নতুন এডিপির আকার ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা

আপডেট : ০৮ মে ২০১৯, ২১:১০

এনইসিতে চূড়ান্ত অনুমোদনের সুপারিশ

ইত্তেফাক রিপোর্ট

আসছে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। বরাদ্দের দিক থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেয়েছে পরিবহন খাত। এরপর বিদ্যুত্, ভৌত অবকাঠামো, শিক্ষা ও ধর্ম খাত। গতকাল বুধবার শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের সভাপতিত্বে এক বর্ধিত সভায় এই প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। সভা শেষে মন্ত্রী জানান, বর্ধিত সভায় এডিপির এই আকার গ্রহণ করা হয়েছে। এটা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আগামী জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) সভায় উপস্থাপন করা হবে। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, এডিপির পরিমাণ ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকার মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন (জিওবি) ১ লাখ ৩০ হাজার ৯২১ কোটি টাকা এবং বিদেশি ঋণ ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্য রয়েছে। চলতি অর্থবছরের (২০১৮-১৯) জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এডিপির অগ্রগতির চিত্র তুলে মন্ত্রী বলেন, এপ্রিল পর্যন্ত ৫৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে। টাকায় যার পরিমাণ ৯৬ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা। গত বছর এই সময়ে এডিপির অগ্রগতি ছিল ৫২ দশমিক ৪২ শতাংশ, টাকায় যার পরিমাণ ৮২ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা।

নতুন অর্থবছরের এডিপির বরাদ্দ নিয়ে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মো. নূরুল আমিন জানান, পরিবহন খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ৫২ হাজার ৮০৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, যা মোট এডিপির ২৬ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। বিদ্যুত্ খাতে ২৬ হাজার ১৭ কোটি টাকা (১২.৮৩ শতাংশ), ভৌত পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ ও গৃহায়ন খাতে তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২৪ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা (১২ শতাংশ), শিক্ষা ও ধর্ম খাতে ২১ হাজার ৩৭৯ কোটি টাকা (১০ দশমিক ৫৫ শতাংশ) বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এডিপি বরাদ্দের অগ্রাধিকারের বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সব খাতকেই সমান প্রাধান্য দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে কৌশলে ২০০৯ সাল থেকে অসম্ভব রকমের উন্নয়ন করতে পেরেছেন, সেই কৌশল থেকে সরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা আমাদের হাতে নেই। কারণ সেটা বাস্তব সম্মত হবে না। বরাদ্দের ক্ষেত্রে মানবসম্পদ উন্নয়ন, বিদ্যুত্, অবকাঠামো, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এই চার-পাঁচটা ক্ষেত্রে আমরা অগ্রাধিকার দিয়েছি। কারণ এগুলো আমাদের ভালো ফল দিয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নের দীর্ঘসূত্রিতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এই ধারা ভাঙার জন্য আমরা চেষ্টা করেই যাচ্ছি। আইএমইডিকে আরো শক্তিশালী করা হবে। মাঠে যে প্রকল্প পরিচালকরা আছেন, তাদেরকে অনেক স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। আমার মনে হয়, তারা আগের চেয়ে অনেক বেশি গ্রামে থাকছেন। আশা করি বড় ফল পাবেন। তিনি বলেন, আমারও দেশের মানুষের চাহিদা মাথায় রেখে কাজ করছি। সড়ক, বিদ্যুত্, পানি সম্পদ উন্নয়নে কাজ করছি। আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে কাজ করে যাচ্ছি। সকল বিষয়কে প্রাধান্য দিয়েই নতুন এডিপি নেওয়া হয়েছে।