করতোয়ায় সেতুর অভাবে দুর্ভোগে মানুষ

আপডেট : ০৮ মে ২০১৯, ২১:৪৩

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া

একটি সেতুর অভাবে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার সুজাবাদ বালাপাড়া গ্রামের মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। করতোয়া নদী সুজাবাদ বালাপাড়া গ্রামের মানুষদের পিছিয়ে রেখেছে। গ্রামের বাসিন্দারা সেতু নির্মাণের জন্য একযুগ ধরে জনপ্রতিনিধিদের কাছে দাবি জানালেও সেই দাবি এখনো পূরণ হয়নি। তবে স্থানীয় জনগণ স্বেচ্ছাশ্রমে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে কোনোরকমে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন।

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিড়া ইউনিয়নের সুজাবাদ বালাপাড়া গ্রামে করতোয়া নদীর ওপর সেতু না থাকায় কৃষকদের পণ্য হাটবাজারে নিতে এবং স্কুলকলেজের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে বেশি সমস্যা হচ্ছে।

গত মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, সুজাবাদ বালাপাড়া গ্রামের মানুষ করতোয়া নদীর ওপর স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো সংস্কারের কাজে ব্যস্ত। কেউ বাঁশ কেটে খুঁটি বানাচ্ছেন, নদীর বুকে কেউ খুঁটি বসাচ্ছেন, কেউ খুঁটিতে লোহা দিয়ে পারাপারের জন্য বাঁশের পাটাতন তৈরি করছেন।

গ্রামের কৃষক আফসার আলী (৭৫) বলেন, এই গ্রামের মানুষকে বাজার, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ক্ষেতের সবজি বিক্রির জন্য প্রতিদিন নদীর ওপারে দুবলাগাড়ি হাটে যেতে হয়। গ্রামের শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন মাদলা চাঁচাইতারা সংযুক্ত উচ্চবিদ্যালয়, দুবলাগাড়ি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। নদীর ওপারে ঈদগাহ মাঠ। করতোয়া নদীর ওপর সেতু না থাকায় পারাপারে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাদের। অন্য পথে যাতায়াত করতে গেলে শাজাহানপুর উপজেলা সদর কিংবা মাদলা চাঁচাইতারা হয়ে প্রায় ছয় কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে দুবলাগাড়ি হাটে যেতে হয়। অথচ নদী পারাপার হয়ে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরেই দুবলাগাড়ি হাট।

গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এক সময় শিক্ষার্থীরা কলার ভেলায় নদী পারাপার হতো। কৃষকরা নদী সাঁতরে ক্ষেতের সবজি মাথায় করে ওপারে হাটে নিতেন। এই দুর্ভোগ দূর করার জন্য এলাকাবাসী ছয়-সাত বছর আগে নদীর ওপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করেন। প্রতিবছর এ সাঁকোটি তারা নিজ উদ্যোগে সংস্কারও করেন। ঝুঁকিপূর্ণ এই সাঁকোই এখন ভরসা ছয় হাজার মানুষের। ভাঁড়ে করে বা সাইকেলে সবজির বস্তা তুলে বাঁশের সাঁকোয় নদী পারাপার হয়ে হাটে নেন কৃষকরা। এতে ভোগান্তির শিকার হন তারা। ওপারে তিনটি স্কুলকলেজ। শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হতে হয়। বর্ষায় নদীর স্রোতের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সাঁকো পারাপার হতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে যায়।

মাঝিড়া ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী বলেন, নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করার মতো টাকা ইউপির তহবিলে নেই। সেতু নির্মাণের জন্য উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভাতেও অনুরোধ করা হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সেখানে একটি সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফুয়ারা খাতুন বলেন, সুজাবাদ গ্রামে পাকা সেতু দরকার এমনটাও কেউ তাকে জানাননি। খোঁজ-খবর নিয়ে পাকা সেতুর প্রয়োজন হলে তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।