পিতার কাঁধে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরল রেবা

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৫৬
পিতার দেনা (ঋণ) শোধের দায়ভার কাঁধে নিয়ে রেবা নিজেই পিতার কাঁধে লাশ হয়ে ফিরে এলো নিজ বাড়ি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার পূর্ব দামোদরপুর গ্রামে। বাকরুদ্ধ পিতা শাহজালাল নিথর হয়ে লাশের পাশে বসে আছেন। মা রহিমা বেগম বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন। গত বৃহস্পতিবার রেবা খাতুনের লাশ সাভার থেকে গ্রামে নিয়ে আসার খবর শুনে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এ দৃশ্য। হতদরিদ্র শাহজালাল মিয়ার ৪ মেয়ে। শাহানা, রেহেনা, রেবা ও রোকসানা। শাহানার পর রেহেনার সম্প্রতি বিয়ে দিয়ে তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। গ্রামেও প্রতিদিন কাজকর্ম জোটে না। তাই প্রতিবেশি জয়নালের হাত ধরে গত ৮ মাস আগে সপরিবারে ঢাকার সাভারে যান। শাহজালাল সাভারের সিটি সেন্টারের নাইট গার্ড হিসাবে ৬ হাজার টাকা মাসিক বেতনে কাজ পান। স্ত্রী বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে ঝি’র কাজ নেন। কিন্তু তারপরও সাভারের ঈমানদি এলাকায় ২ হাজার টাকা বাসা ভাড়া দেয়ার পর দেনা শোধ তো দূরের কথা সংসারই চলে না ঠিকমতো। তাই পিতাকে সাহায্য করতে রেবা খাতুন ৬/৭ মাস পূর্বে রানা প্লাজায় মাত্র ৩ হাজার টাকা বেতনে গার্মেন্টসে কাজ নেয়। শাহজালাল জানান, মেয়েকে এ বয়সে গার্মেন্টসে কাজ করতে দেয়ার পক্ষে ছিলেন না তিনি। “বাবা তোমার দেনা শোধ হলে না হয় কাজ বাদ দিয়ে দিব।” মেয়ের এমন আবদার আর দেনার (ঋণ) কথা চিন্তা করে রাজি না হয়ে উপায়ও ছিল না তার। দেনার (ঋণ) সাথে কাঁধে তার সন্তান যে লাশ হয়ে সাওয়ার হবে কখনও হয়তো এ কল্পনা তিনি করেননি?