আবহ। এ ছাড়া তার প্রতিটি কাজের অনুপ্রেরণা যার থেকে পেয়েছেন তিনি প্রিয়জন ফারজানা সান। এই পেশা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনা, শিল্প-নির্দেশনা ও ডিজাইন নতুন একটি ধারার সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে এটি একটি খুবই আকর্ষণীয় একটি পেশা। কয়েক বছর ধরে এ ধরনের কাজের ক্ষেত্রগুলো অল্পবিস্তর তৈরি হতে হতে এখন বেশ ভালো একটি জায়গা করে নিয়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে কাজের বিস্তৃতিও। দেশে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট বা অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনা, শিল্প-নির্দেশনা ও ডিজাইন পড়ানো হয়। এর ওপর বিভিন্ন ডিপ্লোমা কোর্সও আছে। দেশের বাইরেও এসব বিষয়ের ওপর পড়ালেখা করার সুযোগ রয়েছে। তবে দেশেও এখন আন্তর্জাতিক মানের লেখাপড়া হচ্ছে। অনেকেই ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান করিয়ে থাকেন। সুতরাং, এ ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ দিন দিন বাড়ছে। আর আর্ট ডিরেকশনের কাজ করতে গেলে আপনি কিন্তু প্রথমেই তা করতে পারবেন না। ডিরেক্টর বা পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করে করে ধীরে ধীরে এ কাজ শিখতে হয়। এ জন্য বেশ পড়াশোনারও দরকার পড়ে। তবে এ কাজ করে আপনি আনন্দ পাবেন তা নিশ্চিত।’ নতুনদের সম্পর্কে তার মূল্যায়ন হানতে চাইলে তিন বলেন, ‘নতুনরা খুবই মেধাবী। বর্তমানে তাদের কাজের ক্ষেত্রটি অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। তবে সুযোগও বেশি।’ তিনি মনে করেন, ‘অভিজ্ঞতার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার দরকার আছে। এই যে আমাদের দেশে সম্পাদনার একটা গতানুগতিক ধারা চলছে তা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অভাবে। নিয়ম না জানলে সেটা ভাঙ্গবেন কেমন করে? মিডিয়া এখন একটা ধারার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। তার সাথে আপনাকে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। এ পেশায় পরিশ্রমের সাথে নিজের মেধাকে কাজে লাগানো অপরিহার্য। এর জন্য মানসিকভাবে নিজেকে তৈরি করতে হবে। নিজের কাজের প্রতি ভালোবাসার পাশাপাশি আনতে হবে মৌলিকত্ব। নিজের কাজে নিজস্বতার ছাপ রাখতে হবে।’ সবশেষে তার ভবিষ্যত্ স্বপ্ন এই শিল্প নির্দেশনাকে ঘিরেই। শুধু পেশা হিসেবেই নয়, নিজের নেশা হিসেবেও তিনি এই সৃজনশীল পেশায় নিজেকে আরও সফল করতে চান। গৌতম কর নাম :গৌতম কর ডাকনাম :গৌতম জন্মতারিখ ও স্থান :১০ অক্টোবর, চট্টগ্রাম। মায়ের নাম :ছবি রানী সরকার বাবার নাম :সম্ভুনাথ কর প্রথম স্কুল :পূর্ণ চন্দ্র সেন সারদা উচ্চ বিদ্যালয় প্রিয় মানুষ :আমার বড় ভাই লিটন কর প্রিয় পোশাক :টিশার্ট অবসর কাটে যেভাবে :ফেসবুক করে এবং ডিজাইন করে সাফল্যের সংজ্ঞা :পরিশ্রমই সাফল্যের মূল কথা।