বকশীগঞ্জে শিশুসহ ৪ পরিবার দেড়মাস যাবৎ অবরুদ্ধ

আপডেট : ০৮ মে ২০১৯, ১৬:২৪

বকশীগঞ্জ পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে চার পরিবারে শিশুসহ ১৫ জন অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। প্রতিবেশি লোকজন চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় দেড়মাস যাবৎ তারা অবরুদ্ধ জীবন যাপন করছেন। পরিবারের সদস্যরা স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছেন না। 

জানা গেছে, বকশীগঞ্জ পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে বড় মসজিদ এলাকায় হামিদুর রহমান, ওমর আলী ও হানিফ মিয়া ১১শতক জমি কিনে বসতবাড়ি করেন। নারী ও শিশুসহ ২০ জন লোক একই বাসাতে ৪০ বছর যাবৎ বসবাস করে আসছেন। হামিদুর রহমান গং এর বাসার উত্তরে বিশাল পুকুর। দক্ষিণে শুক্কর আলীর বসত বাড়ি, পূর্বে কালো মিয়ার বসতবাড়ি ও পশ্চিমে রবি সাহার বসতবাড়ি। তিন পাশে বাউন্ডারি ওয়াল করে প্রতিবেশিরা বসত বাড়ি নির্মাণ করেছেন। তিন পাশে চলাচলের রাস্তা বন্ধ হওয়ায় প্রতিবেশি আলাল মিয়ার বাসবাড়ির ভেতর দিয়ে নিজ বাসাবাড়িতে চলাচল করতেন। দেড়মাস আগে আলাল মিয়াও চলচলের রাস্তা বন্ধ করে দেন। ফলে বাসার ভেতরে থাকা শিশু, নারীসহ ১৫ জন লোক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। তারা নিজ বাসা ছাড়া কোথাও চলাচল করতে পাড়ছেন না। ওই ৩ পরিবারের শিক্ষার্থীরাও নিজবাসা থেকে স্বাভাবিকভাবে বের হয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছেন না। শিশুসহ বাসার বৃদ্ধ লোকজন ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছেন।

এ ব্যাপারে ১৭ মার্চ দৈনিক ইত্তেফাকে একটি সচিত্র সংবাদ প্রকাশের পর বকশীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম সওদাগরের হস্তক্ষেপে প্রতিবেশিরা চলাচলের রাস্তা খুলে দেন। কিন্তু ১৫ দিন পর আবারও হামিদুর পরিবারের চলাচলের রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে আবারও অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে হামিদুর রহমান পরিবারের ১৫ জন লোক। 

অবরুদ্ধ পরিবারের পক্ষে হামিদুর রহমান জানান, আমরা তিন ভাই যৌথভাবে বাড়ি করার জন্য ৯শতক জমি কিনেছি এবং রাস্তার জন্য ২ শতক জমি কিনেছি। কিন্তু প্রতিবেশিরা রাস্তার ২ শতক জমি বেদখল দিয়ে আমাদের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। রাস্তার জন্য কেনা জমি উদ্ধার হলেই আমাদের পরিবারের জন্য স্থায়ী সমাধান হবে।

আরও পড়ুন: কারাগারে দগ্ধ আইনজীবীর মৃত্যু, বিচারিক তদন্তের নির্দেশ

হামিদুর রহমান জানান, গত প্রায় দুই মাস পূর্বে বিষয়টি বকশীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পৌর মেয়র ও থানা পুলিশকে লিখিতভাবে অবহিত করেছি। কিন্তু কোনো সমাধান পায়নি।    

বকশীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম সওদাগর জানান, হামিদুরের পরিবারের প্রতি প্রতিবেশিরা অমানবিকভাবে আচরণ করে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য আলোচনা চলছে।সমাধানও হবে।  

ইত্তেফাক/কেকে