নববধূকে ঘরে তোলা হলো না হাফিজুরের। তার আগে রানা প্লাজার মৃত্যুপুরী থেকে লাশ হয়ে বাড়িতে ফিরতে হলো তাকে।
২০০৮ সালে আপন মামাতো বোন রূপালীকে স্কুল জীবনে বিয়ে করেন উপজেলার সাপখাওয়া সালাভুরি গ্রামের হাসেন আলীর ৩য় পুত্র হাফিজুর রহমান তুহিন। পরিবার প্রেমঘটিত বিয়ে মেনে না নেয়ায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে রানা প্লাজার ৪ তলার গার্মেন্টসে কোয়ালিটি সুপারভাইজার পদে চাকরি নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করেন। রোজার ঈদে শেষবার বাড়িতে এসেছিলেন, আর সময় হয়নি। মোবাইলে কথা হতো মাঝে মাঝে পরিবারের সাথে। ইচ্ছে ছিল এবারে বাড়িতে এসে বাবা মাকে বুঝিয়ে বউকে ঘরে তুলবেন। রানা প্লাজায় শেষবারের মতো ঢোকার আগে কথা হয় পরিবারের সাথে। সেদিন ছোট্ট ভাতিজা নাঈমকে কথা দিয়েছিলেন একটা সাইকেল কিনে আনবেন, সেই সাইকেলে চড়ে নাঈম স্কুলে যাবে। একমাত্র অসুস্থ ছোট বোন হাসনা বানুর চিকিত্সার জন্য মাকে তাড়া দিয়ে বলেছিলেন টাকার চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি! তাই তিনি টাকা পাঠাবেন বোনের চিকিত্সার জন্য যাতে কোন ব্যাঘাত না ঘটে। ছোট বোনকে বলেছিলেন, দুপুরের খাবার বিরতিতে এসে বাকি কথা বলবেন। আর কথা হয়নি রানা প্লাজায় ঢোকার পর পরই সেটি বিধ্বস্ত হয়।
টেলিভিশনে খবর দেখে মামা আতাউর, চাচা আজিজুর রহমান সাভারে গেছেন। দাঁড়িয়ে দেখেছেন শত শত আহত নিহত মানুষকে উদ্ধার করা। যখনি কাউকে বের করতে দেখেছেন দৌড়ে ছুটে গেছেন দেখতে কিন্তু দেখা পাননি হাফিজুরের। অবশেষে ৪ দিন পর তার লাশ স্বজনরা অধর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শনাক্ত করে গত রবিবার বাড়িতে নিয়ে আসে। হাফিজুরের অন্যরকম বাড়ি ফেরায় তার নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন স্বজনরা। লাশে পচন ধরায় গত রবিবার প্লাস্টিক দিয়ে মুড়িয়ে দাফন করা হয়েছে বাড়ির আঙিনায় দাদার কবরের পাশে।
