পঞ্চগড় জেলা কারাগারে অগ্নিদগ্ধ হয়ে এক আইনজীবীর মৃত্যুর ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। পঞ্চগড়ের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে ম্যাজিস্ট্রেট টিম দিয়ে এই তদন্ত করতে বলা হয়েছে। তদন্ত কাজে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও জেল সুপারকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আদেশপ্রাপ্তির এক মাসের মধ্যে তদন্ত করে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের জন্য সংশ্লিষ্ট চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে বলা হয়েছে। এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বুধবার এই আদেশ দেন। আদালত বলে, এই ঘটনা হত্যা বা আত্মহত্যা যাই হোক না কেন এর সঠিক তদন্ত দরকার। সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা হিসেবে বিবেচিত হওয়ার কথা কারাগার। সেখানে কীভাবে পেট্রোল বা কেরোসিন যেতে পারে এবং কীভাবে তা দিয়ে একজন হাজতি গায়ে আগুন দিল সেটা বেরিয়ে আসা দরকার।
কোহিনূর কেমিক্যালসের সাবেক আইন কর্মকর্তা পলাশের বিরুদ্ধে কোম্পানির ৩১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১৬ সালে মামলা করা হয়। ওই মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে গত ২৫ মার্চ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি করেন তিনি। ওই কর্মসূচি থেকে প্রধানমন্ত্রী, প্রশাসন ও পুলিশকে নিয়ে কূটক্তি করেন। এ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে করা মানহানির মামলায় গত ২৬ মার্চ কারাগারে পাঠানো হয় পলাশকে। এক মাস পর ২৬ এপ্রিল পঞ্চগড় কারা হাসপাতালের বাথরুমে অগ্নিদগ্ধ হন ওই আইনজীবী। পরে তাকে উন্নত চিকিত্সার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ৩০ এপ্রিল দুপুরে চিকিত্সাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।
এ ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট তদন্তের নির্দেশ দিয়ে কারাগারে আটক বন্দিকে যথাযথ নিরাপত্তা দিতে কারা কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজি, আইজি প্রিজন্সসহ বিবাদীদেরকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
হত্যা মামলা করবে পরিবার
পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, পলাশ কুমারের মা মীরা রানী বলেন, ‘সুপরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। তাঁকে হত্যার ঘটনায় কোহিনুর কেমিক্যাল কোম্পানী জড়িত রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা ষড়যন্ত্র করে আসছে। কোহিনুর কেমিক্যাল কোম্পানীর হয়রানি আর নির্যাতনে আমার স্বামী মারা গেছেন। গোটা পরিবার আমরা হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার।’
এদিকে পলাশ কুমার রায়ের মৃত্যুতে জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। তিনি তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে অপারগতা জানালেও শুধু বলেন, ঘটনাস্থলে প্রাথমিকভাবে আমরা দাহ্য কোনো পদার্থের অস্তিত্ব পাইনি।
অন্যদিকে রংপুর উপ কারা মহাপরিদর্শকের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির কাজ শেষ হয়েছে। রাজশাহী বিভাগীয় উপ কারা মহাপরিদর্শকের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি এখন তদন্ত কাজ চলছে।
