সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের ভবনের নকশা অনুমোদনের ক্ষমতা রহিত করা হচ্ছে। এ জন্য নতুন একটি আইন করা হবে। আইনের অধীনে পৃথক অনুমোদন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ গঠিত না হবে ততদিন সকল জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত কমিটি অনুমোদন দেবে। এ ধরনের কর্তৃপক্ষের অধিক্ষেত্র বহির্ভূত এলাকায় জেলা পরিষদকে এ অনুমোদনের ক্ষমতা দেয়া হবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ গতকাল এক চিঠিতে সকল ইউনিয়ন পরিষদকে ভবনের নকশা অনুমোদন থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে। বলা হয়েছে, আইনে ক্ষমতা না থাকলে বড় বড় শহর সংলগ্ম ইউনিয়ন পরিষদ নকশা অনুমোদন করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের নকশা অনুমোদন করা হলে এখন থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত সাপ্তাহিত বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. খোন্দকার শওকত হোসেন এ প্রস্তাব উত্থাপন করে বলেন, উপযুক্ত এবং দক্ষ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইমারতের নকশা অনুমোদনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তা না হলে ভবন ধসের মাধ্যমে প্রাণহানি, সম্পদহানী ছাড়াও বহুবিধ আর্থসামাজিক বিপর্যয়ের সম্মুখিন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ জন্য তিনি যুগোপযোগী আইন ও বিধানাবলি প্রণয়নের নীতিগত সিদ্ধান্তের জন্য মন্ত্রিসভার অনুমোদন প্রার্থনা করেন। বিস্তারিত আলোচনা শেষে এটির নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। তবে বিষয়টির সঙ্গে একাধিক মন্ত্রণালয়ের সম্পর্ক ও আইনি প্রশ্ন জড়িত থাকায় রুলস ও বিজনেস অনুযায়ী এমন প্রস্তাবে সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়ের পূর্বসম্মতি দরকার।
যেসব বিধান রাখার প্রস্তাব: রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ন্যায় সরকার ইতিমধ্যে যেসব কর্তৃপক্ষ গঠন করেছে তাদের অধিক্ষেত্রে শুধু তারাই নকশার অনুমোদন দেবে। এই অধিক্ষেত্রের অধীনে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ নকশা অনুমোদন দিতে পারবে না। নবগঠিত কর্তৃপক্ষকেও অনুরূপ ক্ষমতা দেয়া হবে। কর্তৃপক্ষের অধিক্ষেত্রের বাইরে নকশা অনুমোদনের জন্য জেলা পরিষদকে বিবেচনায় রাখা যেতে পারে। তবে জেলা পরিষদ প্রয়োজনীয় জনবলসহ সক্ষম না হওয়া পর্যন্ত সকল জেলা প্রশাসককে প্রধান ও গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলীকে সদস্য সচিব করে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানদের নিয়ে আন্তঃসংস্থা কমিটি গঠন করা যাদের মাধ্যমে অস্থায়ীকালীন সময়ের জন্য নকশা অনুমোদন করা যায়।
সিটি করপোরেশন তাদের নিজস্ব স্থাপনার ক্ষেত্রে নকশা প্রণয়ন ও অনুমোদন করে থাকে। কোনো গণপ্রয়োজনে নকশা অনুমোদন তারা করে না। এ জন্য প্রতিটি সিটি করপোরেশনে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদমর্যাদার কর্মকর্তা প্রধান প্রকৌশলী হিসাবে নিয়োজিত আছেন।
নতুন একটি আইন করার উদ্যোগকে ইতিবাচক উল্লেখ করেছেন স্থপতি হাবিব ইকবাল। তিনি বলেন, এমনটি হলে হয়তো যোগ্য লোকরাই যোগ্য কাজের অধিকারী হবেন। গতকাল তিনি ইত্তেফাককে বলেন, ২০০৬ সালে বিল্ডিং কোড আইন পাস হয়। এ আইনের ২.১.২ ধারা মতে দেশের সকল সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাকে নকশা অনুমোদনের ক্ষমতা দেয়া আছে। এক্ষেত্রে একটি পারমিট কমিটি গঠনের কথা বলা আছে। স্থপতি-প্রকৌশলীদের নিবন্ধিত করে তাদের সংমিশ্রণে কমিটি হতে হবে। এটি হলে তাদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাকে এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হলে এক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধির সম্পৃক্ততা বাতিল হবে। এটির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। তাছাড়া শুধু কারিগরী দিক বিবেচনায় রেখে ভবন নির্মাণের বিষয়টি চিন্তা করলে যারা অনুমোদনের কর্তৃত্বে থাকবেন-তারা স্বেচ্ছাচারী হতে পারেন। সেক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ বাধাগ্রস্ত হবে।
