বিশ্বের অনেকগুলো পেশার মধ্যে কোরিওগ্রাফির জগতটা একটু অন্য রকম। ক্রিয়েটিভ এই পেশাটির সাথে আর্টের এক অদ্ভুত সম্পর্ক আছে। অনেক মুভিতেই গল্প কিংবা গানের পাশাপাশি ভালো লাগে ড্যান্স স্টেপগুলো। মুগ্ধ করে দেওয়া এই ড্যান্স স্টেপগুলোর পেছনে কাজ করে কিছু মেধাবী তরুণ-তরুণী। ক্রিয়েটিভিটি দিয়ে বিশ্বের বুকে জায়গা করে নেওয়া এমন কিছু মেধাবীদের নিয়ে এ আয়োজনটি করেছেন
প্রাঞ্জল সেলিম
ফা রা হ খা ন
পরিচালক ফারাহ খানের সাথে কম বেশি আমাদের সবারই পরিচয় আছে। ভিন্নধর্মী নানা রকম গল্প নিয়ে কাজ করায় তার কোনো জুড়ি নেই। তবে তার আরও একটি পরিচয় অনেকের কাছেই অজানা, আর তা হলো তিনি একজন কোরিওগ্রাফারও। ‘ম্যায় হু না’, ‘ওম শান্তি ওম’ এবং ‘তিস মার খান’র নির্মাতা ফারাহ খান আমির খান প্রযোজিত ‘দিল্লি বেলি’ চলচ্চিত্রের একটি গানের কোরিওগ্রাফি করেছেন। প্রায় ৮০টারও বেশি হিন্দি সিনেমাতে তার কোরিওগ্রাফির নজির পাওয়া যায়। মুম্বাইয়ের সেন্ট এক্সেভিয়ার কলেজ থেকে পড়াশোনার পাঠ শেষ করেন। পড়াশোনা শেষে একটি গ্রুপ জয়েন করেছিলেন। সেখানে সজল খান নামের একজন চলে যাওয়ায় ব্রেক পেয়ে যান ক্যারিয়ারে।
---
হে তা ল
ছোট পর্দায় নানা ধরনের সিরিয়ালের মধ্যে লাইফ ওকে চ্যানেলে বেশ কিছুদিন ধরে একজনের নাম শোনা যাচ্ছে—হেতাল। তিনি একাধারে একজন অভিনয় শিল্পী এবং সম্প্রতি তার আরও একটি গুণের কথা জানা গেছে যে তিনি একজন কোরিওগ্রাফারও। লাইফ ওকে চ্যানেলের সিরিয়ালটিতে আরও অভিনয় করছেন সুকৃতি কা-পাল এবং গৌরব এস বাজাজ। ম্যাকাও, ব্যাংকক এবং সিঙ্গাপুরের লোকেশনে সিরিয়ালটির কিছু আউটডোরের শুটিং হয়েছে। পাশাপাশি সিরিয়ালের অর্ধেকের বেশি শিল্পী মুম্বাইতে বাকি শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন। মুম্বাই অংশের শুটিংয়ে একটি নাচের দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে।
----
ক্রি স্টো ফা র স্ক ট
বিখ্যাত ড্যান্স মুভি ‘স্টেপ আপ’-এর কথা তো সবারই জানা। বিশেষ করে ড্যান্সপ্রেমীদের কাছে এই সিনেমা অনেক আকর্ষণীয়। ‘স্টেপ আপ’-প্রেমীদের জন্য মজার খবর হলো, সিনেমাটির কোরিওগ্রাফার নিজেও সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন। ক্রিস্টোফার স্কট, একই সাথে একজন অভিনেতা এবং কোরিওগ্রাফার। তিনি বেশকিছু ড্যান্স রিলেটেড সিনেমাতে অভিনয় করেছেন। তবে তার অভিনীত ‘স্টেপ আপ টু’ এবং ‘স্টেপ আপ থ্রিডি’ বেশি জনপ্রিয়। সিনেমাটোগ্রাফার হিসেবে তিনি একবার ৮২তম একাডেমী পুরস্কারও পেয়েছেন। এ ছাড়াও তিনি ডিজনি চ্যানেলের আয়োজিত, ‘সো ইউ থিংক উই ক্যান ড্যান্স’ শো-তে ছিলেন। ২০১২ সালে তিনি ‘মিস্টি ব্লু’ এবং ‘ভেলোসিটি’ ড্যান্স সেসনের জন্য এমি পুরস্কারের নমিনেশন পান। তিনি হিপ হপ টাইপের ড্যান্স বেশি পছন্দ করেন।
--
ট ম ফো র্ড
তিনি বেশি পরিচিত আমেরিকান ফ্যাশন ডিজাইনার ও ফিল্ম ডিরেক্টর হিসেবে। তার ঝুলিতে গুচি ফ্যাশন হাউসের মতো বড় বড় হাউসের চুক্তি রয়েছে। তিনি বেশ কয়েকবার অস্কার মনোনায়নও পেয়েছেন। বিখ্যাত এই ব্যক্তিত্বের জন্ম ২৭ আগস্ট। তিনি টেক্সাসের অস্টিনে জন্ম নেন এবং সেখানেই তার শৈশব ও কৈশোর পার হয়। এরপর তিনি তার পরিবারসহ আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলসে চলে আসেন। সেখানে তিনি সেন্ট মাইকেল হাইস্কুলে ভর্তি হন। তার বয়স যখন ১১ বছর, সে সময় থেকেই তিনি কোরিওগ্রাফি নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন এবং ড্যান্স শেখেন। পড়াশোনার পাঠ শেষ করেই মিডিয়াতে কাজ শুরু করেন।
----
পে নি ফে লি য়া
প্যারিসে জন্ম হলেও বর্তমানে তিনি নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা। তিনি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় কোরিওগ্রাফির জন্য। প্যারিসের অধিবাসী হলেও তিনি আমেরিকান পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন। তার পরিবার অবশ্য এখন প্যারিস শহরেই বাস করছেন। তার বাবা ও মা একটি মেডিসিন কোম্পানিতে কাজ করেন। তাদের দুটি সন্তানের মধ্যে একটি হলেন এলি এবং অপর জন কেনেথ। তিনি চ্যাপিন স্কুলে পড়াশোনা শুরু করেন। সেটা গিয়ে শেষ হয় ইউনিভার্সিটি অব প্যারিসে গিয়ে। তিনি ফ্যাশন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। তবে কোরিওগ্রাফি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ থাকায় কোরিওগ্রাফি নিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। বেশ কিছু সিনেমাতে কোরিওগ্রাফার হিসেবে কাজ করলেও তিনি মূলত টেলিভিশন সিরিজে নিয়মিত কোরিওগ্রাফারের কাজ করেন।
