অশান্ত হয়ে উঠছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. এ আর এম মোস্তাফিজার রহমান লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগী শিক্ষকের পদোন্নতির দাবিতে গতকাল সোমবার ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ফায়েক উজ্জামানকে তার কার্যালয়ে ১ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এদিকে শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় ইংরেজি বিভাগের শিক্ষকরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করছেন। বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত গ্রুপের শিক্ষক ড. এ আর এম মোস্তাফিজার রহমান গ্রুপ অবস্থান কর্মসূচি এবং একই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রফেসর ড. আহমেদ আহসানুজ্জামাস গ্রুপ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেন।
গত শুক্রবার নগরীর নিরালা আবাসিক এলাকায় জুমার নামাজ পড়ে বাড়ী ফেরার পথে দুই দুর্বৃত্তের হাতে লাঞ্ছিত হন খুবি শিক্ষক মোস্তাফিজার রহমান। এ ঘটনার জন্য তিনি একই বিভাগের শিক্ষক আহমেদ আহসানুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। মোস্তাফিজার রহমান বলেন, তার ওপর হামলাকারী ও হামলার নেপথ্যে জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতির দাবিতে শিক্ষকরা গতকাল সোমবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেটে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ করে। পরে একই দাবিতে বেলা ১২টার দিকে তারা ভিসির কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রাখে। বেলা ১টা পর্যন্ত তারা ভিসিকে অবরুদ্ধ করে রাখে। অপর গ্রুপের শিক্ষক আহমেদ আহসানুজ্জামান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মোস্তাফিজার লাঞ্ছিত হওয়ার সঙ্গে তার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। হামলাকারী যেই হোক তাকে গ্রেফতার করে শাস্তির দাবি জানান তিনি। গতকাল সোমবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি এ দাবি জানান। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি এবং অন্যান্য বিভাগের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। এ ব্যাপারে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান জানান, শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনাটির সুষ্ঠু সমাধানের বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষক মোস্তাফিজার রহমানকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেয়ার পরও তিনি এখন পদোন্নতি দাবি করছেন। পদোন্নতি একটি প্রক্রিয়াগত বিষয়। যে কেউ বলার সাথে সাথে তাকে পদোন্নতি দেয়া সম্ভব নয়। এরপরও তারা আমার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে আমাকে অবরুদ্ধ রেখে মাইক লাগিয়ে সমাবেশ করেছেন। এতে প্রশাসনিক কাজে বিঘ্ন ঘটেছে।
