খুলনার সরকারি জুটমিলগুলো লোকসানের ঘানি টানলেও ব্যক্তি মালিকানাধীন মিলগুলো ফি বছর লাভের মুখ দেখছে। বিদ্যুত্ সমস্যা লাঘব এবং পর্যাপ্ত কাঁচামাল ও দক্ষ শ্রমিকের যোগান নিয়মিত পেলে বেসরকারিভাবে পরিচালিত এই জুট মিলগুলো দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এক সময়ের শিল্প নগরী হিসাবে খ্যাত খুলনায় ব্যক্তি মালিকানাধীন জুট মিলের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। গত কয়েক বছরের ব্যবধানে এখানে গড়ে উঠেছে ১৪টি নতুন জুট মিল। বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স মালিক সমিতির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে ১২৮টি জুট স্পিনিং মিল রয়েছে। এছাড়াও আরও ৩০টির মত মিল রেজিস্ট্রেশন পাওয়ার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর মধ্যে খুলনা জোনে রয়েছে ৫১টি। যার ১৪টিই আবার খুলনা জেলায়। পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানিতে বেসরকারি মিলগুলো দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে। এর মধ্যে ২০০৫-০৬ অর্থ বছরে পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি করে ২ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকার মধ্যে বেসরকারি খাতে আয় হয়েছে ১ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। ২০০৬-০৭ অর্থ বছরে ৩ হাজার ৭০ কোটি টাকার মধ্যে ১ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা এসেছে এ খাত থেকে। এছাড়াও ২০০৭-০৮ অর্থ বছরে ৩ হাজার ৫৪২ কোটি টাকার মধ্যে ১ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা, ২০০৮-০৯ অর্থ বছরে ৩ হাজার ২৬০ কোটির টাকার মধ্যে ১ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা, ২০০৯-১০ অর্থ বছরে ৫ হাজার ৬৯ কোটি টাকার মধ্যে ২ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকা এবং ২০১০-১১ অর্থ বছরে ৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকার মধ্যে বেসরকারি জুট মিল রফতানি করেছে ৩ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকার পাটজাত পণ্য।
সূত্র জানায়, এসব পাটজাত পণ্য এখন মধ্যপ্রাচ্যের বাজার ছাড়িয়ে ইউরোপের বাজারগুলোও দখল করেছে। ইরান, তুরস্ক, লিবিয়া, সিরিয়া ছাড়াও বেলজিয়াম, স্পেন, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের পাটজাত পণ্য ও সুতার চাহিদা রয়েছে। রফতানিকৃত পণ্যের মধ্যে সুতা, কার্পেট, ওয়ালমেট, ব্যাগ, বস্তা উল্লেখযোগ্য।
তবে মিল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, বিদ্যুত্, পর্যাপ্ত কাঁচামাল ও দক্ষ শ্রমিকের অভাবে অনেক সময় চাহিদা থাকলেও বিদেশের বাজারে পণ্য সরবরাহ সম্ভব হয়ে ওঠে না।
সালাম জুট মিলের প্রকল্প ব্যবস্থাপক বশির আহমেদ বলেন, বিদ্যুত্ সমস্যাই এখন প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গরম মৌসুমে লোডশেডিংয়ের কারণে মিল বন্ধ রাখতে হয়। ৭ টাকায় এক ইউনিট বিদ্যুত্ খরচ করে যে পরিমাণ সুতা প্রস্তুত হয়, বিকল্প ব্যবস্থায় জ্বালানি তেল ব্যবহার করে সেই পরিমাণ সুতা তৈরিতে খরচ হয় ২৫ টাকা। ফলে টার্গেট অনুযায়ী পণ্য সঠিক সময় সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। মুন স্টার মিল ম্যানেজার মোঃ ফারুক হোসেন বলেন, বীজ, সার, কীটনাশকসহ চাষাবাদে খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এতে করে স্থানীয়সহ আন্তর্জাতিক বাজারে মার খাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তিনি সার বীজসহ কৃষিজ পণ্যের দাম কমানোর জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।
