পৃথিবীর সবচেয়ে মধুরতম শব্দ হলো মা। মাকে নিয়ে এ পর্যন্ত কত শত গান-কবিতা, গল্প-উপন্যাস লেখা হয়েছে তার কোনো হিসাব নেই। মাকে নিয়ে বানানো সিনেমার সংখ্যাও কম নয়। আসছে রোববার বিশ্ব মা দিবসে মায়ের সঙ্গে দেখতে পারো এমন দুটো সিনেমার কথা বলছি আজ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কথা শুনেছ নিশ্চয়ই। কী বীভত্স কী নির্মম ছিল যুদ্ধের দিনগুলো। মানুষের জীবন হয়ে উঠেছিল দুর্বিষহ। কষ্টের সঙ্গে তুমুল লড়াই করে বাঁচতে হয়েছে প্রতিটি মানুষকে। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পর্যন্ত থেমে গিয়েছিল তখন। কিন্তু মায়ের ভালোবাসা থামেনি একমুহূর্তের জন্যও। সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসা কমেনি এক বিন্দুও। যুদ্ধের বীভত্স দিনগুলোতে বিপন্ন সন্তানকে বাঁচাতে কতটা সংগ্রাম করতে হয়েছে প্রতিটি মাকে—সে গল্প চমত্কারভাবে ফুটে উঠেছে ইতালির নির্মাতা ভিত্তিরিও ডি সিকার ‘টু উইমেন’ সিনেমায়। নািসবাহিনীর আক্রমণে দিশেহারা হয়ে অন্যান্য রোমবাসীদের সঙ্গে লাতসিওতে পালিয়ে আসে সেসিরা। সঙ্গে ছিল ১২ বছর বয়সী কন্যা রোসেত্তা। মা-মেয়ের বেঁচে থাকার লড়াই নিয়েই এগিয়ে চলেছে ‘টু উইমেন’-এর গল্প।
টু উইমেন মূলত জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক আলবার্তো মোরাভিয়ার শ্রেষ্ঠ উপন্যাসের একটি। ভিত্তিরিও ডি সিকার পরিচালনায় সিনেমাটি এতটাই সফল হয়েছে যে, মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করা কিংবদন্তি অভিনেত্রী সোফিয়া লরেন জিতে নেন অস্কারসহ বাইশ বাইশটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার। ১৯৬০ সালে নির্মাণ হওয়া সিনেমাটি এখনো যুদ্ধদিনে সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসার অনন্য উদাহরণ হয়ে রয়েছে।
শুধু কি যুদ্ধদিনেই সন্তানের জন্য মাকে সংগ্রাম করতে হয়? না। মায়েরা সন্তানের জন্য যুদ্ধ করেন প্রতিদিন। প্রতি মুহূর্তে। পুরো পৃথিবী যখন শান্ত-নীরব-নিস্তব্ধ, মায়েরা তখনো তুমুল লড়াই করে যান সন্তানের জন্য। কখনো কখনো এ যুদ্ধ হয়ে ওঠে মায়ের জন্য অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। এমনই এক গল্প নিয়ে ‘উত্তর ফাল্গুনী’ সিনেমাটি বানিয়েছেন ভারতের বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার অসিত রায়। স্বামী আর টানাপোড়েনের সংসারে মেয়ের ভবিষ্যত্ অন্ধকার দেখতে পান মা। তাই মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে আসেন শহরে। শহর আরো কঠিন হয়ে ওঠে মা-মেয়ের কাছে। তবে যত কঠিনই হোক না কেন, সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে প্রস্তুত মা।
উত্তর ফাল্গুনীতে মা-মেয়ের দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করেন মহানায়িকা সুচিত্রা সেন। সিনেমাটি এতটাই সফল হয় যে, বাংলা ভাষার পর হিন্দি ভাষায়ও সিনেমাটি নির্মাণ করেন পরিচালক অসিত রায়। এখানেও দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করেন সুচিত্র সেন। ১৯৬৩ সালে নির্মিত উত্তর ফাল্গুনি চলচ্চিত্রটি জিতে নেয় ভারতীয় সেরা বাংলা সিনেমার পুরস্কার। আজও সন্তানের জন্য মায়ের সংগ্রামের অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে সিনেমাটি।
