শরীয়তপুরে বোরো ধান নিয়ে কৃষক বিপাকে

আপডেট : ০৮ মে ২০১৯, ২১:৪৫

কেজিতে লোকসান চার টাকা g শুরু হয়নি সরকারি ক্রয় কার্যক্রম

অনল কুমার দে, শরীয়তপুর প্রতিনিধি

এ বছর শরীয়তপুর জেলায় ১৫ কোটি ৮৭ লাখ ৫৪ হাজার কেজি (এক লাখ ৫৮ হাজার ৭৫৪ মেট্রিক টন) ধান উত্পাদন হচ্ছে। প্রত্যেক কেজি ধান উত্পাদনে কৃষকের খরচ হয়েছে ১৭ টাকা। আর বর্তমান বাজার মূল্য পাচ্ছে ১৩ টাকা। প্রতি কেজি ধানে কৃষকের লোকসান গুণতে হচ্ছে চার টাকা। এমন পরিস্থিতিতে ধান নিয়ে কৃষক বিপাকে পড়েছে।

নড়িয়া উপজেলার বিঝারি ইউনিয়নের কণ্ডা গ্রামের কৃষক বকসু মাদবর ১০ বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছেন। তার প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে হালচাষ বাবদ ১৫০০ টাকা, চারা ৫০০ টাকা, রোপণ করার শ্রমিক ১৫০০ টাকা, সার ৩২০০ টাকা, জমি নিড়ানিতে শ্রমিক খরচ ২৪০০ টাকা, সেচ খরচ হয়েছে ২৫০০ টাকা ও ধান কাটতে খরচ হয়েছে ২০০০ টাকা। তার মোট খরচ হয়েছে ১৩,৬০০ টাকা। তিনি বিঘা প্রতি ধান পেয়েছেন ৮০০ কেজি। সে হিসেবে প্রতি কেজিতে বকসু মাদবরের খরচ হয়েছে ১৭ টাকা।

শরীয়তপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খোন্দকার নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের জন্য কৃষি বিভাগে তালিকা চাওয়া হয়েছে। তারা তালিকা ও উত্পাদনের তথ্য দিলে খাদ্য বিভাগ ধান ক্রয়ের কার্যক্রম শুরু করবে। কৃষি বিভাগ থেকে তালিকা না পাওয়ায় এখনো ধান-চাল ক্রয় কার্যক্রম শুরু করা যায়নি।’

তাড়াশে ধানের ন্যায্য দাম না পেয়ে হতাশ কৃষক

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, শষ্য ভাণ্ডার খ্যাত চলনবিল অধ্যুষিত তাড়াশে এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ধানের ন্যায্য দাম না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। এ অবস্থায় প্রতি মণ ধানের দাম ন্যূনতম ২০০ টাকা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

কৃষক আমীর আলী, রওসেন আলী, লাল চাঁন মিঞা, দুদু মিঞা আব্দুস ছাত্তার, অমরেশ উরাঁও, সূধীর উরাঁও প্রমুখ জানান, গত বছর বোরো মৌসুমে প্রতি মণ ধানের দাম ছিল ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা। আর এ বছর বিক্রি করতে হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায়। দাম একই রকম থাকলে নিশ্চিত তাদের বোরো আবাদে লোকসান হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম বলেন, উত্পাদন খরচের তুলনায় ধানের দাম বেশ কম। হঠাত্ করে দাম পড়ে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা।

ঈশ্বরগঞ্জে ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না কৃষক

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক বোরো ধানের আবাদ হয়েছে এবার ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে। চাষাবাদের সকল উপকরণ ও আবহাওয়া চাষাবাদের অনুকূলে থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটলেও ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় হতাশায় কৃষক। অন্যান্য ধান চাষের চেয়ে বোরো ধানের অধিক ফলন হলেও উত্পাদন ব্যয় অন্যান্য ধানের চেয়ে অনেক বেশি। ধানের বীজতলা তৈরি থেকে মাড়াই পর্যন্ত প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগের শঙ্কায় থাকতে হয় কৃষকদের ।

উপজেলা কৃষি অফিসার সাধন কুমার গুহ মজুমদার জানান, এবছর ফলন অনেক ভালো হয়েছে। বাকি সময়ে আবহাওয়া ভালো থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করবে।

সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধানসহ

বিভিন্ন ফসল কেনার দাবি

গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, গাইবান্ধায় সকল ইউনিয়নে সরকারি ক্রয় কেন্দ্র চালু করে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধানসহ বিভিন্ন ফসল ক্রয়ের দাবিতে বুধবার শহরের ডিবি রোডে এক মানববন্ধন ও শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিক্ষুদ্ধ কৃষকরা বস্তাভর্তি ধানের বস্তায় সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় ও ধানের মূল্য বৃদ্ধির দাবিতে নানা ধরণের স্লোগান লিখে ঝুলে দেন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি গাইবান্ধা সদর উপজেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে জেলা শত শত কৃষক অংশ নেন। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সিপিবি সদর উপজেলা কমিটির সভাপতি ছাদেকুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, সিপিবি’র জেলা কমিটির সভাপতি মিহির ঘোষ, জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি ওয়াজিউর রহমান রাফেল, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল, জেলা সিপিবি নেতা সুপ্রিয়া দেব প্রমুখ।