নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের জামির বাড়ি গ্রামের মোঃ তছির উদ্দিনের পুত্র জাহাঙ্গীর আলম (২৬)। সে রানা প্লাজার ৩ তলায় কাজ করতো। তার অভিভাবকরা তাকে খুঁজছে জীবিত অথবা মৃত। জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার আগে শেষ বারের মতো তার মাকে ফোনে বলেছেন মা আমি ভালো আছি। আমার জন্য কোন চিন্তা করো না। আমি ২৭ বৈশাখের আগে বেতন নিয়ে বাড়ি ফিরবো। তোমরা ভালো থেকো। তার মা আয়শা বেগম কাঁদতে কাঁদতে সাংবাদিকদের এ কথাগুলি বলছেন। ২৪ এপ্রিল সকালে রানা প্লাজা ধসের কিছুক্ষণ আগে মোবাইল ফোনে এসব কথা হয় তার ছেলে জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে। ২ বোন ও ১ ভাইয়ের মধ্যে জাহাঙ্গীর আলম সবার বড় ও একমাত্র উপার্জনক্ষম। এখন পর্যন্ত জাহাঙ্গীর আলমের কোন সন্ধান পাওয়া না যাওয়ায় তার মায়ের আর্তনাতে ভারি হয়ে উঠেছে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার জামির বাড়ি গ্রাম। মা বিলাপ বকছেন আর বার বার বলছেন, আমার বুকের ধন ফিরে আসবে আমার কাছে। জাহাঙ্গীর আলমের বাবা মোঃ তছির উদ্দিন অশ্রুভরা চোখে বলেন, আল্লাহ আমাকে নিয়ে আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দাও। এখন আমাদের পরিবার চলবে কি করে। তিনি ক্ষোভে আরো বলেন, রানা প্লাজা ধস এটা একটা হত্যাকাণ্ড। রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা ও এর সাথে জড়িতদের সবার ফাসি দেয়ার সরকারের প্রতি আহবান জানান।
