মা হ বু ব আ ল ম
সৃজনশীল নাট্য সংগঠন নাট্যতীর্থ গত ১ মে হতে ৫ মে পর্যন্ত পাঁচ দিনব্যাপী ‘শতরজনী নাট্যমেলা’র আয়োজন করেছে। ‘শতকে বিদ্যমান সহস্রের আহ্বান’কে প্রতিপাদ্য করে ‘শতরজনী নাট্যমেলা’য় দেশের দর্শকনন্দিত পাঁচটি নাটকের শততম মঞ্চায়ন করা হয়েছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মঞ্চে। যেখানে আয়োজক নাট্যতীর্থ তাদের দুইটি নাটক ‘দ্বীপ’ ও ‘কমলা সুন্দরী’-এর শততম মঞ্চায়ন করে। এছাড়া প্রাচ্যনাট তাদের ‘সার্কাস সার্কাস’, নান্দিকার (চট্টগ্রাম) ‘জ্ঞান বৃক্ষের ফল’ এবং কক্সবাজার থিয়েটারের ‘টু ইডিয়টস’ নাটকের শততম মঞ্চায়ন হয়।
এই ব্যতিক্রমী শতরজনী নাট্যমেলায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী কে এম খালিদ। নাট্যমেলার উদ্বোধন করেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। বিশেষ অতিথি ছিলেন গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল কামাল বায়েজীদ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নাট্যতীর্থ-এর দলীয় প্রধান তপন হাফিজ। এছাড়া শতরজনী নাট্যমেলায় প্রতিদিন অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আতাউর রহমান, মামুনুর রশীদ, আহমেদ ইকবাল হায়দার ও লাকী ইনাম। নাট্যতীর্থকে যাঁরা মেধা ও শ্রম দিয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বেগবান করেছেন তাঁদেরও এই শতরজনী নাট্যমেলায় সম্মাননা প্রদান করে স্মরণ করছে নাট্যতীর্থ। তাঁরা হলেন শহীদুল আলম সাচ্চু, এনায়েত এ মাওলা জিন্নাহ, কামালউদ্দীন কবির, বৃন্দাবন দাস, কাজী শিলা সুলতানা।
এই ব্যতিক্রমী আয়োজনে আরো ছিল ‘শতরজনী সম্মাননা’। যে সকল নাট্যবন্ধু একটি মঞ্চনাটকের উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হতে বিরতীহীনভাবে শততম মঞ্চায়নে অংশগ্রহণ করেছেন তাঁদের মাঝ হতে দশ জন নাট্যবন্ধুকে আমরা ‘শতরজনী নাট্যমেলা’র সমাপনী দিনে ‘শতরজনী সম্মাননা’ প্রদান করেছে নাট্যতীর্থ। এই নাট্যবন্ধুরা হলেন ‘মেরাজ ফকিরের মা’ নাটকে অভিনয়ের জন্য মারুফ কবীর, ‘কিত্তনখোলা’ নাটকে অভিনয়ের জন্য শতদল বড়ুয়া, ‘বিচ্চু’ নাটকের জন্য নাট্যকেন্দ্রের ইকবাল বাবু, ‘এই দেশে এই বেশে’ নাটকের জন্য ঢাকা পদাতিক থেকে দেবাশীষ ঘোষ, ‘রক্তকরবী’ নাটকে অভিনয়ের জন্য নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় থেকে মো. ফখরুজ্জামান চৌধুরী, ‘ভদ্দনোক’ নাটকের জন্য নাট্যচক্রের তুলিকা চৌধুরী, ‘লাল জমিন’ নাটকের জন্য মোমেনা চৌধুরী, ‘প্রাগৈতিহাসিক’ নাটকের জন্য নাগরিক নাট্যাঙ্গন বাংলাদেশের হূদি হক, মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের ‘শিখণ্ডীকথা’ নাটকের অভিনয়ের জন্য পলি বিশ্বাস এবং লোক নাট্যদলের ‘মুজিব মানে মুক্তি’ নাটকে শুরু থেকে শত রজনী পর্যন্ত অভিনয়ের জন্য খাদিজা মোস্তারী মাহিনকে এই সম্মননা দেওয়া হয়।
