‘উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে নাট্যশিক্ষা চালু করার দাবি আমাদের দীর্ঘদিনের’

আপডেট : ০৮ মে ২০১৯, ১৯:৩৬

বাংলাদেশের থিয়েটার অঙ্গনের যে কয়জন তরুণ নাট্য নির্দেশক আছেন, তাঁদের অন্যতম হলেন রেজা আরিফ। তিনি বাংলাদেশের নাট্যচর্চায় এনেছেন গতি ও ভিন্ন ছন্দ। তাঁর নির্দেশনায় মুগ্ধ এদেশের নাট্যশিল্পী, কলাকুশলী; সর্বোপরি দর্শকবৃন্দ। নন্দিত এই নাট্য নির্দেশক পেশাগত কারণে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে শিক্ষকতা করেন। আর শখের নাট্যচর্চা করার জন্য গড়ে তুলেছেন ‘আরশিনগর’ থিয়েটার। আরশিনগরের প্রথম প্রযোজনা শহীদুল জহিরের উপন্যাস অবলম্বণে নাটক ‘সে রাতে পূর্ণিমা ছিল’ ব্যাপক প্রশংসিত হওয়ার পর দ্বিতীয় প্রযোজনাটি হলো অভিজিত্ সেনের উপন্যাস অবলম্বণে নাটক ‘রহু চণ্ডালের হাড়’। নাট্যকলায় সেলিম আল দীনের সাহচর্য পেয়েছেন ছাত্র হিসেবে। সেখান থেকেই তাঁর মধ্যে তৈরি হয়েছে বর্ণনাত্মক নাট্য নির্মাণের বোধ। তাঁর আলোচিত ও নন্দিত নির্দেশনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘কারবালার জারি’, ‘স্বর্ণবোয়াল’, ‘কেরামত মঙ্গল’ ইত্যাদি। তাঁর সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন মাহবুব আলম

নাট্যচর্চার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কতটা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন?

যেকোনো কর্মের জন্যই শিক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। সেই শিক্ষাটা যদি কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে হয়, তবে তা অধিকতর সুশৃঙ্খল হয়। থিয়েটারের ক্ষেত্রেও তা ব্যতিক্রম নয়। সংস্কৃতিমনস্ক জাতি গঠনে এই ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ভূমিকা ব্যাপক। পৃথিবীজুড়েই থিয়েটারসহ শিল্পকলার প্রায় সকল শাখারই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার চল রয়েছে। উন্নত দেশে এই শিক্ষাটা শুরু হয় অনেক ছোটবেলা থেকে। আমাদের দেশে শুধু বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে থিয়েটার বিষয়ে শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ রয়েছে। ইদানীং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কিছু কলেজে থিয়েটার বিষয়ে পাঠদানের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কিন্তু সেটাও উত্তর-উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে।

 

বাংলাদেশের নাট্যচর্চাকে এগিয়ে নিতে থিয়েটারে পেশাদারিত্বের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত বলে মনে করেন?

এই বিষয়ে আমার মতামত খুব স্পষ্ট। কিছু নির্দিষ্ট দর্শক ও মঞ্চশিল্পী, অল্পসংখ্যক সংগঠক, সংগঠন ও দু-একটি মঞ্চের গণ্ডিতে এদেশের থিয়েটার আটকে আছে। সাধারণের কাছে থিয়েটারকে জনপ্রিয় করা ছাড়া এ অবস্থা থেকে মুক্তি অসম্ভব। আর এর জন্য চাই পেশাদারি থিয়েটার।

 

‘ডিরেক্টরকে ডিরেক্টর হতে হয়’ কথাটা বিশ্বাস করেন কি? নির্দেশনার ক্ষেত্রে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতি অনুসরণ করেন কি?

বিশ্বাস করি। এজন্য বিশ্বাস করি যে, আপনি যে কাজটিই করতে যান না কেন, কাজটি আপনাকে ঠিকঠাক জানতে হবে, বুঝতে হবে এবং পারতে হবে। জুতা সেলাই করতে গেলে আপনাকে ঠিকমতো মুচি হতে হবে, চুল কাটতে গেলে আপনাকে ঠিকঠাক নাপিত হতে হবে, ব্যবসা করতে গেলে ব্যবসায়ী, তেমনি নাট্য নির্দেশনা করতে গেলে আপনাকে অবশ্যই নির্দেশক হতে হবে। নির্দেশনার ক্ষেত্রে আমি কোনো নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করি না।

 

নাট্যকলা বিভাগ থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্র বৃদ্ধির জন্য কী করা দরকার বলে মনে করেন?

পেশাদারি থিয়েটার একটা সমাধান হতে পারে। এছাড়া এ বিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা যুক্ত হওয়া প্রয়োজন। শিল্পকলা একাডেমির কিছু বিশেষায়িত পদের জন্য নাট্যকলায় পাস করা ছাত্রছাত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি বলে মনে করি। এছাড়া ‘সাংস্কৃতিক ক্যাডার’ পদ প্রবর্তনের যে দাবি উঠেছে, সেখানে এ ছাত্রছাত্রীদের সুযোগ থাকা প্রয়োজন। উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে নাট্যশিক্ষা চালু করার দাবি আমাদের দীর্ঘদিনের। সেটা হলে ছাত্রছাত্রীদের কর্মসংস্থানের একটি বড় সুযোগ তৈরি হতে পারে।

 

আপনার সর্বশেষ নির্দেশিত নাটক ‘রহু চণ্ডালের হাড়’ সম্পর্কে কিছু বলুন।

আরশিনগরের দ্বিতীয় প্রযোজনা ‘রহু চণ্ডালের হাড়’। অভিজিত্ সেনের এই মহাকাব্যিক উপন্যাসটিকে মঞ্চে আনতে আরশিনগরের এক বছরের অধিক সময় লেগেছে। প্রযোজনাটির ব্যাপ্তিকাল প্রায় দু ঘণ্টা। বাজিকর নামের এক প্রান্তিক যাযাবর জনগোষ্ঠীর সংগ্রামকে উপজীব্য করে প্রযোজনাটি নির্মিত। এরমধ্যে প্রযোজনাটির এগারোটি প্রদর্শনী সম্পন্ন হয়েছে।