জেল হত্যা মামলায় হাইকোর্টে খালাসপ্রাপ্ত দুই আসামি দফাদার মারফত আলী শাহ ও এল ডি দফাদার আবুল হাসেম মৃধার নিম্ন আদালতের মৃত্যুদণ্ডের রায় আপিল বিভাগ বহাল রাখায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম এবং তাজউদ্দীন আহমদের মেয়ে সিমিন হোসেন রিমি। গতকাল মঙ্গলবার রায় ঘোষণার পর তাত্ক্ষণিক তারা এই প্রতিক্রিয়া জানান।
জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এম মনসুর আলীর পুত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আপিল বিভাগের রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, আদালত বলেছে, হত্যাকাণ্ডের সময় ষড়যন্ত্র হয়েছে। আমরা বিষয়টি আগে থেকেই বলে আসছি। আজ আদালতে এটা প্রমাণিত হলো।
মোহাম্মদ নাসিম আরো বলেন, বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের প্রত্যক্ষ মদদ এবং হস্তক্ষেপের ফলে প্রকৃত দোষীদের শাস্তির বাইরে রাখা হয়েছিল। জেল হত্যাকাণ্ডের আলামতও তারা নষ্ট করেছিল। কিন্তু মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পরে আমরা এই মামলার ন্যায়বিচার পেলাম। এ জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞ। বঙ্গবন্ধু ও জেল হত্যাকাণ্ডের পলাতক খুনিদের দণ্ড কার্যকরের মধ্য দিয়ে জাতি সম্পূর্ণ কলঙ্কমুক্ত হবে।
অন্যদিকে, আরেক জাতীয় নেতা তাজউদ্দীন আহমদের মেয়ে সিমিন হোসেন রিমিও রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আমরা আগে থেকে বলে আসছি, জেল হত্যাকাণ্ডে ষড়যন্ত্র হয়েছে। তবে ২০০৪ সালে বিচারিক আদালতের রায়ে ষড়যন্ত্রের বিষয়টি আসেনি। আজ (গতকাল) আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, ওই হত্যাকাণ্ডে ষড়যন্ত্র প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা আশা করি, রাষ্ট্র নিয়ে ষড়যন্ত্র ও এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর হবে না।
প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের সভাপতিত্বে আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই রায় ঘোষণা করে। রায়ের সময় মোহাম্মদ নাসিম আপিল বিভাগে উপস্থিত ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবর্তমানে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী চার জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী এবং এএইচএম কামরুজ্জামানকে। ওই ঘটনায় মামলা দায়েরের ২৩ বছর পর ১৯৯৮ সালের ১৫ অক্টোবর ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. মতিউর রহমান মামলার রায় দেন। এতে রিসালদার মোসলেম উদ্দিন (পলাতক), দফাদার মারফত আলী শাহ (পলাতক) ও এল ডি দফাদার আবুল হাসেম মৃধাকে (পলাতক) মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল হলে ২০০৮ সালে হাই কোর্ট মোসলেমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে মারফত আলী ও হাসেম মৃধাকে খালাস দেয়। বর্তমান মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর হাই কোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের আবেদন (লিভ টু আপিল) করা হয়। ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি তত্কালীন প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চ হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল আবেদন মঞ্জুর করে। গত ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবসে এই চার নেতা হত্যা মামলার চূড়ান্ত আইনি লড়াইয়ের শুনানি শেষ হয়।
