লোকসভা নির্বাচনে পাকিস্তান ইস্যু

আপডেট : ০৮ মে ২০১৯, ২৩:০৪

ভারত-পাকিস্তান চির বৈরী দুই প্রতিবেশী দেশ। এই বৈরিতা এখন বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে ভারতের লোকসভা নির্বাচনে। ক্ষমতাসীন কট্টর হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার বিরোধী দল কংগ্রেসকে পাকিস্তানপন্থি হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছে। বিজেপির পক্ষ থেকে বেশ কয়েকবার বলা হয়েছে, কংগ্রেসকে ভোট দিলে তা পাকিস্তানকে দেওয়া হবে। পাকিস্তান ইস্যুতে যারাই মোদি সরকারের সমালোচনা করছে, তাদেরকেই পাকিস্তানের প্রতি সহানুভূতিশীল প্রমাণ করার চেষ্টা করছে বিজেপি। 

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলা হয়। যাতে প্রাণ হারায় ভারতের আধা সামরিক বাহিনীর প্রায় ৪৫ জন সদস্য। এজন্য পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনকে দায়ী করে ভারত। সন্ত্রাসী হামলার প্রায় দুই সপ্তাহের মাথায় পাকিস্তানের বালাকোটে হামলা চালায় ভারতের বিমানবাহিনী। হামলায় প্রায় ৩০০ জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেদিনই দাবি করেন যে, ভারত নিরাপদ ও সুরক্ষিত হাতে রয়েছে। যদিও পরদিন ভারতের একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয় এবং পাকিস্তানের হাতে ভারতীয় বিমান বাহিনীর একজন পাইলট আটক হন। পরে পাকিস্তান ওই পাইলটকে ফিরিয়ে দিলে দুই দেশের মধ্যে তৈরি হওয়া যুদ্ধ উত্তেজনার নিরসন হয়।

এই বিমান হামলার পর পাকিস্তান ইস্যুতে কঠোর অবস্থানের কথা প্রচার করতে থাকেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ভারতের বিমান হামলা হয়েছে ফাঁকা জায়গায়। হামলায় কোনো সন্ত্রাসী মারা যায়নি। বিরোধী দল কংগ্রেস, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এই হামলার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন। এই ইস্যুতে বিজেপি চাপে পড়ে কংগ্রেস ও অন্য বিরোধীদের পাকিস্তানপন্থি হিসেবে প্রচার করতে শুরু করে। এমনকি নরেন্দ্র মোদি বলেন, পাকিস্তানে হামলার পর কংগ্রেস ও তৃণমূলের ঘুম হারাম হয়েছে। কিন্তু ভোটগ্রহণ শুরুর মাত্র একদিন আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদিকে সমর্থন দেন। এরপরই বিরোধীরা মোদির সমালোচনা শুরু করে। পাকিস্তানবিরোধী মোদির অবস্থান কিছুটা হলেও এ কারণে ধাক্কা খেয়েছে।