সংসারের অভাব-অনটন, মেয়ের বিয়ে এমন হাজারো চাহিদা মেটাতে অনেক চিন্তা করেই মেয়েকে কাজের জন্য ঢাকায় পাঠায় নওশেদ আলী। সংসারের অভাব ঘোচাতে নিপাও কাজের খোঁজ করতে করতে শেষে সাভারের রানা প্লাজার এক গার্মেন্টসে কাজ পেয়ে যায়। কিন্তু নিপা কী জানতো সেই অভাব ঘোচাতে গিয়েই তাকে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে হবে? দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ধাওয়া মাঝিয়ান (রূপসিপাড়া) গ্রামের কন্যা নিপা। সম্প্রতি সাভারে রানা প্লাজা ভবন ধসে নির্মম মৃত্যু হয় তার।
একই ঘটনায় পার্শ্ববর্তী বামনগড়া গ্রামের মৃত আ. হামিদের কন্যা এইচএসসি পাস করার পর ডিগ্রীতে ভর্তি হয়ে লেখা-পড়ার খরচ যোগাতে রানা প্লাজায় গার্মেন্টসে কাজ নেয়। শেষ অবধি তারও ভাগ্যে জুটলনা উচ্চ শিক্ষার সাধ। লাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে হলো তাকেও। গত ২৬ এপ্রিল নিপার লাশ দাফনের পর আফরোজার লাশ অধরচন্দ্র স্কুল থেকে তাদের গ্রামের বাড়ি নিয়ে আসার পর তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।
রিনার হদিস মেলেনি আজও
সাভার ট্রাজেডিতে গ্রামে গ্রামে কান্নার রোল বেড়েই চলছে। জীবিত অথবা মৃত যে কোনভাবেই হোক না কেন পরিবারের প্রিয় মানুষটিকে হন্যে হয়ে খুঁজছে সবাই।এ রকম খুঁজতে গিয়েই এক হতভাগ্য পিতা নিজ মেয়ে রিনার লাশ মনে করে সাভারের উধর চন্দ্র স্কুল থেকে নিপার লাশ বাড়ি নিয়ে আসে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ভেকশি গ্রামের মোজাফ্ফর হোসেন রানা প্লাজায় ভবন ধসের কথা জানতে পেরে ঢাকায় যান। তার মেয়েও ঐ ভবনে গার্মেন্টসে চাকরি করত। উধর চন্দ্র স্কুলে গিয়ে সে তার মেয়ে রিনার লাশ মনে করে পার্শ্ববর্তী গ্রাম ধাওয়া মাঝিয়ান, রুপশি পাড়ার নিপার লাশ নিয়ে বাড়ি আসেন। লাশ বাড়ি নিয়ে আসার পর রিনার মা লাশের মুখ মন্ডল দেখে বলেন এ লাশ তার মেয়ে রিনার নয়। এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে পার্শ্ববর্তী গ্রামের নওশেদ এসে শনাক্ত করেন এটি তার মেয়ে নিপারই মরদেহ। তখন ওই লাশ নিপার পিতার নিকট হস্তান্তর করা হয়।এ সময় রিনার বাড়িতে আরেক হূদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।গতকাল সোমবার পর্যন্ত রিনার কোন সন্ধান পায়নি তার পরিবার।
