বিআরটিএর জাল কাগজপত্র তৈরিতে একাধিক চক্র

আপডেট : ০৮ মে ২০১৯, ২১:৫৯

বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার, গ্রেফতার ৫

ইত্তেফাক রিপোর্ট

জাল রুট পারমিট ও ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিআরটিএ-এর যাবতীয় কাগজপত্র তৈরি চক্রের পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এ চক্রটি রাস্তায় গাড়ি চলাচলের জন্য শুধু রুট পারমিট বা ড্রাইভিং লাইসেন্সই দিত না, তারা গাড়ির ফিটনেস সনদ, রেজিস্ট্রেশন, ইন্স্যুরেন্স সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ডিজিটাল নম্বর প্লেটসহ সকল প্রকার কাগজপত্র দিত, যার প্রত্যেকটিই জাল। গত মঙ্গলবার মধ্য রাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কাফরুলে অভিযান চালিয়ে এই চক্রটিকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- আবদুল খালেক, আনোয়ারুল হক শিমুল, আবদুল জলিল, আবদুর রহিম ও মোতালেব হোসেন। তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মোটরযানের জাল রুট পারমিট ফরম, রুট পারমিট, রেজিস্ট্রেশন সনদপত্র, ফিটনেস সনদপত্র, ট্যাক্স টোকেন ফরম, বীমা ফরম, বীমা স্ট্যাম্প স্টিকার, ডকুমেন্ট প্রাপ্তি রশিদ, রেজিস্ট্রেশন আবেদন ফরম, বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও অফিসের ১৫০টি সিল এবং গাড়ির ডিজিটাল নম্বর প্লেট জব্দ করেছে বলে দাবি করেছে গোয়েন্দারা। এছাড়াও এসব কাগজপত্র জাল করতে ব্যবহূত একটি ১৭ ইঞ্চি কালার মনিটর, একটি সিপিইউ, ১৬০ জিবি হার্ডডিস্ক এবং একটি প্রিন্টার জব্দ করা হয়।

গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, গত ১২ বছর যাবত্ চক্রটি বিভিন্ন অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে গাড়ি ও গাড়িচালকের যাবতীয় কাগজপত্র প্রদান করে আসছিল এই জালিয়াত চক্রটি। এদের মধ্যে আনোয়ারুল হক শিমুল এবং আব্দুল জলিল আগেও গ্রেফতার হয়েছিল। জামিনে বের হয়ে আবারো একই কাজ করছিল তারা। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেন বলেন, এই প্রতারিত কাগজ দিয়ে শুধু রাষ্ট্রকে ফাঁকি দেওয়াই হয় না, অদক্ষ ও ফিটনেসহীন গাড়িগুলোকেও রাস্তায় নিয়ে আসা হয়।

গোয়েন্দারা জানান, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এ চক্রটি গ্রাহক সংগ্রহ করে বিভিন্ন এডিটিং সফটওয়্যার এর সাহায্যে নকল এ সকল কাগজপত্র বানিয়ে নিজেরাই সিল স্বাক্ষর করে পুনরায় গ্রাহকদের সরবরাহ করত। গ্রাহকদের বেশিরভাগই যারা অদক্ষ ড্রাইভার হিসেবে অথবা চোরাই বা ত্রুটিযুক্ত গাড়ির জন্য স্বল্প খরচে এই চক্রের মাধ্যমে জাল কাগজপত্র সংগ্রহ করত।