বেতাগী (বরগুনা) সংবাদদাতা
‘আমাদের সম্পদ, আমাদের দায়িত্ব’ এ স্লোগান সামনে রেখে বেতাগীতে ইলিশ রক্ষায় কমিউনিটিভিত্তিক কাজ করে অণুকরণীয় হয়ে উঠেছে স্বেচ্ছাসেবকরা। ব্যক্তি স্বার্থে নয়, জাতীয় স্বার্থে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ করে জাতীয় সম্পদ ইলিশের উন্নয়নে অবদান রাখছে এসব স্বেচ্ছাসেবকরা।
জানা গেছে, মত্স্য সম্পদে উপকূলীয় এ উপজেলায় এককভাবে ইলিশের অবদান সরচেয়ে বেশি। উপজেলার বিবিচিনি থেকে ফুলঝুড়ি ৪২ কিলোমিটার বিষখালী নদীপথ সামাল দেওয়া মত্স্য অফিসের স্বল্প জনবল দিয়ে সম্ভাবনায়। নদীর শত্রু মত্স্যদস্যু তাই উপজেলা মত্স্য অফিস স্থানীয়ভাবে ৪০ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের মাধ্যমে নদী পাহারা, সচেতনতা তৈরি ও অন্যান্য কাজে নিয়োজিত করে।
উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা মোস্তফা আল-রাজীব জানান, স্বেচ্ছাসেবকদের তত্পরতার ফলে অভিযান চলাকালীন যে কোনো সময় যে কোনো স্থানে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ নদীতে নামলে তাদের বিরুদ্ধে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সহজতর হয়েছে।
নদীতে অভিযান চালিয়ে জেলে, জাল আটক, জেল-জরিমানার আগে-ভাগে আইন প্রয়োগ নয়, এর চেয়ে স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে সচেতনতাবোধ তৈরি করে অবৈধভাবে মাছ ধরা থেকে জেলেদের বিরত রাখতে পারাটা বেশি কার্যকরি এবং এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে স্থানীয় মানুষ তারা নিজেরাই কমিউনিটির সম্পদ রক্ষা করতে পারে। স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্যমতে, স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকার কারণে মা-ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম অত্যন্ত সফল হয়েছে। জাটকা রক্ষা কর্মসূচিতেও এসব স্বেচ্ছাসেবকরা অবদান রাখছে।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সিনিয়র চিফ পোর্ট অফিসার এম হাবীবুর রহমান বলেন, ইলিশ রক্ষায় এই স্বেচ্ছাসেবকরা সারাদেশে অনুকরণীয় হতে পারে। স্বেচ্ছাসেবকরা পারিবারিকভাবে কেউ সচ্ছল নয়। তার পরেও বিনা পারিশ্রমিকে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এ কার্যক্রমে উত্সাহের সঙ্গে এগিয়ে আসে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রাজীব আহসান জানান, ত্যাগ স্বীকার করে মানুষকে সচেতন এবং জাগ্রত করে মা-ইলিশ রক্ষা অভিযান সফল করেছে। ফলে স্থানীয় জেলেদের মাঝে এসেছে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন।
মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকার বলেন, আমি সরেজমিনে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলে কার্যক্রম দেখে এসেছি। ইলিশ সম্পদের উত্পাদনে তাদের এ সফলতা মানুষের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। জেলেরা অনেকেই এখন বুঝতে পারছে— মা ইলিশ ও জাটকা সঠিকভাবে সুরক্ষা করতে পারলে বর্ধিত হারে ইলিশ উত্পাদনের সুফল তারা নিজেরাই ভোগ করতে পারবে। এ জন্য তারা সংঘবদ্ধ হয়ে মা ইলিশ রক্ষা করছে। এটি একটি ইতিবাচক দিক। ইলিশ শুধু এখন সম্পদই নয়। দেশের ভৌগোলিক নিদর্শনও। ইলিশ সম্পদ রক্ষায় স্থানীয়ভাবে গঠিত এ স্বেচ্ছাসেবকরা সারাদেশে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এবং জাতীয় সম্পদ মত্স্য রক্ষায় তারা আগামীতে আরো কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে এমনই অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।
মোকামিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুব আলম সুজন বলেন, ইলিশ রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবকদের অবদানে বেতাগী উপজেলা একটি মডেল উপজেলা হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. নাসির উদ্দিন পিযূষ বলেন, ৪০ জন স্বেচ্ছাসেবক বেতাগী উপজেলার ৪৫ কিলোমিটার বিষখালী নদী মত্স্য দস্যুদের হাত থেকে জেলে ও ইলিশ সম্পদ রক্ষা করে বেতাগী উপজেলাবাসীর হূদয়ে স্থান করে নিয়েছে।
বেতাগী উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি সেলিম আহমেদ বলেন, স্বেচ্ছাসেবক দের ভূমিকা বেতাগী উপজেলায় মা ইলিশ ও ইলিশ সম্পদ রক্ষা পাচ্ছে।
স্বেচ্ছাসেবক বাবুল মজুমদার তার প্রতিক্রয়ায় বলেন, নদী এলাকার মানুষ হিসেবে ইলিশ সম্পদ রক্ষার কাজে সম্পৃক্ত হয়ে আমরা অত্যন্ত খুশি।
মত্স্য সম্প্রসারণ প্রতিনিধি আব্দুর রহমান জানান, তবে এ দায়িত্ব পালনে তাদের রয়েছে নানা সমস্যা। লাইট, রেইন কোর্ট, ছাতা, লাইফ জ্যাকেট, ভাতা প্রাপ্তি, প্রশিক্ষণের অভাব ও উচ্চ পর্যায় ‘স্বেচ্ছাসেবক’ হিসেবে স্বীকৃতির অনিশ্চয়তা।
