গল্প নয় সত্যি

অনলাইনে কেনা, অনলাইনেই যাচাই

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০১৩, ২০:০২
প্রযুক্তির বিশ্বায়নের এই যুগে নানা কাজে মানুষের প্রযুক্তি নির্ভরতা যেমন বাড়ছে তেমনি পরিবর্তন আসছে মানুষের কেনাকাটার ধরনেও। বিশেষ করে হাল আমলে পাশ্চাত্য বিশ্বের অনেক ব্যস্ত ক্রেতাই সরাসরি বিভিন্ন দোকানে ঢুঁ না মেরে অনলাইনেই কেনাকাটার কাজটি সেরে নেন। তবে অনলাইন কেনাকাটার এই তালিকায় পোশাক কেনার কাজটি করতে যেয়ে অনেককেই নানা বিপত্তিতে পড়তে হয়। কখনও হয়তো অনলাইনে কেনা পোশাকটি বাড়িতে ডেলিভারি দেওয়ার পর সেটিকে আর ততটা ভালো লাগে না। আবার কখনও বা বিপত্তি দেখা দেয় পোশাকের আকৃতি নিয়ে। বিশেষ করে কোন পোশাকটি কাকে কতটা মানাবে কিংবা কোনটি শরীরের আকারের সাথে কতটা মানানসই হবে সেটি সরাসরি দোকানে হাজির হয়ে যেভাবে যাচাই করা যায় অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রে সেটি পাওয়া যায় না। আর এ কারণেই অনলাইনে বিক্রি হওয়া পোশাকগুলো প্রায়ই পাল্টে নেওয়ার জন্য আবেদন করেন ক্রেতারা। মজার বিষয় হলো, প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে কেনাকাটা করার ক্ষেত্রে আলোচিত এই সমস্যাটির একটি চমত্কার সমাধানও এবার বাতলে দিয়েছে নতুন আরেকটি প্রযুক্তি। এর ফলে বিশেষ একটি সফটওয়্যার ব্যবহার করে এখন ক্রেতারা অনলাইনের কোনো একটি পোশাক তাকে কতটা মানাবে বা এটি তার ফিট হবে কি না সেটি জেনে নিতে পারবেন। ম্যাজিক মিরর নামের এই অবাক করা সফটওয়্যারটি কম্পিউটারের সামনে বসে থাকা ক্রেতার দেহাবয়বের একটি প্রতিলিপি তৈরি করে। এরপর কোনো একটি পোশাক নির্বাচন করার পর সেটি পড়লে কেমন দেখাবে বা এটি ফিট হবে কি না সেগুলোও কাল্পনিক প্রতিলিপির মাধ্যমে জানিয়ে দিতে পারে এই সফটওয়্যারটি। এ ছাড়া কম্পিউটারের সাথে যুক্ত ওয়েব ক্যামেরার সাহায্যে কাজ করা এই সফটওয়্যারটি ক্রেতার প্রতিটি নড়াচড়াও অনুকরণ করতে পারে বলে ক্রেতা সামনে, পেছনে বা যেকোনো পাশ থেকে পোশাকটি তাকে কেমন দেখাবে সে সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন। এমনকি কোনো একটি পোশাক পড়ার পর চুলের স্টাইল বা মেকাপে পরিবর্তন আনলে পোশাকটি তাকে কতটা মানাবে সেটিও দেখিয়ে দিতে পারে এই সফটওয়্যারটি। ‘ম্যাজিক মিরর’-এর নির্মাতাদের আশা এই সফটওয়্যারটির আরও কিছু উন্নয়ন ঘটানোর পর কার্যত দোকানে যেয়ে পোশাক কেনার প্রয়োজনই অনেকাংশে ফুরিয়ে যাবে।