দেশের সব কারখানার অবকাঠামো ও কমপ্লায়েন্স পরীক্ষা করতে ছয় বা সাত সদস্য বিশিষ্ট এলাকাভিত্তিক টাস্কফোর্স গঠন করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন (বিইএফ)। টাস্কফোর্সগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের সব কারখানা পরিদর্শন করে ঝুঁকিপূর্ণ ও কমপ্লায়েন্সহীন কারখানাগুলো চিহ্নিত করলে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তাছাড়া সারা দেশে যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে তাও কমে আসবে। তবে শ্রমিক নিরাপত্তার বিষয়ে শিল্প মালিকদেরও দায়িত্ববান হওয়ার আহবান জানিয়েছে বিইএফ।
সোমবার বিইএফ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান বিইএফ প্রেসিডেন্ট মো. ফজলুল হক। এ সময় বিইএফ’র সাবেক প্রেসিডেন্ট কামরান আহমেদ, সদস্য গোলাম মাঈনুদ্দিন, শাহ আলমসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
ফজলুল হক বলেন, এলাকাভিত্তিক টাস্কফোর্স গঠন করা যেতে পারে। টাস্কফোর্সের সদস্য হিসেবে প্রকৌশলী, শ্রমিক বিশেষজ্ঞ, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক পক্ষের লোক থাকতে পারে। শ্রমিক নিরাপত্তাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া প্রতিটি মালিকেরই দায়িত্ব। তাই নিজ নিজ উদ্যোগে সব মালিক সচেতন ও দায়িত্ববান না হলে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ বা অন্যরা এর সঠিক সমাধান করতে পারবেন না। সাভারের ভবন ধসের ঘটনায় যারাই দোষী হোক তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রানা প্লাজার ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রসঙ্গে ফজলুল হক বলেন, ভবন ধসে যারা নিহত হয়েছেন তাদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে হবে। যারা আহত বা পঙ্গু হয়েছেন তাদের উপযুক্ত কাজে অংশগ্রহণ করানোর পাশাপাশি তাদের পরিবারের কর্মক্ষম সদস্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে হবে। এক্ষেত্রে স্বল্প ও মধ্যম মেয়াদী কিছু পরিকল্পনা নেয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে সাভার ট্রাজেডিকে কেন্দ করে সারা দেশে যেন উত্পাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত না হয় সে দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প বড় ধরনের সঙ্কটের মধ্যে পড়ে গেছে। এ অবস্থায় এ খাতটিকে বাঁচিয়ে রাখতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
ফজলুল হক বলেন, ঢাকায় ৮ তলার উপরে কোথাও আগুন লাগলে তার জন্য যে মই লাগে তা আমাদের নেই। ঢাকার বাইরে তিন থেকে চার তলার উপরে ওঠার মতো মইও নেই। এসব বিষয়ে সরকারের নজর দেয়া প্রয়োজন।
